মামুনুলের কারণে আওড়া-বেড়ি জুটলো হেফাজত কর্মী রেজাউলের!

0

সময় এখন ডেস্ক:

নিজে কয়েদি হওয়া সত্ত্বেও জেলের প্রহরী পরিচয় দিয়ে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে ফোন করার দায়ে আওড়া-বেড়ি পরানো হয়েছে হেফাজত কর্মী রেজাউল নামে এক কয়েদিকে। জেলের ভেতরে এমন অনিয়ম রোধে ব্যর্থ হওয়ায় সেখানে দায়িত্ব পালনকারী প্রহরী সজল শেখকেও আনা হয়েছে সাজার আওতায়।

সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জের ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে। হেফাজত কর্মী রেজাউল একটি মামলায় আটক হয়ে জেলে রয়েছেন। হেফাজত নেতা মামুনুল হককে গ্রেপ্তারের পর তিনি মামুনুল হকের ঘনিষ্ঠ মাওলানা শরীফের সঙ্গে জেল থেকে সরকারি মোবাইল ফোনে কথা বলেন। যার রেকর্ড চলে যায় গণমাধ্যমের কাছে। বিষয়টি গত ২৫ এপ্রিল প্রকাশিত হওয়ার পর জেল কর্তৃপক্ষ ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

কমিটি তদন্তে নেমে জানতে পারে রেজাউল নামে কোনো প্রহরী নেই। জানা যায়, কয়েদি রেজাউল নিজেকে প্রহরী পরিচয় দিয়ে কথা বলেন। তিনি ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে থাকা হেফাজতে ইসলামের নেতাদের সুবিধা দেওয়ার কথা জানান মাওলানা মামুনুল হকের ঘনিষ্ঠ মাওলানা শরীফকে।

জিজ্ঞাসাবাদে রেজাউল জানিয়েছেন, সরকারি নম্বর থেকে তার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলার কথা বলে মামুনুল হকের নির্দেশে তিনি মাওলানা শরীফকে ফোন করেন। তিনি প্রহরী পরিচয়ে কথা বলে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে সুবিধা চান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনার কারণে দেশের প্রতিটি জেলে কয়েদিদের সঙ্গে তাদের স্বজনদের দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে সরকারের তরফ থেকে মোবাইল ফোনে কথা বলার সুযোগ চালু করা হয়েছে। আর ওই সুযোগ নিতেই মামুনুল হক রেজাউলকে এই নির্দেশ দেন।

এই অপরাধে রেজাউলকে ডাণ্ডা-বেড়ি ও আওড়া-বেড়ির শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দায়িত্বে থাকা প্রহরী সজল শেখকে বদলি করা হয়েছে। তার বিরু’দ্ধেও সাজামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রকাশিত ফোনালাপে শোনা যায়, প্রহরী রেজাউল ও মনিরুজ্জামান মিলে জেলে থাকা হেফাজত নেতাদের বিশেষ সুবিধা দিচ্ছেন। একই সঙ্গে নতুন যারা জেলে যাবেন তাদেরও বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা জানান মাওলানা শরীফকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলের জেলার জানান, এ অপরাধ করার কারণে হেফাজত কর্মী রেজাউলকে ১০ দিনের আওড়া-বেড়ির সাজা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১ মাস তাকে তার স্বজনদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে দেওয়া হবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আওড়া-বেড়ি হলো এমন এক ধরনের বেড়ি যা ডাণ্ডা-বেড়ির ওপরে দেওয়া হয়। এতে কয়েদিকে বেশ কষ্টেই থাকতে হয় জেলে। এ ধরনের ঘটনা যাতে আর কোনো কয়েদি না ঘটায় সে জন্য সতর্ক করা হয় এসব সাজা দিয়ে।

শেয়ার করুন !
  • 121
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!