গড়গড় করে নাশকতায় জড়িতদের নাম বলছেন জঙ্গি হারুন ইজহার

0

সময় এখন ডেস্ক:

হেফাজতে ইসলামের বাতিলকৃত কমিটির শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ও জঙ্গি প্রশিক্ষক মুফতি হারুন ইজহার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক স্টেটমেন্টে সহিং’সতায় জড়িতদের নাম প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আঞ্জুমান আরার আদালতে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক দলটির এই নেতা হাটহাজারীতে না’শকতার মামলায় স্টেটমেন্ট দেন।

দু’দিনের পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার আদালতে দেওয়া স্টেটমেন্টে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিক্ষোভকেন্দ্রীক তা’ণ্ডবের ঘটনায় তার জড়িত থাকার দায়ও স্বীকার করেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আবদুল্লাহ আল মাসুম বলেন, হাটহাজারীর না’শকতার ঘটনায় নিজের দোষ স্বীকার পূর্বক আদালতে স্টেটমেন্ট দিয়েছেন হারুন ইজহার। তাতে গড়গড় করে না’শকতায় জড়িত বেশ কিছু নামও প্রকাশ করেছেন।

তবে এসব নাম জানতে চাইলে তা তদন্তের স্বার্থে প্রকাশে অস্বীকৃতি জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

এরআগে মঙ্গলবার হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়েজি আদালতে স্টেটমেন্টে না’শকতার নির্দেশদাতাদের নাম বলেছে বলে জানায় পুলিশ।

জঙ্গি প্রশিক্ষক হারুন ইজহারকে মঙ্গলবার হাটহাজারী থানার না’শকতার মামলায় দু’দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এর আগে ৩ মে হাটহাজারীর অন্য দুটি না’শকতা মামলাসহ মোট ৩টি মামলায় হারুন ইজহারকে মোট ৯ দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল পুলিশ।

২৮ এপ্রিল গভীর রাতে নগরীর লালখান বাজারের জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা থেকে হারুনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এই মাদ্রসার সহকারী পরিচালক তিনি। তার বাবাও এই মাদ্রাসার পরিচালক। ২০১৩ সালের এই মাদ্রাসায় বো’মা বানানোর সময় উড়ে যায় দেয়াল।

তার বাবা ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি ও হেফাজতের এক সময়ের নায়েবে আমির। ইজহারুল ইসলাম উপমমহাদেশের সব বড় বড় জঙ্গি সংগঠনগুলোর প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন অতীতে।

এমনকি গোয়েন্দা সংস্থা এটাও জানায়, এমনভাবে বো’মা তৈরী করতেন, সেখানে কফি এবং মশলার গুড়ো ব্যবহার করতেন বলে পুলিশের কুকুরও বিভ্রান্ত হয়ে যেত। ফলে বিমানবন্দরেও ধরা পড়ত না। সেই প্রযুক্তি এখন ভারত, পাকিস্থান, আফগানিস্তানসহ কয়েকটি দেশের জঙ্গি সংগঠনগুলো ফলো করে।

ইজহারুল এবং তার পুত্রের সাথে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাদের মাদ্রাসায় প্রায়ই পাকিস্তান, ভারত, আফগানিস্তানসহ অনেক দেশের জঙ্গিরা প্রশিক্ষণ নিতে আসে বলে জানায় গোয়েন্দা সংস্থা।

হারুন ইজহারকে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর ঘিরে হাটহাজারীতে এবং সারাদেশের বিভিন্ন স্থানের না’শকতায় প্রত্যক্ষভাবে মদদ দেন হেফাজতের এই নেতা।

২৯ এপ্রিল তাকে আদালতের নির্দেশে জেলে পাঠানো হয়। তার নামে নানা অভিযোগে আগে ১৮টি মামলা ছিল। সবমিলিয়ে এখন মামলা ২২টি।

শেয়ার করুন !
  • 522
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!