শেখ হাসিনার রাজনীতি: ৪০ বছরে ৪০ চ্যালেঞ্জের সফল মোকাবেলা

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

১৯৮১ সালের ১৭ মে থেকে ২০২১ সালের ১৭ মে। ৪০ বছর। এই ৪০ বছর এক ঝঞ্ঝা বিক্ষুদ্ধ প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাড়ি দিয়েছেন শেখ হাসিনা। ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি যে প্রতিকূল পরিস্থিতিগুলো জয় করেছেন তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৪০টি এখানে উল্লেখ করা হলো:

১. দলের ‘চাচা’রা শেখ হাসিনাকে তাদের অনুগত রাখতে চেয়েছিল: দেশে ফিরেই এ নিয়ে দলের ভেতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়েই আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরের প্রতিকূলতাকে জয় করতে হয়েছে শেখ হাসিনাকে।

২. অর্থনৈতিক নীতি পরিবর্তন: শেখ হাসিনা যখন আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নেন তখন আওয়ামী লীগ সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি ও কৌশলে বিশ্বাসী ছিলো। গঠনতন্ত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত্বকরনের কথা উল্লেখ ছিলো। কিন্তু পরিবর্তিত বিশ্বের সাথে খাপ খাওয়াতে এর পরিবর্তন প্রয়োজন ছিলো। শেখ হাসিনা বুঝতে পারেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিকে সংযুক্ত না করলে দেশে-বিদেশে আওয়ামী লীগের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হবে না। এ কারণে দলের গঠনতন্ত্র পরিবর্তন ছিলো শেখ হাসিনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

৩. বাকশাল এবং আব্দুর রাজ্জাকের বাধা: শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানান আব্দুর রাজ্জাক। আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে তিনি বাকশাল গঠন করেন। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সংগঠনের শক্তিকে অটুট রাখা ছিলো শেখ হাসিনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

৪. ৮৬ এর নির্বাচন বিত’র্ক: ৮৬ এর নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ছিলো নিঃসন্দেহে এক প্রতিকূল পরিস্থিতি। ঐ নির্বাচনে কেন আওয়ামী লীগ গিয়েছিল, সে প্রশ্নের জবাব বহুদিন দিতে হয়েছে। রাজনীতি দিয়েই এই প্রতিকূল পরিস্থিতিকে জয় করেছেন শেখ হাসিনা।

৫. দুই নেত্রীর আদর্শহীন ঐক্য: এরশাদবিরোধী আন্দোলনের এক পর্যায়ে দুই নেত্রীর বৈঠকের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে চাপ আসে। জাতির পিতার খু’নিদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া স্বৈ’রাচারী শাসকের দলীয় নেত্রীর সঙ্গে বৈঠক, নিঃসন্দেহে শেখ হাসিনার জন্য এক প্রতিকূল পরিস্থিতি ছিলো। কিন্তু রাজনৈতিক দক্ষতা দিয়েই সেটা সামাল দেন তিনি।

৬. ৯১ এর নির্বাচন বিপর্যয়: এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় ছিলো অপ্রত্যাশিত এবং আকস্মিক। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনে এটি ছিলো অন্যতম প্রতিকূল পরিস্থিতি। কিন্তু নির্বাচনে পরাজয়ের পরও আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়ায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।

৭. ড. কামালের প্রস্থান: ৯১ এর নির্বাচনের ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে শেখ হাসিনাকে দায়ী করেন ড. কামাল। সেই সাথে শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে মদদের অভিযোগ ওঠে তার নামে। বৈঠকে শেখ হাসিনার উপস্থিতিতেই ড. কামাল অপর নেতাকর্মীদের নোং’রা ভাষায় আক্র’মণ করেন। সেখানেই তার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়ে যায়। এরপর তিনি দল ত্যাগ করে গণফোরাম গঠন করেন। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হলেও শেখ হাসিনা তাঁর প্রজ্ঞা দিয়ে সেই পরিস্থিতি সামলান।

৮. তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন: মত ও পথের পার্থক্য সত্বেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলেন শেখ হাসিনা। এটি আওয়ামী লীগের আদর্শচ্যুতি কি না সে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু প্রতিকূল পরিস্থিতিকে ভালোই সামাল দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।

৯. ৯৬ এর ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন বর্জন: শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনে ৯৬ এর ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন বর্জন ছিলো অন্যতম চ্যালেঞ্জিং সিদ্ধান্ত। বিএনপি যদি কোন মতে ঐ নির্বাচন করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারতো তাহলে আওয়ামী লীগ অস্তিত্বের সংকটে পরতো। কিন্তু কঠিন, জটিল রাজনৈতিক সমীকরণে শেখ হাসিনা সঠিক সিদ্ধান্ত নেন।

১০. ৯৬ এর সেনা বিদ্রোহ: আওয়ামী লীগের আন্দোলনের ফলে গঠিত হয় নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার। বিচারপতি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার সেনা বিদ্রোহের চ্যালেঞ্জে পড়ে। জেনারেল নাসিম রাষ্ট্রপতির বদলীর আদেশ চ্যালেঞ্জ করেন। এ নিয়ে সেনা বি’শৃঙ্খলা এবং অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। আওয়ামী লীগের জন্য এটি ছিলো এক প্রতিকূল পরিস্থিতি। শেখ হাসিনা এই বিত’র্ক থেকে কৌশলে আওয়ামী লীগকে দূরে রাখেন।

১১. ৯৬ এর নির্বাচনে জয়ের জন্য ছাড়: নির্বাচনে জয়ের জন্য ৯৬ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অনেক ছাড় দিতে হয়। সাহারা খাতুন, মোজাফফর হোসেন পল্টুর মতো মাঠের রাজনীতিবীদদের বসিয়ে সাবের হোসেন চৌধুরীর মতো নতুনদের মনোনয়ন দিতে হয়। এ নিয়েও দলে এক প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা তা ভালোই সামাল দেন।

১২. ৯৬ এর মন্ত্রিসভা: দীর্ঘ ২১ বছর পর ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসে। এই সময় মন্ত্রিসভা গঠন ছিলো চ্যালেঞ্জিং। নানা রকম চাপ ছিলো। কিন্তু এসব প্রতিকূলতা সত্বেও এই মন্ত্রিসভা ছিলো ইতিবাচক।

১৩. পাহাড়ে শান্তি: জিয়াউর রহমানের শাসনামল থেকেই পাহাড়ে গৃহযুদ্ধ চলছিল। সন্তু লারমার শান্তিবাহিনীর সাথে সেনাবাহিনীর সংঘা’ত ছিলো নিত্যকার ব্যাপার। এরকম পরিস্থিতির মধ্যে, পার্বত্য শান্তি চুক্তি ছিলো শেখ হাসিনার জন্য এক চ্যালেঞ্জিং বিষয়। এই চ্যালেঞ্জ শেখ হাসিনা সফলভাবে মোকাবেলা করেন। তাঁর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৪. গঙ্গার পানি চুক্তি: ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের জন্য এটি ছিলো চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়। কিন্তু শেখ হাসিনা সফলভাবে গঙ্গার পানি চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

১৫. নির্বাচন কমিশন ষড়যন্ত্র: গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেবার আকাঙ্খা থেকেই শেখ হাসিনা একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এম. এ সাইদের কমিশন ছিলো দুরভিসন্ধিমূলক। এ নিয়ে এক কঠিন প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন শেখ হাসিনা।

১৬. বিচারপতি শাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি করা: বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদকে রাষ্ট্রপতি করেছিলেন শেখ হাসিনা। সিদ্ধান্ত ছিলো কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং। এজন্য শেখ হাসিনাকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছিল। কিন্তু ‘রাষ্ট্রপতি’ প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা, শেখ হাসিনাকেই সম্মানিত করেছে।

১৭. লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকার: শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনে কঠিন প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছিল বিচারপতি লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এখান থেকে শেখ হাসিনা অনেক কিছুই অর্জন করেন। যা তাঁর ভবিষ্যত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

১৮. প্রচলিত আইনে বঙ্গবন্ধু হ’ত্যার বিচারের চ্যালেঞ্জ: শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হ’ত্যার বিচারে দীর্ঘ পথই বেছে নিয়েছিলেন। প্রচলিত আইনে বিচার করতে গিয়ে বিচার নিয়েই এক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বিজয়ী হন শেখ হাসিনাই।

১৯. ২০০১ এর নির্বাচন বিপর্যয়: ২০০১ এর নির্বাচন বিপর্যয় শেখ হাসিনাকে এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করায়। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং আদর্শেই তিনি এই পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটান।

২০. আওয়ামী লীগের ওপর দমন-পী’ড়ন: ২০০১ এর নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের উপর নেমে আসে অ-মানবিক নির্যা’তনের স্টিম রোলার। হাজার হাজার নেতা-কর্মী গুম হয়ে যায়। মামলা হয় লাখ লাখ। কঠিন পরিস্থিতিতে সাহসের সঙ্গে সামনে দাঁড়ান শেখ হাসিনা।

২১. সিনিয়র নেতাদের নিষ্ক্রিয়তা এবং সমালোচনা: ২০০১ এর নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিলেন। এমনকি বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অবসরের ঘোষণা পর্যন্ত দিয়েছিলেন। এই পরিস্থিতিতেও শেখ হাসিনা দমে যাননি। তরুণ নেতৃত্ব দিয়ে দল পুনর্গঠন করেন।

২২. ২১ আগস্টের গ্রেনেড হাম’লা: ১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগের হাল ধরার পর বিভিন্ন সময়ে শেখ হাসিনার ওপর আঘা’ত এসেছে। এ পর্যন্ত ১৯ বার তাঁকে হ’ত্যারচেষ্টা হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে ভয়াবহ ছিলো সম্ভবত ২১ আগস্টের গ্রেনেড হাম’লা। নেতাকর্মীদের মানবঢালের কল্যাণে অলৌকিকভাবেই বেঁচে যান শেখ হাসিনা। প্রাণ হারায় ২৪ জন নেতাকর্মী। সেই পরিস্থিতি থেকে দ্বিগুণ শক্তি সঞ্চয় করে রাজনীতি চালিয়ে যাওয়া ছিলো তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

২৩. কে. এম. হাসানের বিরোধিতা করা: তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হিসেবে বিচারপতি কে. এম. হাসানের বিরোধিতা ছিলো শেখ হাসিনার চ্যালেঞ্জিং সিদ্ধান্ত। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাও এর বিরোধিতা করেন। কিন্তু শেখ হাসিনা জানতেন হাওয়া ভবন যেভাবে প্রশাসন ও নির্বাচন সাজিয়েছে, দেড় কোটি ভুয়া ভোটার সৃষ্টি করা হয়েছে, তাতে কোন নির্বাচনেই বিএনপি ছাড়া অন্য কারো জয় অসম্ভব। এ কারণেই শেখ হাসিনা কে. এম. হাসানকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন।

২৪. ২২ জানুয়ারি নির্বাচন বর্জনে ডাক: এই সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনার জন্য ছিলো কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং। সেনা তত্ত্বাবধানে যদি ঐ নির্বাচন হতো তাহলে আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা এক গভীর সংকটে পড়তেন। কিন্তু ঐ নির্বাচন বর্জন শেখ হাসিনার জন্য চ্যালেঞ্জিং এবং সাহসী সিদ্ধান্ত ছিলো।

২৫. মহাজোট গঠন: এরশাদের সঙ্গে জোট গঠন শেখ হাসিনার জন্য সাহসী এবং চ্যালেঞ্জিং সিদ্ধান্ত। এই চ্যালেঞ্জে শেখ হাসিনা জয়ী হন। বার বার মত বদল করা, ডিগবাজি দেওয়া এরশাদ আজীবন মহাজোটে ছিলেন। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কৌশলে পরাস্ত এরশাদের পক্ষে ডিগবাজি দেয়া সম্ভব হয়নি আর।

২৬. ওয়ান-ইলেভেনে সাহসী নেতৃত্ব: ওয়ান-ইলেভেনে শেখ হাসিনা একজন সাহসী নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। তিনি প্রথম রাজনৈতিক নেতা যিনি দ্রুত নির্বাচনের দাবি তুলে নিজের দলে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে সমালোচিত হন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেল শেখ হাসিনাই সঠিক।

২৭. সংস্কারপন্থীদের চ্যালেঞ্জ: ওয়ান-ইলেভেনের সময় আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সিনিয়র নেতা সংস্কারপন্থী হয়েছিলেন। তারা শেখ হাসিনাকে মাইনাস করতে চেয়েছিলেন। শেখ হাসিনা তৃণমূলের শক্তি জাগিয়ে সংস্কারপন্থীদের প্রতিহত করেন।

২৮. দেশে ফিরতে বাধা: ড. ফখরুদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ১৫ মার্চ ২০০৭ যুক্তরাষ্ট্রে যান শেখ হাসিনা। তাঁর দেশে ফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জ শেখ হাসিনা জয় করেন রাজনৈতিক প্রজ্ঞায়।

২৯. গ্রেপ্তার এবং সাহস: দেশে ফিরে শেখ হাসিনা তাঁর সাহসের পরিচয় দিয়েছিলেন। এটা ছিলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একটা বড় নৈতিক পরাজয়। অনিবার্যভাবেই মাইনাস ফর্মূলা বাস্তবায়নের জন্য তারা শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু ঐ প্রতিকূল পরিস্থিতি তিনি সাহসের সাথে মোকাবেলা করেন।

৩০. দলের ঐক্যের জন্য বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত: গ্রেপ্তার হবার সময় শেখ হাসিনা প্রবীণ নেতা জিল্লুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করেন। এটি ছিলো যুগান্তকারী এক সিদ্ধান্ত। এর ফলে দলের ঐক্য অটুট থাকে।

৩১. মুক্তি: শেখ হাসিনার মুক্তি ছিলো তাঁর নিজের জন্য বিশাল অর্জন। এই মুক্তি তাঁকে পরিণত এবং বিচক্ষণ রাজনৈতিক নেতার মর্যাদা দেয়।

৩২. ২০০৮ এর নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ: ঐ নির্বাচনে বহু সংস্কারপন্থীকে মনোনয়ন না দিয়ে নিজেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। শেষ পর্যন্ত ঐ চ্যালেঞ্জে জয়ী হন তিনি।

৩৩. নির্বাচনী ইশতেহারে চ্যালেঞ্জ: ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন এবং যু’দ্ধাপরাধীদের বিচারের অঙ্গীকার ছিলো শেখ হাসিনার দুটো চ্যালেঞ্জিং নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা। এ দুটি তাঁকে রাষ্ট্রনায়কের মর্যাদা দেয়।

৩৪. ২০০৯ এর মন্ত্রিসভার চ্যালেঞ্জ: সব সংস্কারপন্থীকে সাইডলাইনে বসিয়ে আনকোরা নতুনদের দিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন ছিলো শেখ হাসিনার এক বড় চ্যালেঞ্জ জয়।

৩৫. বিডিআর বিদ্রোহ এবং সেনা সদরে শেখ হাসিনা: ক্ষমতায় আসার পরই বিডিআর বিদ্রোহ ছিলো শেখ হাসিনার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ। এটি তিনি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলা করেন। বিশেষ করে সেই কঠিন মুহূর্তে একা সেনা সদরে প্রবেশ ছিল শেখ হাসিনার সাহসের এক উজ্জ্বল স্মারক।

৩৬. যু’দ্ধাপরাধীদের বিচার: মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত যু’দ্ধাপরাধীদের বিচার নিঃসন্দেহে শেখ হাসিনার সাহসী এবং চ্যালেঞ্জ জয়ী সিদ্ধান্ত।

৩৭. তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল: সুপ্রীম কোর্টের রায়ের আলোকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন। সিদ্ধান্তটি ছিলো কঠিন।

৩৮. ২০১৪ এর নির্বাচন: বিএনপির বর্জনের পরও ২০১৪ এর নির্বাচন শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন করা এবং ঐ নির্বাচনের পর পূর্ণ মেয়াদ ক্ষমতায় থাকা, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কৌশলের এক অনবদ্য জয়।

৩৯. ২০১৮ এর নির্বাচনে বিএনপিকে আনা: ২০১৪ এর নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি বর্জন করে। আবার কোন শর্ত ছাড়াই ২০১৮ এর নির্বাচনে বিএনপি যোগ দেয়। রাজনীতির কৌশলের খেলায় এটি শেখ হাসিনার জয়।

৪০. নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার জামিন: শেখ হাসিনার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে করুণা ভিক্ষা শেখ হাসিনার এক বড় চ্যালেঞ্জ জয়। এর মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে চূড়ান্ত পরাজিত করেন শেখ হাসিনা। বাংলাইনসাইডার।

শেয়ার করুন !
  • 178
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!