মনোনয়ন পাচ্ছেন না বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যানদের দুই-তৃতীয়াংশই

0

বিশেষ সংবাদদাতা:

বর্তমান উপজেলা চেয়্যারম্যানদের মধ্যে অধিকাংশই আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে মনোনয়ন পাচ্ছেন না। নির্বাচন নিয়ে মাঠ জরিপে অধিকাংশ বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান সম্পর্কে নেতিবাচক তথ্য উঠে এসেছে। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৪ সালে। ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ মে পর্যন্ত মোট ৬টি ধাপে ৪৭১টি উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

দলীয় প্রতীকে না হলেও, ওই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ জয়ী হয় ২৩৩টিতে, ১৬৬টিতে বিএনপি, ৩৬টিতে জামায়াত, জাতীয় পার্টি ২টিতে এবং স্বতন্ত্ররা ২০টিতে। পরবর্তীতে বিএনপির ১৬৬ জনের মধ্যে ৬২ জন আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান পদ বহাল রাখেন। এর মধ্যে ৭২ জন উপজেলা চেয়ারম্যানকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নানা অভিযোগে বরখাস্ত করে। ২৮ জন এখনো দায়িত্ব পালন করছেন। জামায়াতের ৩৬ জনের মধ্যে ৬ জন উপজেলা আওয়ামী লীগে যোগ দেন। বাকি ৩০ জনকে মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়। এই মুহূর্তে উপজেলা চেয়ারম্যানদের মধ্যে ৩১১ জন আওয়ামী লীগের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের মাঠ জরিপে দেখা গেছে, দুই-তৃতীয়াংশ উপজেলা চেয়ারম্যানই তার নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন। এদের অনেকেই আবার এলাকায় অবাঞ্ছিত। অনেকের সঙ্গেই স্থানীয় আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব রয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার পর যারা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই দলের জন্য ‘ক্ষতিকর’ বিবেচিত হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের মাঠ জরিপে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যানের দুই-তৃতীয়াংশ এবার নির্বাচনে দাঁড়ালে জয়ী হতে পারবে না বলে মত দেওয়া হয়েছে। মাঠ জরিপে নতুন এবং এলাকায় জনপ্রিয়দের উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে। জরিপে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবার জন্য যারা এলাকায় কাজ করেছেন, যাদের পরিচ্ছন্ন ইমেজ রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দেয়া যেতে পারে।

জানা গেছে, মাঠ জরিপে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ৩ থেকে ৫ জনের একটি সংশ্লিষ্ট তালিকা করা হয়েছে। এই তালিকায় বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যানদের ২১৮ জনেরই নাম নেই। আবার বিগত উপজেলা পরিষদে ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন এমন অন্তত ৮৮ জনের নাম নতুন তালিকায় রয়েছে।

দলের শীর্ষ নেতারা বলছেন, সংসদ সদস্যদের সঙ্গে যেন উপজেলা চেয়ারম্যানদের দ্বন্দ্ব না হয় সে বিষয়টি এবার মনোনয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। বিগত সময়ে এমপি এবং উপজেলা চেয়ারম্যানদের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ছিলো সরকারের জন্য বড় মাথা ব্যাথার কারণ। এ কারণে অনেক জায়গায় উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এই দ্বন্দ্বে দলের সাংগঠনিক শক্তিও ক্ষয় হয়েছে বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এবার মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলের দীর্ঘদিনের নেতা-কর্মী, এলাকায় জনপ্রিয় এবং পরিচ্ছন্ন ইমেজের অধিকারীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন আগামী মার্চ থেকে ৫টি ধাপে ৪৯২টি উপজেলায় নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, জোটগত নয়, বরং দলগতভাবে এই নির্বাচন করবে আওয়ামী লীগ। মাঠ জরিপের ভিত্তিতেই উপজেলায় প্রার্থীতা চূড়ান্ত করার কাজে নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

শেয়ার করুন !
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!