ঐক্য সরকার ক্ষমতায় গেলে রোহিঙ্গারা নাগরিকত্ব পাবে!

0

অনলাইন ডেস্ক:

মিয়ানমারে সুচির দল ক্ষমতায় আসার পর মিয়ানমার থেকে শুরু হয় রোহিঙ্গা দমন। বাংলাদেশসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি দেশে পালিয়ে যায় তারা। রোহিঙ্গাদেরকে নাগরিক বলে স্বীকৃতি দেয়নি কোনো সরকারই। তবে এবার রোহিঙ্গাদেরকে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা উঠেছে।

ক্ষমতায় থাকা ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির কয়েকজন নেতাসহ সামরিক বাহিনীর হাতে দলের চেয়ারপারসন অং সান সু চি আটক হওয়ার পর রোহিঙ্গাদের উদ্দেশ্যে মিয়ানমারে জান্তাবিরোধী জাতীয় ঐক্য সরকার বা ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি) নামে একটি দল বলছে, ক্ষমতায় যেতে পারলে রোহিঙ্গাদের সসম্মানে ফিরিয়ে নিয়ে তাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার টুইটারে দলটির পক্ষে রাতে ৩ পাতার একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সসম্মানে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্বের স্বীকৃতি দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।

ওই বিবৃতিতে মিয়ানমারে বিদ্যমান ১৯৮২ সালের বিত’র্কিত নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে দেশে বা বিশ্বের যে কোনো স্থানে জন্ম নেওয়া মিয়ানমার নাগরিকদের সন্তানদের পূর্ণ নাগরিকত্ব দানের অঙ্গীকার করেছে এনইউজি।

তাই রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যত গণতান্ত্রিক মিয়ানমারে নাগরিকত্ব ও প্রত্যাবাসন প্রতিশ্রুতি দিয়ে জান্তা পতনে সহায়তা করার আহ্বান দেশটির ছায়া সরকার এনইউজি।

বিবৃতিতে এনইউজি বলেছে, আমরা রোহিঙ্গাদের সামরিক একনায়কতন্ত্রের বিরু’দ্ধে এই আন্দলনে অংশ নিতে আমাদের এবং অন্যদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করার আমন্ত্রণ জানাই।

আরো বলা হয়, সু চির এনএলডি সরকার দেশে জাতিগত গোষ্ঠীর সংবেদনশীলতার কারণে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি এড়িয়ে গিয়েছিল। রাখাইনে বসবাসকারী বাঙালি হিসাবে উল্লেখ করতেন সু চি সরকারের নেতারা।

এনইউজির বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের ওপর সামরিক বাহিনীর দমন-নীতির কারণে লাখ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হওয়ার বিষয়টি খুব ভালোভাবে বোঝে জাতীয় ঐক্য সরকার। আমরা এর জন্য গভীরভাব দুঃখিত। আজ সামরিক বাহিনীর হাতে নিপী’ড়িত মিয়ানমারের সকল মানুষ রোহিঙ্গাদের দুর্দশার প্রতি সহানুভিূতিশীল।

রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের সকল মানুষের ওপর সামরিক বাহিনী যেসব অপরাধ করেছে, আমরা তার ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি চাইব। রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের বিরু’দ্ধে মিয়ানমারে সংঘটিত অপরাধের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের এখতিয়ার প্রদানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুচি ও তার নেতাদের গ্রেপ্তারের পর সামরিক জান্তা সরকারে গেলে এনএলডির বেশিরভাগ রাজনীতিবিদ জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি) নাম দিয়ে এটিকেই মিয়ানমারের বৈধ সরকার বলে দাবি করেন।

তবে দলটিকে সন্ত্রা’সী আখ্যা দিয়ে মিয়ানমার জান্তা বলেছে, এর সঙ্গে সম্পৃক্ততা রাখলে যে কেউই গ্রেপ্তার হতে পারে।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!