মামুনুল হকের মত বান্ধবীসহ ধরা খেলেন পাকিস্থানের সামরিক গোয়েন্দা প্রধান

0

অনলাইন ডেস্ক:

পাকিস্থানি জঙ্গি সংগঠনের আদলে গড়ে ওঠা নাশকতা সৃষ্টিকারী ও অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দাবি করা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের মত বেগানা নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় ধরা খেলেন পাকিস্থানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা- আইএসআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়েজ হামিদ।

যদিও মামুনুল হক ধরা পড়েছেন উপস্থিত জনতার হাতে; কিন্তু লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়েজ হামিদের ভাগ্য সহায় ছিল না, তিনি ধরা পড়েছেন সাক্ষাৎ স্ত্রীর হাতে। শুধু তা-ই নয়, বিছানায় বেগানা নারীসহ স্বামীকে দেখে মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি ফয়েজের স্ত্রী। বিছানায় ওঠার আগে খুলে রাখা সামরিক ইউনিফর্ম এবং হোলস্টার থেকে রিভলবার তুলে নিয়ে শ্যুট করেন তিনি।

শরীরের পেছনের নরম অংশে ক্ষত নিয়ে কোনোমতে সেই খামারবাড়ি থেকে পালিয়ে জীবন রক্ষা করেন পাকিস্থানের ‘অকুতোভয়’ সামরিক বাহিনীর এই উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, যার অঙ্গুলি হেলনে নাকি পাকিস্থান সরকার ওঠে আর বসে।

যে নারীসহ ফয়েজ হামিদ স্ত্রীর অনুপস্থিতে বিছানায় প্রেমলীলায় ব্যস্ত ছিলেন, সেই নারী এলেবেলে কেউ নন। তিনিও বংশ পরম্পরায় পাকিস্থানের ক্ষমতার বলয়ের কাছাকাছি থাকা একজন। তার নাম- আরুসা আলম, পেশায় সাংবাদিক। কিন্তু তারচেয়েও আরও অনেক বড় একটি পরিচয় রয়েছে তার।

আরুসা আলমের মায়ের নাম- আকলিম আখতার। যদিও এই নামে তাকে খুব একটা কেউ চেনেন না। কিন্তু, যদি বলা হয়- ‘জেনারেল রানী’, তবে কেঁপে উঠবে পাকিস্থানের সরকার, সামরিক বাহিনী এবং প্রশাসন।

কে এই জেনারেল রানী ওরফে আকলিম আখতার?

ফ্রাইডে টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৯৬০ এর দশকের শেষ দিকে ‘জেনারেল রানী’ নামটি ব্যাপক প্রচার পায়। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে তিনিই ছিলেন পাকিস্তানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারী।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানি স্বৈ’রশাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খানের রক্ষিতা ছিলেন জেনারেল রানী; সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পদায়ন বা তাদের ভবিষ্যৎ ছিল রানীর হাতে। এছাড়াও সরকারি বড় বড় আমলা বা রাজনীতিবিদদের কারো যদি জেনারেল ইয়াহিয়ার অনুগ্রহ প্রয়োজন হতো, তাও দেখভাল করতেন।


ছবি: জেনারেল ইয়াহিয়া এবং জেনারেল রানী ওরফে আকলিম আখতার

১৯৬৮-১৯৬৯’র সরকারবিরোধী আন্দোলনের কারণে জেনারেল আইয়ুব খান যখন রাষ্ট্র প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন, তখন তিনি ইয়াহিয়া খানকে নতুন সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে বসিয়ে যান। সে সময় থেকেই গণমাধ্যম আকলিম আখতারকে ‘জেনারেল রানী’ নামে অভিহিত করা শুরু করে।

নারী ও মদের প্রতি তীব্র আকর্ষণ ছিল ইয়াহিয়ার। এসবের পর্যাপ্ত যোগান দেয়ার পাশাপাশি জেনারেল রানী ইয়াহিয়ার রাজনীতি এবং রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারনী বিষয়ক উপদেষ্টায় পরিণত হন। সেই সাথে প্রায় ঐশ্বরিক ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ওঠেন।

জেনারেল রানীর সান্নিধ্য পেয়েছেন এমন কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়, দেশ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং সাম্প্রতিক প্রতিটি বিষয়ে ইয়াহিয়ার চাইতেও বেশি জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারী ছিলেন জেনারেল রানী।

সেই জেনারেল রানীর কন্যা- পাকিস্তানি সাংবাদিক আরুসা আলম দেশের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা- আইএসআই’র প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়েজ হামিদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া করছিলেন। স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে ফয়েজ হামিদ প্রায়ই আরুসাকে নিজের খামার বাড়িতে নিমন্ত্রণ করতেন।

এমনই একদিন ফয়েজ হামিদের স্ত্রী কোনো এক বিশেষ কাজে বাইরে যান। সুযোগ পেয়ে ফয়েজ হামিদ ডেকে নেন আরুসাকে। প্রেমলীলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন দুজনই। কিন্তু বিধি বাম! গোপনসূত্রে খবর পেয়ে সেই খামার বাড়িতে উপস্থিত হন ফয়েজ হামিদের স্ত্রী। আর আপত্তিকর অবস্থায় তাদেরকে বিছানায় হাতেনাতে ধরে ফেলেন।

খুলে রাখা সামরিক ইউনিফর্ম থেকে সার্ভিস রিভলবার তুলে নিয়ে শ্যুট করেন হামিদের স্ত্রী। পালাতে গিয়ে তা ফয়েজের পশ্চাতে লাগে। আর সেই অবস্থাতেই কাপড়চোপড় ফেলে ফয়েজ হামিদ খামার বাড়ি থেকে পালিয়ে যান বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানি গণমাধ্যমের ওপর সেনাবাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপ চলমান। সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা প্রায়ই নিপী’ড়িত হন। সেনাবাহিনীর অপকর্মের খবর প্রকাশে বাধা পান তারা। এসব কারণে ফয়েজ হামিদের খবরটিও চাপা পড়ে যায়।


ছবি: আরুসা আলম

কিন্তু গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর সেনাবাহিনীর খবরদারির প্রতিবাদ করতে গিয়ে পাকিস্তানের জিও টিভির উপস্থাপক প্রখ্যাত সাংবাদিক হামিদ মীর এ ঘটনাটি প্রকাশ করে দেন। উল্লেখ্য, হামিদ মীরকে জিও টিভি থেকে কিছুদিন আগে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

হামিদ মীর তার বক্তৃতায় বলেছেন, যদি সাংবাদিকদের ওপর সেনাবাহিনী আর কোনো নিপী’ড়ন চালায়, তবে তাদের ঘরের ভেতরকার নানান মুখরোচক খবর প্রকাশ করে দেয়া হবে। হামিদ মীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়েজ হামিদের খামার বাড়ির ঘটনাটি ইঙ্গিত দিয়ে বক্তব্য রাখেন। এর ফলে দেশজুড়ে সৃষ্টি হয় ব্যাপক চাঞ্চল্য।

পাকিস্তানি কূটনীতিক এবং জেনারেলরা দেশে-বিদেশে নারী নিয়ে ফূর্তি করতে যান বলে যে জনশ্রুতি রয়েছে, সেটার সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে এখন।

জেনারেল রানীর সেই সাংবাদিক-কন্যা আরুসা আলমের সাথে ভারতের উত্তরাঞ্চলের এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব রয়েছে বলে জানা গেছে।

অ্যাশ দ্যুবে নামক ভারতীয় একজন সাংবাদিকের বরাতে জানা যায়, পাঞ্জাবের মূখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংয়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এই আরুসা আলম।

দ্যুবে তার টুইটে হামিদ মীরের সেই ভিডিওটি যুক্ত করে এ বিষয়ে বিস্তারিত তত্ত্ব-তালাশের পরামর্শ দিয়ে লিখেছেন, বিষয়টা খতিয়ে দেখুন, চাঞ্চল্যকর আরও অনেক কিছুই পেয়ে যাবেন।

শেয়ার করুন !
  • 2.4K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!