তিমির পেট থেকে অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে এলেন জেলে!

0

বিশ্ব বিচিত্রা ডেস্ক:

বড় আকারের গলদা চিংড়ি ধরতে সাগরে ডুব দিয়েছিলেন এক জেলে। বেশিক্ষণ হয়নি, আচমকা অন্ধকার হয়ে আসে চারপাশ, সঙ্গে শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা। জেলে প্রথমে ভেবেছিলেন তাকে হয়তো হাঙরে ধরেছে। তবে দাঁতের সংখ্যা আর আকার দেখে ভুল ভাঙে দ্রুতই।

বুঝতে পারেন, তিনি হাঙর নয়, তিমির মুখে পড়েছেন। তিমিটি তাকে গিলে খেতে চেষ্টা করছে। এরপর শুরু হয় প্রাণপণ লড়াই। আর সেই লড়াইয়ে জিতে শেষপর্যন্ত বাইরে বেরিয়ে আসেন সাহসী জেলে।

গত শুক্রবার এ ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য ম্যাসাচুসেটস উপকূলে।

ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরে মাইকেল প্যাকার্ড নামে ওই ব্যক্তি ফেসবুকের এক স্ট্যাটাসে জানান, তিমিটি পানির ওপর ভেসে ওঠা এবং তাকে মুখ থেকে বের করে দেয়ার আগে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড এর মুখের ভেতর আটকা ছিলেন তিনি।

প্যাকার্ড বলেন, একটি হাম্পব্যাক তিমি আমাকে খেয়ে ফেলার চেষ্টা করেছে। আমি ক্ষতবিক্ষত, তবে কোনো হাড় ভাঙেনি।

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে কেপ কড টাইমস নামে একটি স্থানীয় পত্রিকাকে প্যাকার্ড জানান, তিনি ম্যাসাচুসেটস উপকূলে প্রায় ৩৫ ফুট গভীরে লবস্টার (এক জাতীয় গলদা চিংড়ি) ধরছিলেন।

আচমকা প্রচণ্ড ধাক্কা অনুভব করলাম। এরপর শুধু জানি, চারদিক ঘুটঘুটে অন্ধকার। সঙ্গে সঙ্গে বদ্ধ জায়গা থেকে উদ্ধার পেতে প্রাণপণ চেষ্টা শুরু করি। কিন্তু পিনোকিওর গল্পের মতো তিমির পেটের ভেতর থেকে উদ্ধার পেতে আগুন জ্বালাতে হয়নি আমাকে!

প্যাকার্ড বলেন, আমি তার মুখগহ্বরের মাঝ দিয়ে আলো দেখতে পাই, আর দুই পাশে মাথা দিয়ে বাড়ি দিতে শুরু করি। এরপর যা জানি তা হলো, আমি বাইরে (পানির মধ্যে)।

পত্রিকাটির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তিমিটি ভেসে ওঠা এবং প্যাকার্ডকে বের করে দেয়ার সময় পানিতে উথাল-পাথাল হতে দেখেছেন তার মাছ ধরার সঙ্গী মায়ো।

এদিকে, ম্যাসাচুসেটসের একটি তিমি গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক জুক রবিনস জানিয়েছেন, তিমির মুখ থেকে প্যাকার্ডের বেঁচে ফেরার ঘটনা গুজব নয় বলেই মনে করেন তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপি’কে রবিনস বলেন, আমার মনে হয় না এটি গুজব। কারণ এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আমি চিনি।

এ গবেষক জানান, তিনি এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো শোনেননি। হতে পারে প্যাকার্ড ‘ভুল সময় ভুল জায়গায়’ হাজির হয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, তিমিরা মাছ শিকারের সময় মুখ বড় হাঁ করে সামনে আগায় এবং দ্রুত মাছ ও পানি গিলে ফেলে। তবে তাদের মুখ বড় হলেও গলা অনেকটাই সরু, যা দিয়ে সাধারণত কোনো মানুষ গিলে ফেলা সম্ভব নয়।

দ্রুত সামনে যাওয়ার সময় তিমিটি অসাবধানতাবশত প্যাকার্ডকে মুখে পুরে ফেলেছিল বলে ধারণা করছেন জুক রবিনস।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় সব কিছু হয়তো এখনো জানা যায়নি। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার- মানুষকে সচেতন থাকতে হবে এবং তিমি দেখলে নিরাপদ দূরত্ব রাখতে হবে। তিমিকে তাদের জায়গা দেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: ইয়াহু নিউজ।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!