ছাত্রীসংস্থার নেত্রী সাবিকুনের ৪র্থ স্বামী ত্ব-হার সন্ধান চান তার প্রথম স্বামীও (ভিডিও)

0

অনলাইন ডেস্ক:

ধর্মীয় বক্তা হিসেবে পরিচিত মো. আফছানুল আদনান ওরফে আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান এর সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্ত্রী সাবিকুন নাহার। তিনি বলেছেন, ত্ব-হা নিরীহ মানুষ। হয় তাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন, নয়তো আমাকে তার কাছ পর্যন্ত পৌঁছায়ে দিন।

আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান নামে অনলাইনে ধর্মীয় বিষয়ে আলোচনা করে পরিচিত পাওয়া আদনানের সন্ধান মিলছেনা এক সপ্তাহ ধরে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ত্ব-হার সন্ধান মিলেছে বলে জানা গেছে (ভিডিওর শেষ অংশে দ্রষ্টব্য)।

তার সন্ধান চেয়ে আজ বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেন স্ত্রী সাবিকুন নাহার। এই সংবাদ সম্মেলনে স্বামীর খোঁজ পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।

স্বামী প্রসঙ্গে সাবিকুন নাহার বলেন, তিনি কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তিনি না আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও কওমি, না আহলে হাদিস। সাধারণ একটা মানুষ।

আফছানুল আদনান (৩১) সপরিবার রংপুর শহরে থাকেন। ১০ জুন থেকে তিনি নিখোঁজ। সন্ধান পেতে আদনানের মা রংপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। ১৩ জুন তার মা আজেদা বেগম বলেন, তার ছেলে অনলাইনে আরবি পড়ানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মসজিদে জুমার খুতবা দিতে যেতেন।

শুক্রবার ঢাকার একটি মসজিদে খুতবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে রংপুর থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে ভাড়া করা একটি গাড়িতে রওনা দেন। আদনানের সঙ্গে ছিলেন তার দুই সঙ্গী আবদুল মুহিত ও ফিরোজ। এ ছাড়া গাড়িচালক আমির উদ্দিন ফয়েজও ছিলেন।

সাবিকুন নাহারের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রচারের পর উঠে এলো আরেক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

সাবিকুন নাহারের প্রথম স্বামী সিঙ্গাপুর প্রবাসী (বর্তমানে দেশে অবস্থান করছেন) শেখ হাবিব ফেসবুক লাইভে এসে তুলে ধরেছেন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। মিরপুর নিবাসী হাবিবের লাইভ বক্তব্যে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে ত্ব-হার নিরুদ্দেশের খবর দেখে আসছিলেন। কিন্তু আজ ত্ব-হার স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন দেখে এবং নিশ্চিত হতে ফেসবুকে সন্ধান করে তিনি শনাক্ত করেন এই সাবিকুন নাহার তার প্রথম স্ত্রী ছিলেন।

সাবিকুনের একটি বয়ফ্রেন্ড ছিল, যার নাম তুষার। যার ঠিকানা বাউনিয়াবাদ, মিরপুর-১১। সিঙ্গাপুরে থাকায় তুষারের কথা জানতেন না হাবিব। দেশে এসে সাবিকুনের সাথে বিয়ে করেন, ৭ বছর সংসার করেন। সংসার জীবনে তার চলাফেরা নিয়ে আপত্তি ছিল হাবিবের। এসব নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় ডিভোর্স হয় তাদের। হাবিব যেটা সন্দেহ করেছিলেন ডিভোর্সের আগে, সেটাই সত্য প্রমাণ হয়। বিবাহিত অবস্থাতেই গড়ে তোলা সম্পর্কের জেরে সিরাজ নামে চট্টগ্রামের এক মধ্যবয়সীকে বিয়ে করে সাবিকুন।

সাবিকুন ও হাবিবের সংসারে তিনটি সন্তান হয়। একটি ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে। পরবর্তীতে এক ছেলে- ওয়াসিফ এবং কন্যা- ওয়ারিশার জন্ম হয়। এই সন্তানদের রেখে দেনমোহরের অর্থ কড়ায় গণ্ডায় বুঝে নিয়ে কোর্টে ডিভোর্স প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংসার ত্যাগ করে সাবিকুন।

হাবিব আরও জানান, একইভাবে সিরাজের সাথেও বনিবনা হয় না সাবিকুনের। ফলশ্রুতিতে তার সাথেও ডিভোর্স হয়। এবং একইভাবে দেনমোহরের সম্পূর্ণ অর্থ বুঝে নিয়ে তাকে ত্যাগ করে। এছাড়াও অনেক পুরুষের সাথে তার সম্পর্কের কথা লোকমুখে হাবিব জানতে পারেন।

সংবাদ সম্মেলনের পর নিজের প্রথম স্ত্রীকে শনাক্ত করতে পারেন হাবিব। তিনি ত্ব-হাকে চেনেন না, তাই তার প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যান। যদিও তাকে যেন খুঁজে পাওয়া যায়, সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন হাবিব। তবে দেশবাসীকে সাবিকুন নাহার সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, একের পর এক পুরুষ বদলানো এই নারী সম্পর্কে যেন সবাই সতর্ক থাকেন। গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে যে প্রশংসা করা হচ্ছে, তার উপযুক্ত নন তিনি।

সাবিকুন নাহার কাপাশিয়ার যে মাদ্রাসায় পড়েছেন, তিনি এবং তার মা সেই মাদ্রাসায় জামায়াতের রাজনৈতিক সমর্থনে কাজ করতেন। জামায়াত অধ্যুষিত ওই মাদ্রাসা থেকে জামায়াতের বড় বড় নেতাদেরকে আটক করার পর সেখানে তাদের মুক্তি কামনা করে দোয়ার আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বদদোয়া করা থেকে শুরু করে নানান কটূক্তি করা হয়। হাবিব এই বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, আজ স্বামীর সন্ধানের জন্য সেই প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন সাবিকুন নাহার।

স্বামী সন্তানের সাথে প্রতারণা করে সংসার ভাঙা এই নারীর বিচার চেয়েছেন শেখ হাবিব। ভিডিও বক্তব্যে আরও বিস্তারিত তুলে ধরেছেন শেখ হাবিব।

ভিডিও:

শেয়ার করুন !
  • 3.5K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!