ধার ফেরত চাইলে জেলা বিএনপি সভাপতিকে পেটালেন ফখরুল!

0

বিশেষ সংবাদদাতা:

সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি, শীর্ষ নেতৃবৃন্দের প্রতি অন্যদের সৃষ্ট অনাস্থা, ভাঙন, বিকল্পধারায় যোগ দেয়ার গুঞ্জন- সব মিলিয়ে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতাকে প্রকট করে তুলেছে। আর এই বিপর্যয়কর অবস্থার পেছনে স্থায়ী সদস্যদের মাঝে অনৈক্য, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে আখের গোছানোর চিন্তা, দল বদলের ভাবনা, মনোনয়ন বঞ্চিত হেভিওয়েট নেতাদের অবমূল্যায়ন ইত্যাদি বিভিন্ন কারনকে দায়ী করছেন তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মীরা।

এরই মধ্যে ঘটে গেছে একটি লজ্জাজনক ঘটনা। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ বুধবার বগুড়ায় যান। তিনি বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। সফরে গেলে সেখানে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ফখরুল। পাশাপাশি তদের কাছ থেকে তাদের মামলার খবরাখবরও নেন।

দুপুরে শহরের মমো ইন হোটেলে জেলার শীর্ষ নেতাদের সাথে এক বৈঠক শেষে বের হওয়ার সময় লিফটে একই সাথে ওঠেন বগুড়া জেলা বিএনপি সভাপতি সাইফুল ইসলামও। লিফটে নিরিবিলি দেখে অপর দুই নেতার সামনেই সাইফুল নিচুস্বরে পাওনা টাকার প্রসঙ্গ তুলে ফেরতের আর্জি জানান মহাসচিবের কাছে। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মির্জা ফখরুল। কেন সবার সামনে টাকার কথা তোলা হলো, এ নিয়ে ধুন্দুমারভাবে শারীরিক আক্রমণ করে বসেন।

মির্জা ফখরুলের এমন রুদ্রমূর্তি দেখে উপস্থিত দুই নেতা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলে তারাও কিঞ্চিৎ আহত হন। এক পর্যায়ে লিফট নিচে নামলে দেখা যায় মির্জা ফখরুল লিফট থেকে সাইফুলের জ্যাকেটের কলার ধরে টানা হেঁচড়া করতে থাকেন। এক পর্যায়ে উত্তেজিত স্বরে সাইফুল বলে ফেলেন, টাকা ফেরত চাইতে গেলে এমন হবে জানলে ধারই দিতাম না!

এ সময় গণামাধ্যম কর্মীদের দেখে লিফটে থাকা নেতারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদুপরি জেলার নেতাদের কাছে প্রশ্ন করলে তারা গণমাধ্যমকে জানান- এসব ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলতে চান না তারা।

প্রসঙ্গত, গত ২ মাসে তারেক জিয়া এবং তার প্রয়াত ছোট ভাই কোকোর স্ত্রীসহ পরিবারের কয়েকজনের ৪টি দেশে থাকা বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্টে আড়াইশ কোটি টাকা জমা পড়ার খবরে দলের ভেতরেই চলছে তোলপাড়। বলা হচ্ছে, মনোনয়ন বাণিজ্য করে আখের গুছিয়ে নিচ্ছে জিয়া পরিবার। এসব নিয়ে হতাশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম বলেই ফেলেছেন- মান-ইজ্জত নিয়ে দল ছাড়তে চাই।

শেয়ার করুন !
  • 20
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply