পান্তা ভাত-আলু ভর্তায় মাস্টার শেফ অস্ট্রেলিয়ায় বাজিমাত কিশোয়ারের

0

হেঁসেল ঘর:

জনপ্রিয় রান্নাবিষয়ক টেলিভিশন রিয়েলিটি শো মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার চূড়ান্ত পর্বে পান্তাভাত ও আলু ভর্তা করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত প্রতিযোগী কিশোয়ার চৌধুরী। সেইসঙ্গে তার রান্নায় সার্ডিন মাছ ভাজি ও সালাদ ছিল।

সোমবার মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই ভিডিও শেয়ার করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের রান্নার বিবরণ দিচ্ছেন কিশোয়ার। তিনি বলছেন, ‘আপনারা এই খাবার রেস্টুরেন্টে পাবেন না। এটি বেশ দুর্লভ। তবে ফাইনালে এই খাবার তৈরি করতে পারাটা আমার জন্যে বেশ আনন্দের।’

বিচারকদের একজন খাবার সামনে নিয়ে বলেন, ‘এটি খুবই শক্তিশালী খাবার। এটি ইতিহাসে ও স্বাদেও শক্তিশালী।’ আরেকজন বলেন, ‘খাবারটি দেখে আমার জিভে পানি আসছে।’

আজকের এপিসোডের প্রতিযোগিতায় ৫১ পয়েন্ট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন কিশোয়ার। অন্য দুই প্রতিযোগী পিট ও জাস্টিন যথাক্রমে ৫৩ ও ৫০ পয়েন্ট পেয়েছেন।

মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার এবারের আসরের পর্দা নামবে মঙ্গলবার। এবারের আসরের অন্যতম জনপ্রিয় প্রতিযোগী কিশোয়ার চৌধুরী। পুরো প্রতিযোগিতায় একের পর এক চমক দেখিয়ে চলেছেন তিনি। তার রান্না করা কালাভুনায় মুগ্ধ হয়েছিলেন মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার বিচারকরা।

এরপর লাউ চিংড়ি, বেগুন ভর্তা, খিচুড়ি, আমের টক, খাসির রেজালা, ফুচকা, চটপটি, সমুচার রেসিপি দিয়ে রীতিমতো মাতোয়ারা করেন সবাইকে। বিদেশের প্রতিযোগিতায় এভাবে দেশী রেসিপি দিয়ে তাক লাগিয়ে চলেছেন এ নারী।

কিশোয়ার চৌধুরী অস্ট্রেলিয়ায় রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পাওয়া এবং পরিচিত মুখ বাংলাদেশি ব্যবসায়ী বীর মুক্তিযোদ্ধা কামরুল হোসাইন চৌধুরী ও লায়লা চৌধুরীর মেয়ে। কামরুল হোসাইন ঢাকার বিক্রমপুরে বাসিন্দা, তার স্ত্রী লায়লা চৌধুরীর বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে।

অর্ধ-শতাব্দী আগে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান এ দম্পতি। সেখানেই জন্ম হয় কিশোয়ারের। বিদেশে বসবাস করলেও নিজ দেশের ভাষা, সংস্কৃতিচর্চা সবই বজায় রেখেছেন কিশোয়ারের বাবা-মা, আর সেটি ধারণ করতে সন্তানদেরও উৎসাহিত করেছেন। তারা ভিক্টোরিয়া রাজ্যের মেলবোর্নে বসবাস করছেন।

কিশোয়ার চৌধুরী মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্যে স্নাতক এবং আর্টস লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাফিক্স ডিজাইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি ‘বিজনেস ডেভেলপার’ হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি পারিবারিক প্রিন্টিং ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। আর রান্নায় হাতেখড়ি ছোটবেলাতেই, বাবা-মায়ের হাত ধরে।

কিশোয়ার মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার খেতাব জিতবেন কি না, সেটি দুদিনের মধ্যেই জানা যাবে। তবে ইতোমধ্যে বিচারকদের পাশাপাশি গোটা বিশ্বের ভোজনরসিকদের মন জয় করে নিয়েছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এই নারী।

কিশোয়ারকে বিজয়ীর মুকুটে দেখতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে ‘গো কিশোয়ার’ হ্যাশট্যাগ ঝড়। তাকে ‘মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া’র ১৩তম সিজনের তারকা হিসেবে দেখছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোও। শীর্ষস্থানীয় পত্রপত্রিকাগুলোতে প্রতিনিয়ত চলছে কিশোয়ার বন্দনা।

আর এই প্রতিযোগিতা তাকে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে যাবে, তেমনটাই প্রত্যাশা বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের ভক্তদের।

শেয়ার করুন !
  • 576
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!