বাংলাদেশের সরকার পতনের স্বপ্নে বিভোর খলিল-বার্গম্যানের আদ্যোপান্ত

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

সাংবাদিকতার খোলসের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভয়ঙ্কর এবং কুখ্যাত দুই চরিত্র- তাসনিম খলিল এবং ডেভিড বার্গম্যান। দুজনের বর্তমান পরিচয় তারা সাংবাদিক। কাজ করছেন নেত্র নিউজ নামের এক প্রোপাগান্ডামূলক অনলাইন পোর্টালের বাংলা এবং ইংরেজি সংস্করণের সম্পাদক হিসেবে।

বিতর্কিত চরিত্রের তাসনিম খলিলের সাথে বাংলাদেশ বিরোধী আন্তর্জাতিক কয়েকটি চক্র এবং কয়েকটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার পুরনো সম্পর্ক রয়েছে বলে বেশ কিছু তথ্য প্রমাণ রয়েছে।

এক-এগারোর সেনা সরকারের সময় গ্রেপ্তারকৃত তাসনিম খলিলকে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে কারামুক্ত করে বাংলাদেশ থেকে বের করে নিয়ে যায়। যাতে জড়িত ছিল সেই দেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন। বিনিময়ে তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট কাজ করে আনুগত্য প্রদর্শন করছেন তাসনিম খলিল।

অন্যদিকে ইহুদি বংশোদ্ভূত ডেভিড বার্গম্যান কাজ করতেন আন্তর্জাতিক লবিস্ট হিসেবে। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে হেন কোনো অপকর্ম এবং কূটচাল বাকি নেই যা তিনি প্রয়োগ করেননি। বিনিময়ে বিএনপি-জামায়াতের পক্ষ থেকে চুক্তি অনুযায়ী নিয়েছেন বিপুল অর্থ।

তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে গিয়ে আদালত অবমাননার দায়ে তিরস্কৃত হন, সাজাও পেতে হয়েছিল তাকে। এছাড়াও বাংলাদেশের দুটো সংবাদমাধ্যম থেকে চাকরি খোয়ান।

বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে বেঈমানি করা আইনজীবী ড. কামাল এর জামাতা ডেভিড বার্গম্যান সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশ, আওয়ামী লীগ সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তথা বঙ্গবন্ধু পরিবারের ওপর নাখোশ। আর সেই প্রতিশোধস্পৃহা থেকেই তিনি অপকর্ম ও অপপ্রচারে লিপ্ত। অভিন্ন উদ্দেশ্যে তাসনিম খলিল ও ডেভিড বার্গম্যান যুক্ত হয়েছেন একটি প্ল্যাটফর্মে, যার নাম- নেত্র নিউজ।

এখন দেখা যাক, তাদের অপকর্ম ও চক্রান্তের বিভিন্ন নমুনা:-

দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে অপপ্রচার:

বাংলাদেশ সরকার, সেনাবাহিনী ও র‌্যাব নিয়ে অনেক গুজব ছড়িয়েছেন খলিল-বার্গম্যান গং। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে হেয় প্রতিপন্ন করতে প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করছেন। এমনকি জাতিসংঘকে নিয়ে গুজব ছড়াতেও দ্বিধা করেননি তারা। জাতিসংঘ মুখপাত্রের বরাত দিয়ে তাসনিম খলিল তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল এবং নেত্র নিউজে লিখেছেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুর্নীতি এবং অবৈধ কার্যাবলী নিয়ে পূর্ণ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ!

কিন্তু বাস্তবে জাতিসংঘের কোনো মুখপাত্র এ নিয়ে কোনো মন্তব্যই করেননি। জাতিসংঘ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিষয়ে বা জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে তদন্তের কথাও বলেননি। বরং জাতিসংঘের মুখপাত্র বিষয়টিকে ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়’ এবং কোনো অভিযোগ থাকলে তা ‘বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এখতিয়ারের বিষয়’ বলে মন্তব্য করেছেন।

সেনাবাহিনীকে নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট করে খলিল ফেসবুকে লিখেছেন- জেনারেল আজিজকে কভার করতে গিয়ে যে জাতিসংঘের সাথে ঝামেলা লাগায় দিলা সেইটা কি ভাল হল? পিস কিপিং মিশনে ইসরাইলি ইমসি ক্যাচার? এখন ঠেলা সামলাও।

আদতে বাংলাদেশকে নিয়ে টুঁ শব্দও করেনি জাতিসংঘ। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলছে। জাতিসংঘের কর্তা ব্যক্তিরা আল-জাজিরায় করা খলিল-বার্গম্যান গংয়েল বানোয়াট ও ভুয়া প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছেন। তাই বিষয়টি নিয়ে তারা আলোচনার প্রয়োজন অনুভব করেননি।

আসলে তাসনিম খলিল-বার্গম্যানরা চেষ্টা করছেন সেনাবাহিনীর ভেতরে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে।

কুখ্যাত সংস্থা এনইডির সাথে নেত্র নিউজ তথা তাসনিম খলিল ও ডেভিড বার্গম্যানের সংশ্লিষ্টতা:

বিভিন্ন দেশের সরকার পতনের নেপথ্যে কাজ করা কুখ্যাত সংস্থা- এনইডি (মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র একটি ফ্রন্ট) সরাসরি অর্থায়ন করছে প্রোপাগান্ডামূলক ওয়েবসাইট নেত্র নিউজের পেছনে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে মার্কিনিদের বিতর্কিত ভূমিকা এবং পাকিস্থানের সাথে সখ্যতার ইতিহাস পুরনো। আবারও মাথাচাড়া দিয়েছে ষড়যন্ত্রকারীরা।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র গোপন উইং- এনইডি; যারা বিশ্বের প্রগতিশীল এবং উদীয়মান অর্থনীতির বিভিন্ন দেশকে ধ্বংস করতে এবং সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ষাটের দশক থেকে। দেশগুলো যেন মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে না পারে, তাই এনইডি নেপথ্যে সরকারবিরোধী প্রতিপক্ষ তৈরী করতে অর্থায়ন ও সাহায্য দেয়।

এনইডি’র পরিকল্পনায় কাজ করে বেশ কিছু মিডিয়া। যেখানে সরকারবিরোধী অপপ্রচার, গুজব, প্রোপাগান্ডা চালিয়ে জনমতকে ভিন্নপথে পরিচালিত করতে উসকানো হয়। যেন ক্যু ঘটালে জনগণ তা সহজেই মেনে নিতে পারে- এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এনইডি’র কারণে বহু দেশের সরকার উৎখাত হয়েছে ইতিপূর্বে।

তাসনিম খলিল নিজেই তার ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে গত বছর নিশ্চিত করেন, নেত্র নিউজকে একটা বড় অংকের ফান্ড দিয়েছে ন্যাশনাল এনডৌমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি।

একইসাথে বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য বিএনপি-জামায়াত ও পাকিস্থানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই থেকেও প্রচুর ডলার বিনিয়োগ করা হয় নেত্র নিউজের পেছনে।

এনইডি কী এবং কীভাবে কাজ করে: এনইডি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায় যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং গবেষক জেফরি টি রিচেলসনের বই থেকে। তিনি জানান, এনইডি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র একটি আন্ডারকাভার প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সরকার পরিবর্তনের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় কোনো দেশের কোনো গোষ্ঠীকে ক্ষমতায় নিয়ে আসা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলে কোনো দেশের সরকারকে কৌশলে সরানোর পটভূমি তৈরি করে এনইডি। এজন্য তারা ওসব দেশের স্থানীয় বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে নেগোশিয়েট করে বিভিন্ন ইস্যুতে জনগণ ক্ষেপিয়ে তোলে। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ওই দেশ ও সরকার সম্পর্কে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করে চাপ সৃষ্টি করে।

একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ওই দেশের ভাবমূর্তি খারাপ হয়ে যায়। দেশের অভ্যন্তরেও নৈরাজ্য বৃদ্ধি পায়। নাড়া খায় সরকার। এভাবেই এজেন্ডা সেট করে, মাঠ তৈরি করে, স্থানীয়দের সামনে রেখে, সুযোগ বুঝে হুট করেই অভ্যুত্থান ঘটিয়ে কোনো দেশের সরকারের পতন ঘটায় মার্কিন গোয়েন্দারা।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি আর্কাইভের সাবেক সিনিয়র ফেলো জেফরি টি রিচেলসন দীর্ঘদিন কাজ করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে। অনেক বছর গবেষণার পর কিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি। তার দুটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ- দ্য ইউএস ইনটেলিজেন্স কমিউনিটি এবং দ্য উইজার্ড অব ল্যাংলি: ইনসাইড দ্য সিআইএ’স ডিরেক্টরেট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি।

৫৯২ পৃষ্ঠার ‘দ্য ইউএস ইনটেলিজেন্স কমিউনিটি’ গ্রন্থের ১৬তম অধ্যায়ের নাম ‘কাভার্ট অ্যাকশন’। এখানে আমেরিকার গোয়েন্দাদের আধুনিক কার্যক্রম সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন রিচেলসন। সেই গ্রন্থ থেকে জানা যায়-

নিকারাগুয়ায় ক্ষমতাসীন সান্দিনিস্তাদের সরকারের বিরুদ্ধে এই পরিকল্পনা গণতান্ত্রিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিরোধীদের সঙ্গে নিয়ে অপারেশনে নামে এনইডি। প্রোপাগাণ্ডা ছড়িয়ে জনমত গঠন করে, তারপর রাজনৈতিক শক্তির মাধ্যমে ১৯৯০ সালে নিকারাগুয়া সরকারের পতন ঘটায় তারা। একইভাবে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কোরিয়া, চিলিসহ অন্তত এক ডজন দেশে উগ্রবাদীদের দিয়ে সহিং’সতা ছড়াতে মোটা অর্থ বিনিয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্র।

এর আগে, ষাটের দশকের শুরুতে ইরানের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেকের সরকারকে হঠাতে পাহলভী বংশের রাজতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এটিও করেছিল সিআইএ।

এমনকি একটি পরিকল্পিত সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারকে সরিয়ে দিতে মার্কিন গোয়েন্দাদের ন্যাক্কারজনক এবং নৃশংস ভূমিকাও এখানে উল্লেখ্য। সে সময় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পুরো পরিবারকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তাঁর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশ থাকায় ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান।

নেত্র নিউজরে পেছনে এনইডির ফান্ডিংয়ের বিষয়ে তাসনিম খলিলের বক্তব্যে স্পষ্ট, কীভাবে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

মার্কিন গোয়েন্দাদের দেওয়া অর্থই ডোনেশনের নামে বিভিন্ন দেশের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দিচ্ছে এনইডি, যাদের মাধ্যমে তারা ওই দেশগুলোতে সরকারবিরোধী প্রচারণার অপারেশন চালাচ্ছে। যত হাত ঘুরেই আসুক, উন্নয়নখাতের নামে সরবরাহ করা এসব ফান্ডের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল অনুমোদন লাগে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি সম্পর্কে ধারণা আছে যাদের, তারা এসবের উদ্দেশ্য জানেন।

তাসনিম খলিল ও ডেভিড বার্গম্যানরা এসব ফান্ডকে মানবাধিকারের ছদ্মবেশে ঢাকার চেষ্টা করছেন। তবে এটি তার নিতান্তই একটি দুর্বল অপচেষ্টা। প্রকৃতপক্ষে, মার্কিনিদের সাম্রাজ্যবাদ ও বিভিন্ন দেশে দখলদারিত্বের নতুন মুখোশ এখন এসব ফান্ড ও বেসরকারি সংস্থাগুলো।

মার্কিন গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞ টি রিচেলসনের গ্রন্থ ছাড়াও ডেভিড মারপলস এর ‘দ্য ময়দান রেভল্যুশন ইন ইউক্রেন’ বইটি থেকেও অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মার্কিনিদের কৌশলী হস্তক্ষেপের ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যায়। যাকে বলা হয় ‘ইউক্রেন স্টাইল’ অর্থাৎ গুজব ছড়িয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরীর কৌশল।

১৯৯০ সালে নিকারাগুয়ায় সরকার পতনের সাফল্যে অনুপ্রাণিত সিআইএ’র গোয়েন্দারা একই পদ্ধতি প্রয়োগ করে ইউক্রেনের ওপর। ২০১৩-১৪ সালে ইউক্রেনের ইউরো-ময়দান (কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কয়ার) গণবিপ্লবের ছদ্মবেশে সরকারের পতন ঘটায় তারা।

তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে জনগণকে বিভিন্ন ইস্যুতে উত্তেজিত করে রাশিয়াসমর্থিত সরকারের বিরোধীপক্ষকে নিয়মিত অর্থায়ন করতো। জনরোষ সৃষ্টির পর এক রাতে হুট করে ফেসবুকে বিপ্লবের ডাক দেওয়া হয়, জমতে থাকে ক্ষুব্ধ জনতা। উত্তেজিত জনগণের আবেগকে ব্যবহার করে ইউক্রেনের ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটায়।

এদিকে, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধর্মভিত্তিক উগ্রবাদী গোষ্ঠীর চূড়ান্ত পরাজয়ের পর বাংলাদেশের সরকারকেও বদলানোর ষড়যন্ত্র করা হয়। ২০১৩’র ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনার নেপথ্যে এমন ষড়যন্ত্রের আভাস মেলে। এজন্য তারা ইউক্রেনের ইউরো-ময়দান স্টাইলে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুসারে ফেসবুকে গুজব ছড়িয়ে দেশের সাধারণ মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা চলে। নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করেও চেষ্টা করা হয় ক্যু ঘটানোর।

মূলতঃ মার্কিন অর্থায়নে পরিচালিত এনইডি বাংলাদেশের সরকার বদলানোর গ্রাউন্ড তৈরিতে ‘এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশান’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানেও অর্থায়ন করেছে। এ কারণে গত নির্বাচনের সময় বিদেশি পর্যবেক্ষদের বিভিন্নভাবে সরকারের ব্যাপারে নেতিবাচক বার্তা দিয়েছে তারা।

ক্যু ঘটানোর পটভূমি তৈরির অংশ হিসেবে এনইডি-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে নেত্র নিউজকে, কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা পাচ্ছেন খলিল-বার্গম্যান গং। এরকম অপ-সাংবাদিকতার কারণে বাংলাদেশের দুটি গণমাধ্যম থেকে চাকরিচ্যুত হন বার্গম্যান। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির দায়ে সাজাও পান এই ব্রিটিশ শ্বেতাঙ্গ।

বাংলাদেশে মানবাধিকার প্রসঙ্গ নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অপপ্রচার:

অল্প কিছুদিন আগের ঘটনা। নাশকতার দায়ে সাজাপ্রাপ্ত একজন কয়েদির মৃত্যুর ঘটনাকে টুইস্ট করে উগ্রবাদীদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা করে তাসনিম খলিল। তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন- জেলে থাকা অবস্থায় হেফাজত নেতা মাওলানা ইকবাল হোসেনের মৃত্যু। এর দায় আওয়ামী রাষ্ট্রের। সকল রাজবন্দিদের মুক্ত করতে হবে। কারা নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।

মূল ধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট মামলায় আটকের পর জেলে যখন হেফাজত নেতা ইকবাল হোসেন অসুস্থ হয়ে যান, প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। ১১ মে হাসপাতালে ভর্তি করা এই ব্যক্তি মারা যান ২০ মে। অর্থাৎ এই কয়দিন তিনি হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং সেটিও আইসিইউ-তে। সুতরাং কোনভাবেই জেলে আটক থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়নি।

অথচ মূল তথ্য গোপন করে, ধর্মীয় ট্রাম্পকার্ড খেলার মাধ্যমে উগ্রবাদীদের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিলেন খলিল-বার্গম্যান গং।

গত বছরের ডিসেম্বরের ৪ তারিখ এক পোস্টে তাসনিম লিখেছিলেন- কেউ যদি ভাস্কর্য বিরোধী মিছিল করতে চায় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটাই পুলিশের কাজ, মিছিলে হামলা করা বা ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া নয়।

অথচ জাতীয় স্বার্থবিরোধী যে কোনো ষড়যন্ত্র ও সমাবেশ বিশ্বব্যাপী কত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তা তাসনিম খলিলরা ভাল করেই জানেন। লন্ডনে লকডাউন বিরোধী বিক্ষোভ থেকে পুলিশ কীভাবে মানুষদের দূর করেছে বা হোয়াইট হাউজের সামনে ট্রাম্প সমর্থকদের নাশকতা বন্ধে পুলিশি অ্যাকশন সম্পর্কেও অবগত তারা।

আর বাংলাদেশের মৌলবাদীদের ভাস্কর্য ভাঙচুর এবং সেই ভাঙচুর নির্বিঘ্নে করতে পারে যেন তারা, সেজন্য পুলিশকে নীরব ভূমিকা পালন করা এবং নাশকতামূলক কার্যক্রম জারি রাখার পক্ষে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে উসকানি দিয়ে যাচ্ছে এই ধান্দাবাজরা। এসব কি শুধু ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে সরকার বিরোধিতা নাকি মৌলবাদীদের প্রতি তাদের আদি টান? প্রশ্নটা রইলো।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণা:

প্রোপাগান্ডার দায়ে বিভিন্ন দেশে ব্ল্যাকলিস্টেড গণমাধ্যম আল-জাজিরায় মাসখানেক আগে টুইস্টেড তথ্য দিয়ে নির্মিত একটি থ্রিলার পরিবেশন করায় বার্গম্যান-খলিল গং। পরবর্তীতে খলিল নিজেই ফেসবুকে ভুয়া তথ্যের স্ট্যাটাস দেন- আল-জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বেশ কিছু ঘটনা প্রকাশিত হবার পর জাতিসংঘ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুর্নীতি এবং অবৈধ কার্যাবলী নিয়ে পূর্ণ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

ডেভিড বার্গম্যান আল-জাজিরার কন্ট্রিবিউটর হিসেবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করার লক্ষ্যে সংবাদ পরিবেশন করেন। এমনকি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জামায়াত-বিএনপি জোটের লবিস্ট হিসেবে ম্যানেজ করে দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।

তাসনিম খলিল ও বার্গম্যানদের সূত্র হিসেবে ব্যবহার করে ইকোনোমিস্ট, আল-জাজিরার মতো বিতর্কিত মিডিয়াগুলোতে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণার রসদ জোগাড় করে।

সর্বশেষ করোনা মহামারীকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে প্রচারের জন্য উঠে পড়ে লাগে বার্গম্যান-খলিলরা। কখনও নিজেদের অনলাইনে সরাসরি এসব বিভ্রান্তি ও উসকানি ছড়াচ্ছেন তারা, আবার কখনও নিজেরাই বিশেষজ্ঞ হিসেবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোকে বাংলাদেশ সম্পর্কে মনগড়া মতামত দিচ্ছেন।

প্রবাসে থাকা কিছু দেশবিরোধী ব্যক্তির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন বার্গম্যান, যারা বিএনপি-জামায়াতের আরো ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে কাজ চালাচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি নিয়মিত বানোয়াট সংবাদ তৈরি করে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে অপপ্রচার চালান।

সম্প্রতি এই চক্রটি ফেসবুক এবং ইউটিউবেও লাইভ বক্তব্য দিয়ে এবং ভুয়া সংবাদ ছড়িয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। ডেভিড বার্গম্যান, টবি ক্যাডম্যান, লর্ড কার্লাইল, ড. ঘুমডি, দ্য গার্ডিয়ান, নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য ওয়্যারসহ আরো বেশকিছু প্ল্যাটফর্ম তাদের পক্ষে কাজ করছে। আর এই চক্রের মূল লক্ষ্য হচ্ছে তাদের অর্থের জোগানদাতা বিএনপি-জামায়াতের দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের ঘৃণ্য ভাবমূর্তি উদ্ধারের স্বার্থে কাজ করা।

সাংবাদিকতার ছদ্মবেশে সরকাবিরোধী ঘৃণা ছড়ানোর মিশনে নেত্র নিউজ:

বর্তমান সরকার ও সরকার প্রধানের বিরুদ্ধে তাসনিম খলিল ও ডেভিড বার্গম্যানের ব্যক্তিগত ক্ষোভ রয়েছে, যা তাদের বিভিন্ন সময়ের বক্তব্য ও ভাষার ব্যবহারে স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ব্যক্তিগত আক্রোশের বর্হিপ্রকাশ তাসনিম খলিলের পুরো ফেসবুক প্রোফাইলজুড়ে। সব পোস্টেই প্রধানমন্ত্রীর নাম বিকৃত করে উপস্থাপন করে এই তথাকথিক ও স্বঘোষিত ‘বস্তুনিষ্ঠ’ সাংবাদিক।

আরেক স্বঘোষিত ‘অনুসন্ধানী’ সাংবাদিক বার্গম্যানকে প্রকৃত অর্থে একজন ফড়িয়া বা দালাল ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। বার্গম্যান মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিশেষ শ্রেণির এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন। যেদিকে টাকা, সেদিকেই বার্গম্যান।

ডেভিড বার্গম্যান নিজের ব্লগ ছাড়াও বিডি পলিটিকো নামে আরো একটি ব্লগ পরিচালনা করেন, যেখানে তিনি বিভিন্ন পক্ষের ফরমায়েশি আর্টিকেল লেখেন। এই ব্লগে তার লেখার অন্যতম বিষয় হলো- বাংলাদেশর প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারকে আক্রমণ করা এবং দেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বাহিনীকে নিয়েও জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো।

কুখ্যাত গুপ্তচর ডেভিড বার্গম্যানের সাথে তাসনিম খলিলের উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন:

১৯৮৬ সালের সেপ্টেম্বরে ডেভিড বার্গম্যানকে গ্রেপ্তার করেছিল ভারত সরকার। তার বিরুদ্ধে ফরেনার্স এ্যাক্ট এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি এ্যাক্টে মামলা হয়েছিল। ভূপালে গ্যাস দুর্ঘটনার পর ইউনাইন কার্বাইডের পক্ষে জনগণকে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা করা হয়েছিল। পরে ব্রিটিশ দূতাবাসের সরাসরি হস্তক্ষেপে তাকে মুক্ত করে লন্ডনে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ নিয়ে ভারতের বিভিন্ন মহল ব্রিটিশ দূতাবাসের প্রতি প্রতিবাদ জানিয়েছিল তখন।

বাংলাদেশে ২০০৯ সাল থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্তদের বিচার শুরু হয়। সে সময় বার্গম্যান ঢাকায় অবস্থান শুরু করেন। বিতর্কিত ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা দ্য নিউ এজ এবং স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ইংরেজি বিভাগে চাকরি নেন তিনি।

মূল উদ্দেশ্য ছিল এই বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। তবে পরবর্তীতে অপেশাদার ও ঔদ্ধত আচরণের জন্য নিউ এজ পত্রিকার চাকরি যায় তার; আর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায়ে বিডিনিউজের সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীও বার্গম্যানকে বরখাস্ত করেন।

কুখ্যাত রাজাকার সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সে সময় বিচারের বিরুদ্ধে ও আন্তর্জাতিক লবিংয়ের জন্য পাকিস্থানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর শরণাপন্ন হন। তারা ব্রিটিশ নাগরিক বার্গম্যানকে এই দায়িত্ব দেয়। এরপর বার্গম্যান রাজাকারদের পক্ষে অফিসিয়ালি তদ্বির শুরু করেন।

আদালতে বসেই ফেসবুকে প্রোপাগান্ডা চালানোর সময় এক পর্যায়ে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশনের সাবেক বিচারপতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালনকারী এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এর আদালত বার্গম্যানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হন। এ সময় আদালত তাকে জেল এবং জরিমানা করে। সেই থেকে বাংলাদেশ পুলিশের খাতায় ডেভিড বার্গম্যান একজন সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী।

এর আগে ২০০৭ সালে বার্গম্যান টুয়েন্টি-টুয়েন্টি নামে লন্ডনের একটি টেলিভিশন প্রোডাকশন হাউজে কাজ করতেন। কিন্তু তাকে নানা অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদে মদদ দেয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংহতি বিনষ্ট করাসহ একাধিক অভিযোগ ওঠে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ৩টি দেশ- ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইতালিতে ডেভিড বার্গম্যান সন্দেহভাজন ব্যক্তি হিসেবে লাল তালিকাভুক্ত।

সাম্প্রতিক সময়ে বার্গম্যান লন্ডনে পলাতক বিএনপি নেতা তারেক রহমানের পক্ষে অর্থের বিনিময়ে কাজ শুরু করছেন। বাংলাদেশ সরকার বিরোধী নানা রকম প্রচারণা চালানো এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসব ছড়িয়ে দেয়াই তার প্রধান কাজ। লন্ডনে নিজেই একটি প্রোডাকশন হাউজ খুলেছেন ইহুদি বংশোদ্ভূত ডেভিড বার্গম্যান। তবে সেখান থেকে শুধু ‘অল দ্যা প্রাইম মিনিস্টার ম্যান’ এর মতই ভুয়া ফিকশন তৈরি করা হয়।

এই বার্গম্যান বিভিন্ন দেশে নিজেকে বাংলাদেশ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ বলে দাবি করেন! আন্তর্জাতিক দালাল বার্গম্যান নিজেকে ব্রিটিশ সাংবাদিক পরিচয় দিলেও লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের সঙ্গেও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলনেও দাঁড়িয়ে যান তারেক রহমানের পয়সা খেয়ে।

বার্গম্যান প্রায়ই বিভিন্ন মিডিয়ায় নিজেকে নিরপেক্ষ দাবি করলেও তার ব্যক্তি ও পারিবারিক পরিচয় সম্পর্কে জানা প্রাসঙ্গিক। তিনি ড. কামাল হোসেনের জামাতা। যে ড. কামাল বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় জোট বিএনপি-জামায়াতের প্রধান সমন্বয়ক। এ কারণেই বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে দীর্ঘ সময় লেখালেখি করে বিভ্রান্তি ছড়ান বার্গম্যান।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আক্রমণাত্মক প্রচারণার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে লবিংয়ের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করা হয়েছে, বিশেষ করে ওয়াশিংটন ও লন্ডনে; এসবের সঙ্গেও তিনি জড়িত। জামায়াত নেতা মীর কাশেম, যাকে পরবর্তীতে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়, নিজেকে রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ম্যানেজ করতে ২৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করেন।

খলিল-বার্গম্যান গং এর পেছনে বিএনপি-জামায়াতের বিপুল অর্থায়নের নেপথ্যে:

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, সরকার, প্রধানমন্ত্রী ও নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অপচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন মিশনে নেত্র নিউজ। এজন্য বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৫০০ কোটি টাকার ফান্ড পাচ্ছে বলে কয়েকটি সূত্র জানায়। বার্গম্যানের মধ্যস্থতায় ইতিমধ্যে ১০০ কোটি টাকা হাত বদল হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলাকালে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশবিরোধী প্রোপাগান্ডা চালানোর জন্য খলিল গংকে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার খরচ দিয়েছে বিএনপি-জামায়াত চক্র। গত বছর করোনাকালে বাংলাদেশে ২০ লাখ মানুষ প্রাণ হারাবে হবে বলে এক কাল্পনিক সংখ্যাতত্ত্ব দিয়ে বিশ্বমিডিয়ায় অপপ্রচার চালায় তারা।

এমনকি সরকার যখন মানুষের জান-মাল রক্ষায় বিভিন্ন প্রকল্প হাত নিয়েছে, তখন উগ্রবাদীদের উসকে দিয়ে দেশে অস্থিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রাণান্ত চেষ্টা করে এরা। পাশাপাশি ফেসবুক-ইউটিউবেও উসকানি ছড়াতে থাকে এদেরই আরেকটি অংশ। সেনানিবাস ও সেনাবাহিনী সম্পর্কে সিনেম্যাটিক স্টাইলে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে তরুণ সেনা কর্মকর্তাদের বিপথগামী করার সর্বোচ্চ অপচেষ্টা চালায় এই ষড়যন্ত্রীরা।

গোয়েন্দারা জানান, বাংলাদেশি দুজন বড় ব্যবসায়ীর সঙ্গে তাসনিম খলিলের বেশ কয়েকবার যোগাযোগের তথ্য পেয়েছেন তারা। এমনকি আরও এক অর্থদাতার সন্ধান মিলেছে। এসব বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান চলছে। পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী ও বিএনপি-জামায়াতপন্থী সাংবাদিককে।

২০১৬ সালের ১৯ এপ্রিল, লন্ডনের সেন্ট্রাল রোডের এক রেস্তোরাঁয় বার্গম্যানের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিএনপির পলাতক নেতা তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের লক্ষ্যে এক সমঝোতা হয়। বৈঠক শেষে তারেকের কাছ থেকে ৫০ হাজার ডলার পান বার্গম্যান।

এছাড়াও তাকে নিয়মিত অর্থ যোগানের প্রতিশ্রুতি দেন তারেক। ব্রিটিশ পরিচয় ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সংস্থাগুলোতে সহজেই পৌঁছাতে পারে বার্গম্যান, এ কারণেই তাকে আস্থাভাজন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গণ্য করে বিএনপি-জামায়াত চক্র।

তবে শুধু আন্ডারগ্রাউন্ড নিউজপেপারে গুজব ছড়িয়েই থেমে নেই ষড়যন্ত্রকারীরা। ইউটিউবার শিবির কর্মী ও রাজাকারপুত্র ইলিয়াস হোসেন, গুজব সাংবাদিক কনক সারোয়ার, বহিষ্কৃত এবং বিভিন্ন অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ও চাকরিচ্যুত কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা- কর্নেল শহীদ উদ্দীন খান, মেজর দেলোয়ার ও মেজর শহিদ এবং ফটোগ্রাফার শহীদুল আলম, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানরাও অনলাইনজুড়ে সরকারবিরোদী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এনইডি’র ছক অনুসারে।

আর এই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারী চক্রের সঙ্গে উগ্রবাদী বিএনপি-জামায়াত, হেফাজত ও ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলো একত্রে মিলে, অনলাইনে গুজব ও অপপ্রচার ছড়িয়ে দেশের সাধারণ মানুষকে উসকে, অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায় দেশে। তবে ধীরে ধীরে এসব হঠকারিতা প্রকাশ্য হয়ে পড়ছে।

উল্লেখ্য, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ করতে চেয়েছিল তার পরিবার। আইনি প্রক্রিয়ায় যদি খালেদার মুক্তি না হয় সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল বিকল্প। আন্তর্জাতিক লবিস্টদের নিয়োগ দিয়ে এবং প্রখ্যাত আইনজীবীদের পরামর্শে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন তারেক।

এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি ও আইনি পরামর্শ দেয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের আইনজীবী লর্ড কার্লাইল ও লবিস্ট ডেভিড বার্গম্যান এর কাজ করার কথা ছিলো। বিনিময়ে বার্গম্যান সে সময় তারেক রহমানের কাছে ১০ লাখ পাউন্ড দাবি করেন। যদিও পরবর্তীতে বিষয়টি ভেস্তে যায়।

করোনা ভাইরাস ও টিকা নিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি:

এই করোনাকালে মানুষের লাশের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ায় জন্য নিকৃষ্ট পরিকল্পনা ও অপপ্রচার চালাতেও দ্বিধা করেনি বার্গম্যান-খলিলরা। করোনার শুরুতে তারা বাংলাদেশে ২০ লাখ মানুষ প্রাণ হারাবে বলে গুজব ছড়ায়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণে এই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। মূলত তারা চেয়েছিল করোনা ইস্যুকে সরকার বিরোধিতায় রূপ দিতে।

এরপর টিকা নিয়েও প্রোপাগান্ডা চালায় তারা। তারা বলেছিল, সরকার টিকা আনতে পারবে না, তার আগেই লাখ লাখ মানুষ মারা যাবে। কিন্তু টিকা আসার পর তারা উগ্রবাদীদের মাধ্যমে গুজব ছড়ালো, এই টিকায় মাইক্রোচিপ এবং গোমূত্র মেশানো প্রভৃতি। মানুষ যাতে টিকা না নেয়, সেজন্য সর্বোচ্চ অপপ্রচার চালিয়েছে তারা। তারা চেয়েছিল, টিকা না নিয়ে মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে এসে সংক্রমণ ঘটাক, মৃত্যুর মিছিলে স্তব্ধ হোক বাংলাদেশ। যেন ব্যর্থতার দায় চাপে শেখ হাসিনার সরকারের কাঁধে।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি:

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া বানচাল করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে পাকিস্থানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। যদিও সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর করে সরকার।

সম্প্রতি আবারও বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে ন্যাক্কারজনক, বিকৃত ও আন্তর্জাতিকভাবে ধিকৃত লেখা প্রকাশ করা হয়েছে তাসনিম খলিল ও বার্গম্যানের প্রোপাগান্ডা ওয়েবসাইট নেত্র নিউজে।

সেখানে বলা হয়েছে- ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ রাতসহ পুরো মুক্তিযুদ্ধে কোনো গণহত্যা ঘটায়নি পাকিস্থানিরা, যুদ্ধকালের ৯ মাসে কোনো বাঙালি নারী ধর্ষণ এর শিকার হয়নি, ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যার মতো কোনো ঘটনাও ঘটেনি! এমনকি ৩০ লাখ শহিদ ও ১ কোটি মানুষের ভারতে আশ্রয় নেওয়ার মতো মানবেতর ঘটনাকেও তারা মানবিক বিপর্যয় বলে স্বীকার করেনি।

নেত্র নিউজে প্রকাশিত ওই লেখায় লাঞ্ছিত-নিপীড়িত বাঙালি নারীদের ‘অশিক্ষিত’ বলেও কটাক্ষ করা হয়েছে। অশিক্ষিত নারীদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। এসব লেখা লিখছেন বিতর্কিত লেখক শর্মিলা বসু।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই মার্কিন লেখক পাকিস্থানি গোয়েন্দা সংস্থা- আইএসআই’র সাথে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ইতিহাস বিকৃতি তার নতুন নয়। এ নিয়ে বিস্তর নোংরামি করছেন তিনি অনেক বছর ধরে। আর এ কারণে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সংবাদদাতা হিসেবে বাংলাদেশে কর্মরত প্রথিতযশা সাংবাদিকরা প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন শর্মিলাকে।

খলিল-বার্গম্যানদের যোগসাজশে নিজের লেখা বইয়ের সাফাই দিয়ে নেত্র নিউজে লেখা প্রকাশ করেন শর্মিলা। তার পূর্বপুরুষরা ভারতীয় হলেও, আমেরিকায় থাকাকালে এক পাকিস্থানি আন্ডারকভার এজেন্টের সঙ্গে প্রণয়ে জড়ান তিনি। এরপর থেকে আইএসআই’র সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন।

নেত্র নিউজে প্রকাশিক তার লেখায় শর্মিলা বসু দাবি করেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে কোনো গণহত্যা ঘটেনি। পাকিস্থানিরা গণহত্যা চালায়নি। উল্টো মুক্তিযোদ্ধাদেরই তিনি হত্যাকারী বলে দায় চাপিয়েছেন। এমনকি এই যুদ্ধে শহিদদের নিয়েও ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেছেন তিনি। তার দাবি, ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ৩০ লাখ লোক প্রাণ হারায়নি, বাঙালি ও পাকিস্থানি মিলিয়ে মাত্র সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ লোক প্রাণ হারিয়েছেন।

এমনকি এই যুদ্ধে পাকিস্থানি জান্তা কর্তৃক সংঘবদ্ধভাবে ৬-৮ লাখ নারীর ধর্ষণের ইতিহাসও অস্বীকার করেছেন তিনি। গবেষণা করে তিনি এসব তথ্য আবিস্কার করেছেন বলে দাবি করেন। এছাড়াও ‘চোরের সাক্ষী বাটপার’ প্রবাদকে সত্য প্রমাণ করতে তিনি বলেছেন- ব্রিটিশ নাগরিক ডেভিড বার্গম্যানও গবেষণা করে কয়েকটি স্থানে গণহত্যার তথ্য পাননি।

দীর্ঘদিন ধরে আইএসআই-এর অর্থায়ন ও দিকনির্দেশনায় শর্মিলা বসু এসব বিকৃত তথ্যে একটি অপাঠযোগ্য বই লিখলেও কোথাও পাত্তা পাননি। উল্টো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্বের সংবাদ সংগ্রহকারী আন্তর্জাতিকভাবে স্বনামধন্য সাংবাদিকরাও ধিক্কার জানিয়েছেন তাকে।

পলাতক তারেক রহমান, দুর্নীতিবাজ বিচারপতি এসকে সিনহা ও বিএনপি-জামায়াতের সুহৃদ ড. কামালকে একত্র করা হয় যেভাবে:

অর্থ পাচার এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে গ্রেনেড ছুড়ে হত্যা ষড়যন্ত্রের সাথে সরাসরি জড়িত থাকায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির ভাইস চেয়ারপারসন তারেক রহমান এই ডেভিড বার্গম্যানের সহায়তায় ড. কামালের সঙ্গে সরকারবিরোধী জোট গড়ে তোলেন। ড. কামালের জামাতা বার্গম্যান মূলত সরকারবিরোধীদের একই প্ল্যাটফর্মে আনার জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছেন।

দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত যে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিরুদ্ধে এখনও তদন্ত চলছে, সেই সিনহা যুক্তরাষ্ট্রে বসে এখন তারেক রহমান এবং ড. কামালদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন এবং অসাংবিধানিকভাবে সরকার পরিবর্তনের জন্য বিএনপি-জামায়াত জোটের পক্ষে কাজ করছেন।

ডেভিড বার্গম্যানই ড. কামাল, তারেক রহমান, এসকে সিনহার মধ্যে লিয়াজোঁ হিসেবে কাজ করছেন। কিন্তু এই ত্রয়ীর বিভিন্ন অপচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর, এখন তারা ভিন্ন আঙ্গিকে বিভিন্ন পাবলিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে, দেশের প্রধানমন্ত্রী, তাঁর পরিবার ও নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়ে মিথ্যা-বানোয়াট গুজব ছড়াচ্ছেন।

কুখ্যাত রাজাকার সাকা চৌধুরীর একান্ত আস্থাভাজন ডেভিড বার্গম্যান:

একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা কুখ্যাত রাজাকার সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর প্রচুর সম্পদ রয়েছে দেশের বাইরে। মাস দুয়েক আগে সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংক একাউন্টে তার সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার সন্ধান পায় দুদক এবং সরকারি একটি গোয়েন্দা সংস্থা। এছাড়াও যুক্তরাজ্যের লন্ডনেও রয়েছে তার অগাধ সম্পত্তি এবং কয়েকটি বাড়ি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, লন্ডনে রাজাকার সাকা চৌধুরীর ৩টি বাড়ি রয়েছে। সেই সাথে সেখানকার স্টক মার্কেটে বিপুল বিনিয়োগ এবং ব্যাংকে গচ্ছিত নগদ অর্থ। একটি বাড়ি ছাড়া বাকি এই সব সম্পত্তি দেখভাল করে এই রাজাকারের সন্তান হুকাচৌ- হুম্মাম কাদের চৌধুরী। লন্ডনের অভিজাত এলাকা নাইটব্রিজে রাজাকার সাকাচৌর অভিজাত বাড়িটিতে ২০১৮ সাল থেকেই আছেন যুদ্ধাপরাধীদের লবিষ্ট ডেভিড বার্গম্যান।

লন্ডনের প্রপার্টি ট্রান্সফার বিভাগের তথ্যে দেখা যায়, ডেভিড বার্গম্যান সেখানে থাকলেও বাড়ির মালিকানা এখনও রাজাকার সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নামে। সাকা চৌধুরীর ফাঁসির পর, তার স্ত্রী ফরহাত চৌধুরী বাড়িটি নিজ নামে হস্তান্তরের জন্য আবেদন করেন। যা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। প্রায় ৭ হাজার স্কয়ার ফুটের ঐ বাড়িটি বার্গম্যান ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন। তার প্রোডাকশন হাউজের কাজও পরিচালিত হয় সেখান থেকে।

বিভিন্ন দেশে বসে বাংলাদেশ বিরোধিতায় লিপ্ত ডেভিড বার্গম্যান:

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এ বছরের ২৭ জানুয়ারিতে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের সাউথ এশিয়ান সেন্টার ‘বঙ্গবন্ধু অ্যান্ড ভিশন্স অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনার আয়োজন করে। এতে মূল বক্তা ছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন, ঢাকা থেকে এ আলোচনায় যুক্ত হন অধ্যাপক রেহমান সোবহান।

সাউথ এশিয়া সেন্টার এ আলোচনার ঘোষণাটি দেওয়ার পরপরই ১৯ জানুয়ারি নেত্র নিউজে ডেভিড বার্গম্যান যে কলামটি লেখেন, সেখানে তিনি বলেন- লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের এ রকম একটি উদ্যোগ নেওয়া উচিত হয়নি। তিনি শেখ মুজিবের শাসনামল এবং শেখ হাসিনার রাষ্ট্র পরিচালনায় নানা বিষয় তুলে ধরে এ অনুষ্ঠান আয়োজনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।

বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা থেকে আগাম তথ্য জানার পরেও লন্ডনে অবস্থানকারী তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী ড. কামাল একে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং দেশের নিরাপত্তা সংস্থা কিংবা বঙ্গবন্ধুকেও জানানোর প্রয়োজন মনে করেননি।

এমনকি ১৫ আগস্টের নির্মম সেই হত্যাকাণ্ডের পর লন্ডনে প্রতিবাদ সভায় অংশ নিতে বলা হলেও ড. কামাল হোসেন পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান। ৮০’র দশকে শ্রীলঙ্কান দূতাবাসের নিমন্ত্রণে বঙ্গবন্ধুর দুই খুনির সাথে মদ্যপানরত অবস্থায় দেখা যায় এই ড. কামালকে। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে কখনই সাড়া-শব্দ না করা ড. কামালের মেয়ের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক গড়েন ইহুদি বংশোদ্ভূত ডেভিড বার্গম্যান।

বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে বা অন্য যে কোনো কারণেই হোক বার্গম্যান এতটাই বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারবিদ্বেষী যে, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ বিষয়ে একটি একাডেমিক আলোচনা অনুষ্ঠান নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে সোচ্চার হলেও ডেভিড বার্গম্যান অন্যের মত শুনতে চান না, অন্যকে নিয়ে আলোচনাও করতে দিতে চান না।

এশিয়ান সেন্টারের পরিচালক অবশ্য এ বিষয়ে বার্গম্যানকে যথাযথ জবাব দিয়েছেন এবং ২৭ জানুয়ারি আলোচনা অনুষ্ঠানটি সফলভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।

তাসনিম খলিল এবং ডেভিড বার্গম্যানের জীবনের অভীষ্ট লক্ষ্য বাংলাদেশ সরকারের পতন ঘটিয়ে বিদেশি তাঁবেদার কোনো একটি শক্তিকে ক্ষমতায় বসানোর নেপথ্যে চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করা। এজন্য সম্ভাব্য সকল ধরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। সাংবাদিকতার আড়ালে তারা একের পর এক মিথ্যা, প্রোপাগান্ডা ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাদের সকল মিথ্যা প্রতিবেদনকে বলা যায় ডিজইনফরমেশন আর ম্যালইনফরমেশনের মিশেল।

একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের টেক্সটবুক বিধান হচ্ছে- প্রতিবেদকের নৈর্ব্যক্তিক অবস্থান নিশ্চিত করা, উপস্থাপনায় নৈর্ব্যক্তিকতা বজায় রাখা। কারণ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো প্রামাণিক তথ্য ও দলিল। তথ্য বা দলিল দিয়ে প্রমাণ করা যায় না- এমন তথ্য পরিবেশন করে কাউকে দোষী প্রমাণের চেষ্টা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।

আবার সেই ব্যক্তি যদি প্রতিবেদনে বর্ণিত ব্যক্তি, দেশ বা গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষমূলক মনোভাব পোষণ করেন, তা হবে সাংবাদিকতার নৈতিকতার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। তাসনিম খলিল এবং ডেভিড বার্গম্যানের প্রতিবেদনগুলোতে নৈতিকতা ও বস্তুনিষ্ঠতার অভাব প্রকট।

পৃথিবীজুড়ে বাংলাদেশ বিষয়ে এত বিশেষজ্ঞ থাকতে বিশেষতঃ ডেভিড বার্গম্যান বা তাসনিম খলিলকেই কেন বিভিন্ন বিতর্কিত গণমাধ্যমে বাংলাদেশ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে হাজির করা হয়- এই রহস্য পাঠকদের কাছে পরিষ্কার নিশ্চয়। এই চক্রান্তকারীদের বিদ্বেষমূলক পক্ষপাতের অবস্থানও স্পষ্ট আশা করি। বিশ্বমানের কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতাই নেই তাদের।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!