‘নিজেরটা বাদ দিয়ে অন্যের গোপন লিংক খোঁজায় ব্যস্ত থাকে’

0

বিনোদন ডেস্ক:

চিত্রনায়িকা পরীমনিকে গ্রেপ্তারের পর থেকে তার মুক্তির দাবিতে বেশ সোচ্চার ছিলেন সঙ্গীত শিল্পী আসিফ আকবর। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল:

বছর পাঁচেক আগে সম্ভবত আজকের দিনেই ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল দেশে। একটু বেশীই কেঁপেছিলো আমার ম্যাচ বক্স টাইপ অফিসটা। দ্রুত সবাই বের হয়েছি চারতলা থেকে। এরমধ্যে একজন ভদ্রলোক মোজা পরছিলেন, তারপর জুতা পরার ফাস্টেস্ট চেষ্টা ছিল। আমি একটু অবাক হয়ে ভাবলাম লোকটা টেনশন নিচ্ছে না কেন!

পরে বুঝলাম একজন নিয়ম মানা লোক এই টাইপেরই হয়। নিয়ম তো আমিও মানি। না জেনে ভুল করলে সবার আগে ক্ষমা চেয়ে ফেলবো। অন্য কেউ কষ্ট পাওয়ার আগে নিজেকেই শুধরে নিবো। মাইন্ড সেট সবসময়ই পজিটিভ রাখি। কেউ মস্তানী করলে তিনবার সহ্য করি। সমাজে চলি, নানান চরিত্রের মানুষের সাথে চলাচল। কার মনের ভিতরে কোন কাহিনী সেটা কিভাবে জানবো!

পরিচিত কারো সাথে অচেনা মানুষ ঢুকে যায়। রাগ চেপে ভদ্রতার খাতিরে চিপায় ডেকে ওয়ার্নিং দিয়ে দেই। আমারও কাজ আছে, খুব মনসংযোগ প্রয়োজন হয়। যৌবনের উত্তাল সময়ে হাতের তালুতে থাকা ক্ষমতাগুলোর অপব্যবহারের চেষ্টাও করিনি ভুলে। আজকাল তো শুনি মফস্বলের কিছু নর্মাল ছাত্রনেতার হাজার কোটির নীচে আলাপই নাই।

গানের লোকজন নাকি ভোলাভালা অভিমানী হয়, সঙ্গে বিনয় প্লাস! আমি অনুপ্রবেশকারী গায়ক এলাকায়, মস্তানী করার ছোটখাটো অভিজ্ঞতা এবং ক্ষমতাও ছিল একসময়। গানের লোক হিসেবে প্রটোকল অনুযায়ী নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করি। ফেরেশতা নির্ভর এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটু কম বুঝি, নিজের মত লেখালেখি করি। আগে একটু ডেসপারেড ছিলাম, এখন কন্ট্রোল মজনু কন্ট্রোল, এই ফরম্যাটে চলি।

বিনোদনের মানুষ তো এই মূহুর্তে দেশের সবচেয়ে পাপী আইটেম। আমাদের জীবনটা আসলে যাত্রা প্যান্ডেলের মতই নিষিদ্ধ।

এতো সমস্যা থাকলে নাটক গান সিনেমা কবিতা বন্ধ করে দেয়া হোক। দেশটাকে অন্ধকার করে দেয়া লুটেরাগুলো আজ আলোকিত, মিডিয়া সাপোর্টও পাচ্ছে। তথাকথিত এলিটদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিতে রাষ্ট্র যেন কেমন কেমন করে। পরীমনি হচ্ছে এই মূহুর্তে দেশের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ক্রিমিন্যাল। ক্ষমতার ভোগে আর ভাগে থাকা হারামী বাকী দেবপুত্রদের মামলায় কোন প্রমানই পাওয়া যাচ্ছেনা।

কোন পূর্ববর্তী মামলা না থাকলেও ইস্যু প্রিয় মিডিয়ায় মুখরোচক আলোচনায় থাকেন শিল্পীরা। আবার দেশের বৃহৎ সামাজিক জনগোষ্ঠী নিজেরটা বাদ দিয়ে অন্যের গোপন লিংক খোঁজায় ব্যস্ত থাকে। আমি অধম ভেবেই পাইনা, দেশের সব ভাল মানুষের মাঝখানে এই সংস্কৃতির পাপী লোকজনকে কেন প্রকাশ্যে পিটিয়ে মেরে ফেলার আইন হয়না! নিউজে সব দেখি, বিচারের হিসাব মিলেনা। অভিশাপ আর অভিশপ্তরা রেললাইনের মত সমান্তরাল।

একদিন ছুটি হবে, অনেক দূরে যাবো, সেখানে তোমার কাছ থেকেও আমাদের কেউ না কেউ সব হিসাব নিবে সাধু! বিনোদনের মানুষদের দ্রুততম শাস্তি বিধানের জন্য দ্রুত বিচার ট্র্যাইবূন্যাল করা হোক। একবার আনন্দ নিবেন আরেকবার পৈশাচিক হয়ে যাবেন, এসব খেলা বন্ধ করুন।

আইনের দৃষ্টি সব নাগরিকের জন্য সমান হওয়াটাই ন্যায়বিচার। লাগাতার ভূমিকম্প হচ্ছে আমাদের ভূমিতে, মোজা পরতে পারার সুযোগটাই আসল অর্জন। নায়িকা নয়, আজ মানুষ পরীমনির ছবি দিতে পেরে আমি গর্বিত।

ভালবাসা অবিরাম…

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!