রাজারবাগ দরবারের সম্পদ ও জঙ্গি সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখার নির্দেশ

0

আইন আদালত ডেস্ক:

রাজারবাগ দরবার শরীফের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে দুদককে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এছাড়া দরবার শরীফের কর্মকাণ্ডে জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে কি না কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে ৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে হবে। রাজারবাগ দরবার শরিফের পীর ও তার মুরিদদের মধ্যে যারা মিথ্যা মামলার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে সিআইডিকে তদন্ত করে একই সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া দরবার শরিফের সকল সম্পদের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন হাইকোর্ট।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন মো. শিশির মনির।

এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর রাজারবাগ দরবার শরীফের পীর দিল্লুর রহমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী ৮ জন ব্যক্তির পক্ষে অ্যাডভোকেট শিশির মনির হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

রিটকারীদের মধ্যে শিশু, মহিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মাদ্রাসার শিক্ষক ও ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাদের প্রত্যেকেই রাজারবাগ দরবার শরীফের পীর ও তাদের মুরিদদের হয়রানিমূলক মামলার শিকার।

রিট আবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ও আইজিপিসহ মোট ২০ জনকে বিবাদী করা হয়।

উল্লেখ্য, পীর এবং তার মুরিদদের কর্মকাণ্ডে এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর আদালত বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। অন্যের জায়গা-জমি দখলের জন্য পীর দিল্লুর রহমান তার মুরিদদের দিয়ে ঢাকার শান্তিবাগের নিরীহ বাসিন্দা একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় ৪৯টি মামলা হয়।

এর মধ্যে অধিকাংশের মামলার বাদীর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এসব মামলায় বেশ কয়েক বছর জেলও খাটেন কাঞ্চন। এসব মামলা যে স্রেফ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, সে বিষয়ে নিশ্চিত হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মামলার পর মামলায় এক পর্যায়ে অতিষ্ট হয়ে হাইকোর্টে রিট করেন একরামুল আহসান। তার আবেদনের শুনানি নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশে সিআইডি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়।

সিআইডির সেই প্রতিবেদন দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে আদালত বলেন, পীর সাহেবের কাণ্ড দেখেন। জায়গা-জমি দখলের জন্য পীর সাহেবরা তাদের অনুসারী-মুরিদ দিয়ে কী করে দেখেন। যেখানে একটা মামলা দিলেই একজন মানুষের জীবন শেষ হয়ে যায়, সেখানে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এত মামলা! এটা তো সিরিয়াস ব্যাপার।

সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, একরামুল আহসান কাঞ্চনের ৩ ভাই এবং ১ বোন। ১৯৯৫ সালে তার বাবা ডা. আনোয়ারুল্লাহ মারা যান। রাজারবাগ দরবার শরিফের পিছনে ৩ শতাংশ জমির ওপর ৩ তলা পৈতৃক বাড়ি তাদের।

বাবার মৃত্যুর পর কাঞ্চনের বড় ভাই আক্তার-ই-কামাল, মা কোমরের নেহার ও বোন ফাতেমা আক্তার পীর দিল্লুর রহমানের মুরিদ হন। তবে রিট আবেদনকারী ও তার অপর ভাই ডা. কামরুল আহসান বাদলকে বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করেও ওই পীরের মুরিদ করা যায়নি।

এরই মধ্যে একরামুল আহসান কাঞ্চনের মা, ভাই ও বোনের কাছ থেকে তাদের পৈতৃক জমির অধিকাংশই পীরের দরবার শরিফের নামে হস্তান্তর করা হয়। আর একরামুল আহসান কাঞ্চন ও তার ভাইয়ের অংশটুকু পীর এবং তার দরবার শরিফের নামে হস্তান্তর করার জন্য পীর দিল্লুর এবং তার অনুসারীরা বিভিন্নভাবে চাপ দেন।

সম্পত্তি হস্তান্তর না করায় পীর দিল্লুর রহমান ও তার অনুসারীদের সঙ্গে একরামুল আহসান কাঞ্চনের শত্রুতা সৃষ্টি হয়। সে শত্রুতার কারণেই একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় হয়রানিমূলক মামলা করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় মোট ৪৯টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে জিআর মামলা ২৩টি এবং সিআর মামলা ২৬টি।

ইতিমধ্যে জিআর ১৫টি মামলা এবং সিআর ২০টি মামলায় আবেদনকারী আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন। বর্তমানে ১৪টি মামলা আদালতে বিচারাধীন। যার মধ্যে আটটি জিআর এবং ছয়টি সিআর মামলা রয়েছে।

অধিকাংশ মামলার নথিপত্র সংগ্রহের পর পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আবেদনকারীর বিরুদ্ধে একাধিক মানবপাচার, নারী নির্যাতন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, হত্যার চেষ্টা মামলাসহ প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি, ডাকাতির প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন ধর্তব্য ও অধর্তব্য ধারায় মামলা করা হয়েছে।

অধিকাংশ মামলার বাদী, সাক্ষী, ভুক্তভোগীরা কোনো না কোনোভাবে রাজারবাগ দরবার শরিফ এবং ওই দরবার শরিফের পীরের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!