আদালতের আক্ষেপ- হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে, দুদক ব্যস্ত শিক্ষকদের নিয়ে

0

আইন আদালত ডেস্ক:

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যকলাপে ক্ষোভ প্রকাশ করে হাইকোর্ট বলেছেন, একদিকে ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে আর শিক্ষকদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে দুদক। বৃহস্পতিবার কোচিং সেন্টার নিয়ে শুনানিকালে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও রাজিক আল জলিলের বেঞ্চ এ কথা বলেন।

আদালত বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বড় বড় রাঘববোয়ালদের ধরে এনে ছেড়ে দিয়ে স্কুল শিক্ষকদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে দুদক। যেখানে ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়ে যাচ্ছে, সেখানে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকরা স্কুলে যাচ্ছেন কি যাচ্ছেন না তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তারা।

দুদক দুর্নীতিবাজ রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না উল্লেখ করে আদালত বলেন, ছোট দুর্নীতির আগে বড় বড় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। তবেই দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব হবে।

দুদকের হটলাইন: অভিযোগ করুন সরাসরি (টোল ফ্রি)

দুদকের ৩ ডিজিটের হটলাইন সেবা চালুর ফলে বদলে গেছে অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় যেখানে যখনই দুর্নীতির ঘটনা ঘটবে, সেখান থেকে তখনই অভিযোগ করা যাবে এমন সুবিধা নিয়ে কমিশনে চালু হয়েছে কল-সেন্টার বা হটলাইন। এই হটলাইনে চাইলেই দুর্নীতির শিকার যে কেউ মোবাইলে বা ফোনে অভিযোগ দিতে পারবেন। দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে অভিযোগকারী ওই নম্বরে যে কোনো অপারেটর থেকে সার্ভিস চার্জ ছাড়াই ২৪ ঘণ্টা দুর্নীতিসংশ্লিষ্ট অপরাধের সরাসরি অভিযোগ করতে পারবেন। একইসাথে নিতে পারবেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইনি পরামর্শ।

টোল ফ্রি হটলাইন ১০৬-তে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অভিযোগ জানানো যাবে। এ জন্য কোনো খরচ করতে হবে না কাউকে।

তথ্যদাতার পরিচয় গোপন থাকবে

দুদক থেকে অভিযোগ দায়ের করার বিষয়ে জানানো হয়েছে- এখানে অভিযোগকারী যে কোন মোবাইল ফোন থেকে ১০৬ এ ফোন করে তার অভিযোগ জানাতে পারবেন। একাধিক ব্যক্তি একই সঙ্গে অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগকারীর নাম ও পরিচয় গোপন রাখা হবে, অভিযোগকারী চাইলে তার বক্তব্য রেকর্ড করা যাবে।

হটলাইনের সুবিধা সম্পর্কে দুদক থেকে জানানো হয়েছে, জনগণের সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রত্যক্ষ সংযোগ স্থাপন, দ্রুত দুর্নীতির তথ্য, প্রমাণ প্রাপ্তি, দুর্নীতির ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই অথবা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে এমন অভিযোগ পেলে তাৎক্ষনিক প্রতিকার বা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। দুর্নীতির ঘটনা ঘটার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি এবং কমিশনের প্রতি জনআস্থা সৃষ্টি ইত্যাদি।

শেয়ার করুন !
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply