বাংলাদেশে ফিরতে আগ্রহী নন জাইমা

0

স্পেশাল করেসপন্ডেন্স:

এমনিতে দলের ভঙ্গুর অবস্থা, দলীয় চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দণ্ডের কারণে সরাসরি রাজনীতি করতে পারছেন না। নির্বাচনের রাজনীতিতে ধরাশায়ী বিএনপি। জনসমর্থন প্রায় শূন্যের কোঠায়।

এমতাবস্থায় তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ বিএনপির শুভাকাঙ্খীদের চাওয়া তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান যেন দেশে ফিরে এসে দলের হাল ধরেন। কিন্তু সবার চাওয়া-পাওয়া তো এক নয়; জাইমা চান না যুক্তরাজ্যের বিলাসী জীবন রেখে বাংলাদেশে এসে বিএনপির একপাল মূর্খ নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজনীতি করতে।

জানা গেছে, ইংল্যান্ডেই রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী জাইমা। তবে যুক্তরাজ্যে বসবাসের কাগজপত্র নিয়ে জটিলতা থাকায় জাইমার স্বপ্ন পূরণে বাধা রয়েছে অনেক। তবে শেষ পর্যন্ত রাজনীতির সুযোগ না পেলে লন্ডনে আইন পেশায় মনোনিবেশ করতে চান তিনি।

এরপরেও দেশে ফিরতে চান না জাইমা। দেশের রাজনীতিতে বিএনপি এখন অস্তমিত সূর্যের ন্যায়। সুতরাং বিএনপির রাজনীতিতে জড়ানো মানে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়া। এমতাবস্থায় দেশে ফিরে বিএনপির রাজনীতি করতে চাইছেন না তিনি। বরং যুক্তরাজ্যে থেকে রাজনীতির সুযোগ খুঁজছেন জিয়া পরিবারের সর্বোচ্চ শিক্ষিত এই তরুণী।

যদিও দেশের রাজনীতিতে অংশ নেয়ার বিষয়ে জাইমা রহমানের এমন প্রাথমিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি জেনে কিছুটা চিন্তায় পড়েছেন তারেক-জোবায়দা দম্পতি।

লন্ডনভিত্তিক একাধিক সূত্র বলছে, নিজে ফিরতে না পারলেও তার প্রতিনিধি হিসেবে জাইমাকে দেশে পাঠাতে মনস্থির করেছিলেন তারেক রহমান। খালেদা জিয়া যেমন বিএনপিকে পুনর্গঠিত করেছিলেন, জাইমাও একই কায়দায় বিএনপিকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলবে- এমনটাই স্বপ্ন দেখেছিলেন তারেক।

আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীদের কদর বেশি, সেই হিসেবে জাইমা ছিলেন তারেকের শেষ অস্ত্র। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে জাইমার কোনো আগ্রহ না থাকায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন তারেক-জোবায়দা।

বিষয়টি আঁচ করতে পেরে খালেদা জিয়াও কিছুটা মনঃক্ষুণ্ণ বলে জানা গেছে। তৃতীয় প্রজন্মের কেউ বিএনপির প্রতি আগ্রহী না হওয়ায় ক্ষোভও আশার প্রদীপটাও নিভে গেছে বলে মত জিয়া পরিবারের।

তবে ইংল্যান্ডে তারেকের বিতর্কিত অবস্থান, বিনিয়োগ ও দণ্ডের বিষয়গুলো বিবেচনায় জাইমার রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই বলে মনে করছেন দেশটিতে অবস্থানকারী বাংলাদেশিরা।

তারা বলছেন, জিয়া পরিবারের কোনো সদস্য চাইলেই ব্রিটিশ রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবেন না। রিফিউজি কোটায় ব্রিটেনে বসবাসকারীদের বসবাসের সুযোগ থাকলেও সে দেশের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সেই সুযোগ নেই। জাইমার ডিগ্রি থাকলেও যোগ্যতা না থাকায় ব্রিটিশ রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যাবে। বাংলানিউজব্যাংক।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!