আলোচনায় আওয়ামী লীগের তিন কেন্দ্রীয় নেতা

0

স্পেশাল করেসপন্ডেন্স:

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতা কে হবেন, আরো সহজভাবে বললে আওয়ামী লীগের আগামী সাধারণ সম্পাদককে কে হবেন এ নিয়ে আওয়ামী লীগের নানামুখী আলোচনা চলছে। আওয়ামী লীগে একটি আগাম কাউন্সিলের সম্ভাবনার কথা যেমন আলোচিত হচ্ছে, তেমনি নির্বাচনের আগে দলের নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন কথাও শোনা যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ তার সাংগঠনিক কার্যক্রম নতুন করে শুরু করেছে করোনার প্রকোপ কমে যাবার সাথে সাথেই। সারা দেশের জেলা সম্মেলনগুলোর কাজে হাত দেওয়া হয়েছে এবং চলতি ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা সম্মেলন শেষ হবে। এরপর পর আওয়ামী লীগ কাউন্সিল এর দিকে যাবে বলে দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার মতে, নির্বাচনকে মাথায় রেখে আগাম কাউন্সিল করতে পারে আওয়ামী লীগ। কাউন্সিল ঘিরে মূল আলোচনাটি হয় দলের সাধারণ সম্পাদক কে হবেন। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দুই মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, কাজেই ৩য় মেয়াদে তার না থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

এর মধ্যে দলের ভেতরেই নানামুখী আলোচনা চলছে। তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নিজের হাতে কয়েকজন নেতাকে তৈরি করছেন এবং তাদের মধ্যে ভাগ্যবান ৩ জন রয়েছেন যারা একসাথে দলের নেতৃত্ব এবং মন্ত্রিত্ব উপভোগ করছেন।

এই ৩ নেতাকে নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে নানামুখী আলোচনা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সভাপতির আস্থাভাজন হিসেবে এরা দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। এদের মধ্য থেকেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হবেন কি না এ নিয়েও গুঞ্জন চলমান। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও দলের যে তিনজন ভাগ্যবান নেতা মন্ত্রী এবং নেতৃত্বে আছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন-

১. ড. আব্দুর রাজ্জাক: ড. আব্দুর রাজ্জাক রাজনীতিতে এসেছেন পেশাজীবী হিসেবে। তিনি সরকারি চাকরি করতেন। ১৯৯৬ সালের যে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিল, তখন তিনি সরকারি চাকরিতে ছিলেন, ছিলেন স্বভাবজাত নেতা। এরপর আওয়ামী লীগে তার উত্থান রূপকথার মতোই।

তিনি যেন আওয়ামী লীগে এলেন, দেখলেন, জয় করলেন। ড. আব্দুর রাজ্জাক ২০০১ সালের নির্বাচনে আবুল হাসান চৌধুরীর আসনে প্রথম মনোনয়ন পান এরপর তিনি ২০০৮ সালে মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তবে ২০১৪ সালে মন্ত্রিত্ব না পেলেও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে চলে আসেন। এখন তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং গুরুত্বপূর্ণ কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

মনে করা হয়, আওয়ামী লীগ সভাপতির বিশেষ আস্থাভাজন হওয়ার কারণেই চট জলদি তিনি আওয়ামী লীগের মতো একটি দলে দ্রুত নেতৃত্বের শীর্ষ পদ পেয়েছেন।

২. ড. দীপু মনি: ড. দীপু মনির উত্থান ও আওয়ামী লীগে রূপকথার মতোই। আইভি রহমানের মৃত্যুর পর সবাইকে অবাক করে দিয়ে ড. দীপু মনি আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হন। এরপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১/১১’র সময় কঠিন পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হন। শেখ হাসিনার পক্ষে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ড. দীপু মনি।

এটাই তার রাজনৈতিক জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনয়ন পেয়ে প্রথমবারের মতো এমপি হন এবং সেবারই আওয়ামী লীগ সরকারে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। এখন তিনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে তার সত্যিকারের দক্ষতা বলে সুধীজনেরা স্বীকার করেন, তা হলো শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন বিষয়ে। অতীতের অনেক শিক্ষামন্ত্রীর চাইতে তাকে সফল বলে ধরা হচ্ছে এখন। শিক্ষা ব্যবস্থার সত্যিকারের গুণগত পরিবর্তনে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক প্রশংসিত তিনি। ২০১৪ সালে মন্ত্রিত্ব না পেলেও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

৩. ড. হাছান মাহমুদ: ড. হাছান মাহমুদও আওয়ামী লীগ সভাপতির আরেকজন আস্থাভাজন নেতা। তিনিও দ্রুত রাজনীতিতে সামনের সারিতে চলে এসেছেন। ছাত্রজীবনে রাজনীতি করার পর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে আসার পর তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে আবার সম্পৃক্ত হন।

এ সময় তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতির ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১/১১’র পর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করেন। নির্বাচিত হয়েই প্রতিমন্ত্রী এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বন-পরিবেশের পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

২০১৪ সালে মন্ত্রিত্ব না পেলেও তিনি আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। এবার নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। একইসাথে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মত সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন।

এই তিন নেতাই শেখ হাসিনার বিশেষ নজরে রয়েছেন। সে কারণেই তারা দলের পদ এবং মন্ত্রিত্ব দুটোই পেয়েছেন। তাহলে কি আওয়ামী লীগের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক তাদের মধ্যে কেউ হবেন? এই প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘুরপাক খাচ্ছে। বাংলাইনসাইডার।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!