‘আন্দোলনের আগে পাসপোর্ট জমা দিতে হবে, থাকতে হবে ফিটনেস’

0

স্পেশাল করেসপন্ডেন্স:

দ্বিতীয় দফায় বিএনপির ধারাবাহিক বৈঠক শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় দফা বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এই বৈঠকে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের মতামত নেয়া হচ্ছে। গতকাল বৈঠকে লন্ডন থেকে যুক্ত হন বিএনপির দণ্ডিত ও পলাতক সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

দ্বিতীয় দফা বৈঠকেও আন্দোলনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। নির্বাহী কমিটির সদস্যগণ এবং জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি তারা এও বলেছেন যে, আন্দোলন করতে গেলে সঠিক নেতৃত্ব দরকার। এখন যে নেতারা আছেন তারা আন্দোলনের অনুপযুক্ত বলে মন্তব্য করেন কেউ কেউ।

তারা বলেছেন, আন্দোলনের আগে ঠিক করতে হবে বিএনপি আসলে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত কি না এবং নেতৃবৃন্দ আন্দোলন করতে কতটুকু সক্ষম। তারা তৃণমূলকে জাগিয়ে তুলে সঠিক লক্ষ্যের দিকে দলকে নিয়ে যেতে পারঙ্গম কি না।

ঢাকার বাইরের একজন নেতা বলেছেন, আন্দোলনের আগে আমি দুটি শর্ত দিতে চাই। প্রথম শর্ত হলো, আন্দোলনের আগে নেতাদের শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা দিতে হবে, তারা যে আন্দোলনের ব্যাপারে সত্যি সত্যি আগ্রহী সেটি প্রমাণ করতে হবে এবং তাদেরকে সুস্থ থাকতে হবে।

ওই নেতা আরও বলেন, বিএনপির অনেক নেতাই অসুস্থ। তারা বিভিন্ন রোগ-শোকে ভুগছেন, আন্দোলন করতে অক্ষম তারা। এজন্য তিনি প্রথমে সব নেতার হেলথ চেকআপের প্রস্তাব করেন। তাতে যদি দেখা যায়, তারা রোগহীন তাহলে সেক্ষেত্রে কেবল তাদেরকে আন্দোলনের জন্য নেয়া যেতে পারে। আর যারা অসুস্থ তাদেরকে মর্যাদা সহকারে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান ওই জেলার নেতা।

ওই জেলার নেতা দ্বিতীয় প্রস্তাবে বলেন, আন্দোলনের আগে সব নেতাতে স্ব স্ব পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, অনেক সময় দেখা যায়, আন্দোলনের ডাক দিয়েছে নেতারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান, সেটি হবে না। পাসপোর্ট জমা দিয়ে আন্দোলন করতে হবে।

মূলত এই বৈঠকের শুরুর দিনই দলের স্থায়ী কমিটির সিনিয়র নেতারা তোপের মুখে পড়েন। বিশেষ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভূমিকা নিয়ে নানা রকম কথাবার্তা বৈঠকে হচ্ছে।

দলে জেলা পর্যায়ে এবং নির্বাহী কমিটির নেতারা বলছেন, বিএনপি কি এতই দুর্বল যে একটি আন্দোলন করতে পারে না! আন্দোলনে ভয় কিসের?

জেলা কমিটির এক নেতা বলেন, আমার বিরুদ্ধে ৪৮টি মামলা রয়েছে, আরও মামলা হবে। তাই বলে যদি আমরা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াই সেটি আমাদের জন্য হবে অবিবেচকের। আন্দোলন করার জন্য আগে নেতৃত্ব ঠিক করতে হবে।

জনগণ আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত- উল্লেখ করে নির্বাহী কমিটির একজন সদস্য বলেন, আমরা কি কর্মসূচি দিচ্ছি সেটি আগে দেখতে হবে।

তবে আন্দোলন শুরুর আগে সাংগঠনিক শক্তি পুনর্বিন্যাস করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন কয়েকজন নেতা। তারা বলেন, কৃষক লীগের কমিটি দেওয়া হয়েছে আংশিক। ১২ জনের কমিটি দিয়ে একটি সহযোগী সংগঠন কীভাবে চলবে। পুরো কমিটি কেন ঘোষণা করা হচ্ছে না? কমিটি ঘোষণা করতে কেন এত দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগতে হয় সে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

তারা আরও বলেন, বিভিন্ন জেলায় যারা আন্দোলন করতে সক্ষম এমন নেতাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে, তাদেরকে দায়িত্ব দিতে হবে। তাদের নেতৃত্বেই আন্দোলন করতে হবে।

এবার যদি আন্দোলন না করতে পারে তাহলে ভবিষ্যতে বিএনপির অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলেও কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন। বাংলাইনসাইডার।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!