নিজস্ব প্লেনে যাওয়ার কারণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

0

সময় এখন ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ড্রিমলাইনার প্লেনে করে দু’টি কারণে নিউইয়র্কে এসেছি। প্রথম কারণ হচ্ছে- অন্য এয়ারলাইন্সের পরিবর্তে দেশি এয়ারলাইন্সকে অর্থ দেওয়া, এতে আমাদের অর্থ আমাদের হাতেই থেকে যায়।

দ্বিতীয়ত হলো- প্লেন উড্ডয়ন না করলেও প্রতিদিন একটি বিরাট অংকের টাকা খরচ হয়। এমনিতেই করোনা ভাইরাসের কারণে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো স্থগিত রয়েছে। তাই নিজস্ব প্লেনে এসেছি।

নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া এয়ারপোর্টের ম্যারিয়ট হোটেলে আওয়ামী লীগের ইউএস চ্যাপ্টার আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন শেখ হাসিনা।

তার সরকার ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে পুনরায় ফ্লাইট পরিচালনার একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা জানান, কোনো কোনো মানুষকে এ কথাও বলতে শুনেছেন যে, তারা বস্তা ও ট্রাঙ্কভর্তি করে নিউইয়র্কে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী এ অভিযোগকারীদের কাছে জানতে চেয়েছেন, বস্তা ও ট্রাঙ্কগুলো তবে গেল কোথায়?

তিনি সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চান, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে ১৫০টি স্যুটকেসে অর্থভর্তি করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন এবং সৌদি আরবের লকার ভাড়া করে ওই অর্থ রেখেছেন। তার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরকে কয়েক লাখ ডলারসহ যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারপোর্টে আটক করা হয় এবং পরে বাংলাদেশি দূতাবাসের মধ্যস্থতায় তাকে মুক্ত করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা বাংলাদেশের সুনাম নষ্ট করছে তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। বিদেশে অবস্থানরত কিছু লোক (সরকারের) সমালোচনা এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ব্যস্ত, এমন সময়ে তারা এসব করছে, যখন আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে গেছে। যারা এসব করছে তারা দেশের জনগণের শত্রু।

কেউ যাতে দেশে মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতি ভোগের জন্য নয়, আত্মত্যাগের জন্য। জিয়া, এরশাদ এবং খালেদা জিয়া কখনও জনগণের কল্যাণের কথা ভাবেননি, তারা ক্ষমতাকে ভোগ এবং দ্রুত অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসাবে বিবেচনা করতেন।

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হয়ে উঠেছে। কিছু মানুষ আওয়ামী লীগ সরকারকে অবৈধ হিসেবে আখ্যায়িত করছে। আমার প্রশ্ন হলো, তারা কীভাবে এ কথাগুলো বলার সুযোগ পায়?

তিনি আরও বলেন, তারা তার সরকারের তৈরি ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগের সমালোচনার সুযোগ পাচ্ছে। যদি তাদের কোনো আদর্শ থাকে, তারা কখনই তা করতে পারে না। যারা সরকারের সমালোচনা করছে তারা মূলত বিএনপি-জামায়াত চক্রের কেনা গোলাম।

শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান এবং এরশাদ সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতায় এসেছিলেন এবং হাইকোর্ট তাদের সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন।

খালেদা জিয়া এতিমদের অর্থ আত্মসাতের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং তার ছেলে (তারেক রহমান) ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। দুর্নীতিতে তাদের জড়িত থাকার তথ্যপ্রকাশ করেছে এফবিআই।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!