মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় গ্রেপ্তার রাজাকার শহীদুল্লাহ

0

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় অভিযুক্ত রাজাকার শহীদুল্লাহ ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পুলিশ গ্রেপ্তার করে তাকে আদালতে সোপর্দ করে।

ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার কাকনহাটি গ্রামের বাসিন্দা রাজাকার শহীদুল্লাহ ফকির (৭২)। তিনি ওই গ্রামের প্রয়াত মৌলভী কমর উদ্দিন ফকিরের ছেলে। বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জ হলেও তিনি ঢাকার বনানী এলাকায় একটি বাসায় বসবাস করতেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২০ সালের ২ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগটি তদন্ত করে ট্রাইব্যুনাল।

পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার কালীবাড়ি রোড থেকে ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক শাওন চক্রবর্তী তাকে গ্রেপ্তার করে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল কাদের মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

ভয়ংকর মাদক আইস-ইয়াবাসহ আটক ৫

ভয়ংকর মাদক আইস। যাতে ঝুঁকে পড়ছেন আসক্ত তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সীরা। ব্যবহার বাড়তে থাকায় মাঝে মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এই মাদক।

সবশেষ বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৬০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, ১ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা ও দুটি প্রাইভেট কারসহ ৫ জনকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তেজগাঁওয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো-উত্তরের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিভাগের প্রধান ও অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ২১ আগস্ট আমরা প্রায় আধা কেজি আইসসহ বনানী-উত্তরা কেন্দ্রিক ১০ সদস্যের একটি নেটওয়ার্ককে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই।

এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন গোয়েন্দা কৌশল ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুলশান, ভাটারা, কুড়িল, রমনা এলাকায় আইসের আরও একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ককে আমরা শনাক্ত করতে সক্ষম হই।

এরপর গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে রমনা এলাকা থেকে জাকারিয়া আহমেদ অমনকে (৩২) ৫ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইসসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

জাকারিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুলশান থানাধীন বারিধারা দূতাবাস এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তারেক আহম্মেদকে (৫৫) ৫ গ্রাম আইস ও ১০০ পিস ইয়াবা এবং একটি প্রাইভেটকারসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

জাকারিয়া ও তারেকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সাদ্দাম হোসেনকে (৩১) ৯০ গ্রাম আইস ও ৪০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে শহীদুল ইসলাম খানকে (৪৮) একই এলাকা হতে ২শ গ্রাম আইস ও ৫০০ পিস ইয়াবা এবং একটি প্রাইভেটকারসহ গ্রেপ্তার করা হয়। ভাটারার জোয়ার সাহারা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মো. জসিম উদ্দিনকে (৫০) ২৬০ গ্রাম আইস ও ২০০ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

আসামিদের কাছ থেকে মোট ৫৬০ গ্রাম আইস ও ১ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা এবং দুটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য কোটি টাকার বেশি।

তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত ২০২০) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত ঢাকায় জব্দ হওয়া আইসের সবচেয়ে বড় চালান।

ফজলুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি, প্রত্যেকের একে অপরের সাথে কোনো না কোনোভাবে মাদক সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ রয়েছে।

আইস কীভাবে বাংলাদেশে আসছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইয়াবার মতোই সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে মিয়ানমার থেকে আসছে আইস। রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে আসে, বাংলাদেশি কারবারীদের মাধ্যমে হাত বদলে আসছে।

ফজলুর রহমান বলেন, আইসকে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে ইয়াবা ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীরা। তারা কৌশল বদলে ফেলছে। গভীর সমুদ্রেও আইসের চালান হাত বদলে যাচ্ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, র‍্যাব, পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও চেষ্টা করছে। আমরা নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ও গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছি।

জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের বরাতে ফজলুর রহমান বলেন, প্রত্যেকেই সচ্ছল পরিবারের সন্তান। প্রাথমিকভাবে আমরা জেনেছি বন্ধু-বান্ধবদের মাধ্যমে তারা আইসে জড়িয়েছেন।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!