শেখ হাসিনাকে নিয়ে মাহফুজ আনামের হলুদ সাংবাদিকতার নমুনা

0

স্পেশাল করেসপন্ডেন্স:

১/১১ বাংলাদেশের রাজনীতির এক সংকটকাল। সুশীল সমাজ নিয়ন্ত্রিত সেনা সমর্থিত সরকার ক্ষমতা দখল করে। এরপর শুরু হয় রাজনীতিকে কলুষিত করার ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্রে নেতৃত্ব দেয় প্রথম আলো এবং ডেইলী ষ্টার গোষ্ঠী।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সেই ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে গ্রেপ্তারের পটভূমি তৈরী করতে প্রথম আলো, ডেইলী ষ্টার গোষ্ঠী নোংরা হলুদ সাংবাদিকতা শুরু করে।

মাহফুজ আনাম সম্পাদিত ডেইলী ষ্টারে ৩ জুন ২০০৭ সালে এই অসত্য সংবাদটি প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে মাহফুজ আনাম নিজেই স্বীকার করেছেন এই প্রতিবেদনটি মিথ্যা ছিলো।

এখন মাহফুজ আনাম এবং প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান গং আবার বিরাজনীতিকরণের ষড়যন্ত্রে নেমেছে। একারণে ২০০৭ সালের রিপোর্টটি হুবহু প্রকাশ করা হলো-

শিল্পপতিদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নিতেন হাসিনা: যৌথ বাহিনীকে জলিল

আটককৃত হাই প্রোফাইল রাজনীতিক এবং ব্যবসায়ী নেতারা টাস্কফোর্স ফর ইনভেস্টিগেশন (টিএফআই)-কে তাদের দুর্নীতির বিষয়ে চমকপ্রদ তথ্য দিচ্ছেন।

তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা এবং সরকারি মন্ত্রীরা নির্বাচনের সময় দেদারসে মনোনয়ন বাণিজ্য করেন। তারা সরকারি ব্যবসায়িক চুক্তির বিনিময়ে ব্যবসায়ী ও বিদেশি সংস্থাগুলোর কাছ থেকেও নিয়মিত টাকা লেনদেন করেন।

এমনকি সন্দেহভাজন অপরাধীদের বাঁচানোর বিনিময়ে তাদের কাছ থেকেও চাঁদা নেন নেতারা।

সূত্র জানায়, হাই-টেক ফ্রিগেট ক্রয় কেলেঙ্কারির মামলায় আটক এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টুকে আওয়ামী লীগ (আওয়ামীলীগ) সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সাক্ষী করা হতে পারে।

মিন্টু জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, এই চুক্তি বন্ধ করার জন্য কোরিয়ান সংস্থা দেউবু শেখ হাসিনাকে ১ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছে। এই টাকাটা যে অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হয়েছিল, সেটা শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী দলীয় কাজে ব্যয় করা হতো বলে অনুমান করেন মিন্টু।

সূত্র আরও জানায়, আটক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল টিএফআই-কে বলেছেন যে, তার দলের প্রধান হাসিনা নিয়মিত বেশ কয়েকজন শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নিতেন।

যে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি বা আন্দোলন চালুর আগে তিনি ওই ব্যবসায়ীদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পেতেন বলেও জানান জলিল।

মূলত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এসব বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করে জনমনে একটি নেতিবাচক ইমেজ তৈরির প্রয়াস ছিল ডেইলি স্টার এবং প্রথম আলো গোষ্ঠীর। যদিও পরবর্তীতে সেনা সরকারের সময়েই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ হয়। যেসব ব্যবসায়ীকে বানোয়াট সাক্ষী বানানো হয়েছিল, তারাও স্বীকার করেন- এ সবই মিথ্যা।

সেই মিথ্যা মামলায় শেখ হাসিনাকে ফাঁসাতে ব্যর্থ হওয়ার পরেও মাইনাস টু ফর্মূলার প্রবক্তরা শেখ হাসিনাকে সাবজেলে স্লো পয়জনিংয়ের মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা চালায়। খাবারের সাথে মেশানো বিষে আক্রান্ত শেখ হাসিনা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি জেলের খাবার গ্রহণ বন্ধ করে দেন।

তাঁকে বাড়ি থেকে মুড়ি চিড়া কলা পাঠানো হতো। তিনি বন্দি থাকা অবস্থায় সেসব খেয়ে কোনোমতে দিন পার করেছেন। এমনকি চিকিৎসার নামে দেশ ছাড়ার প্রস্তাবও ঘৃণার সাথে প্রত্যাখ্যান করেন। শেখ হাসিনার কঠোর এবং অটল মানসিকতার বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্রই কার্যকর হয়নি। ফলশ্রুতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ তুলে নিয়ে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!