ইভ্যালির কাছ থেকে বিভিন্ন সুবিধাপ্রাপ্তদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের দাবি

0

সময় এখন ডেস্ক:

ইভ্যালির কাছে গ্রাহকদের পাওনা হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাবে এখন জমা ৩০ লাখ টাকা।

পাওনা টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে গ্রাহক চিন্তিত, সরকার বিব্রত। এমন বাস্তবতায় টাকা উদ্ধারে নতুন ফর্মুলা দিলেন দেশে ব্যবসা নিয়ে কাজ করা বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার তানজীব–উল-আলম।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) উদ্যোগে আয়োজিত এক ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে তিনি এ ফর্মুলা দেন।

তানজীব বলেন, পাওনা পরিশোধের একটি উপায় আছে। ইভ্যালিকে দীর্ঘদিন দেশে নানাভাবে প্রমোট করা হয়েছে। সেটি হয়েছে সরকারি-বেসরকারিভাবে। তাই এ সময়ে যারা ইভ্যালির কাছ থেকে বিভিন্ন সময় নানাভাবে সুবিধা নিয়েছে, তাদের কাছ থেকেই সেই টাকা উদ্ধার করতে হবে, যা গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেয়া যেতে পারে।

কিন্তু কোনোভাবেই গ্রাহকের পাওনা পরিশোধের দায় সরকারের হতে পারে না। সরকার জনগণের করের টাকা থেকে সে দায় পরিশোধ করতেও পারে না। সেটি সাংবিধানিকও হবে না।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রেহমান সোবহান, জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন, বিডি জবসের প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মাশরুর,

চালডাল ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিম আলিম, শপআপের চিফ অব স্টাফ জিয়াউল হক, অ্যাসিক্স বিডির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফসানা আসিফ, ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহিদ তমালসহ অনেকে।

ইভ্যালি নিয়ে ব্যারিস্টার তানজীব বলেন, ইভ্যালির লেনদেন হয়েছে অনলাইনে। তাদের কাছ থেকে কারা কত টাকা নিয়েছে সেগুলো নিশ্চয়ই অনলাইন লেনদেনের হিসাবে ডকুমেন্ট রয়ে গেছে। মোটা দাগে আমরা ক্রিকেট বোর্ডে ইভ্যালিকে স্পন্সর হতে দেখেছি। সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থাও টাকা নিয়েছে। গণমাধ্যমেও এর বিজ্ঞাপন প্রচার হয়েছে।

‌এসব খাতে লেনদেনে অস্বাভাবিকতা খতিয়ে দেখা যেতে পারে। তবে এ ধরনের ডিটেইল তদন্ত করতে হলে সবার আগে ইভ্যালিতে একজন লিক্যুইডিটর নিয়োগ দিতে হবে। সেটি নিয়োগ দিতে পারে একমাত্র আদালত। আদালত সেটি স্বেচ্ছায় করতে পারবে না।

পাওনা উদ্ধার প্রক্রিয়ার উপায় হিসেবে ক্ষতিগ্রস্তরা আদালতে রিট করতে পারেন। তখন আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।

তানজীবের দাবি, এ প্রক্রিয়া পাওনাদারদের সব পাওনা পরিশোধের নিশ্চয়তা দেয় না। লিক্যুইডিটর বসার পর কোনো অডিট ফার্ম দিয়ে অডিট করানোর পর কোথায় কোথায় তার টাকার উৎস রয়েছে এবং টাকা কোথায় গেছে সেটি বের হতে পারে।

‌এটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। সব মিলে দেড়-দুই বছর লেগে যেতে পারে। তবে কিছু টাকা আসবে এবং ক্ষতিগ্রস্তরা পুরোপুরি না পাক, কিছু টাকা ফেরত পেতে পারেন।

নতুন আইন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থায় ‌’না’

ওয়েবিনারে খাত সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা এবং এ বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন, দেশে প্রচলিত বিভিন্ন আইনেই ই-কমার্স খাতে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করা যায়। তাই ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণে আলাদা কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্বতন্ত্র আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই।

এখন সরকারের উচিত প্রচলিত আইন বাস্তবায়নে নজর দেয়ার পাশাপাশি এ সংক্রান্ত দায়িত্বশীল বিভিন্ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মপরিকল্পনা এগিয়ে নেয়া।

ওয়েবিনারের শুরুতে চালডাল ডটকমের সিইও ওয়াসিম আলিম বলেন, আলাদা আইন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলে ই-কমার্স খাতের ভবিষ্যৎ আরও কঠিন হয়ে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশেও এ খাত পরিচালনায় আলাদা কোনো সংস্থা নেই।

বিডি জবসের সিইও ফাহিম মাশরুর বলেন, ই–কমার্সে শৃঙ্খলা আনতে হলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে আরও কার্যকর করতে হবে। প্রতিষ্ঠানটিকে জবাবদিহি করা এখন সময়ের দাবি। প্রয়োজনে তাদের শক্তিশালী করতে হবে। কিন্তু দেশে নতুন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা চাই না।

শপআপের চিফ অব স্টাফ জিয়াউল হক বলেন, ই–কমার্সকে যদি নজরদারি করা হয়, তাহলে নতুন আইনের প্রয়োজন হবে না।

তানজীব উল আলম বলেন, যখন সংকট হয়, তখন কাউকে না কাউকে দোষ দেয়া হয়। সাথে বলা হয় আইন নেই। নিয়ন্ত্রক সংস্থা নেই। তখন সরকার সেদিকেই নজর দেয়। আমার বক্তব্য হচ্ছে আইন করে যদি প্রয়োগ করা না যায়, তাহলে সে আইন দিয়ে কী হবে?

আমার বক্তব্য স্পষ্ট। প্রচলিত আইনেই ই-কমার্স খাতে সৃষ্ট ঘটনার সমাধান রয়েছে। নতুন আইনের দরকার নেই।

আবদুল ওয়াহিদ বলেন, ই-কমার্স খাতে সৃষ্ট ঘটনায় দায়িত্বশীল বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কিংবা প্রতিযোগিতা কমিশন এদের সবারই কিছু না কিছু দায় আছে।

কারণ এদের প্রত্যেকের মধ্যেই সমন্বয়হীনতা রয়েছে। এখন আগের জমানা নেই। যখন যেটা ঘটে, তখন সেটার পুনরাবৃত্তি রোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দিতে হয়।

‌দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোকে ঘটনার কার্যকর রেন্সপন্স দেখাতে হয়। ই–কমার্সে যে স্বচ্ছতা নেই, ইভ্যালিসহ অন্যদের বিজনেস মডেল নিয়ে অনেক সমস্যা আছে, এ ধরনের একটা জটিলতা তৈরি হতে পারে, সরকারকে আমরা তা ৩ বছর আগেই বলেছিলাম। কিন্তু তখন কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের নতুন মামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেলকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর আগে ধানমন্ডি থানার করা ওই মামলাটিতে রিমান্ড ও জামিন নাকচ করে দেন আদালত।

ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. হাসিবুল হকের আদালতে বৃহস্পতিবার বিকেলে মামলাটির শুনানি হয়।

ধানমন্ডি থানায় করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবুল কালাম আজাদ আসামিকে গ্রেপ্তারের আবেদনসহ ৫ দিনের রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষে ব্যারিস্টার এম মনিরুজ্জামান আসাদ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তার বিরোধিতা করেন সিএমএম আদালতের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচ করে আসামিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে এক দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেয়।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!