কুমিল্লায় স্থানীয় হিন্দু-মুসলমান সবাই ব্যথিত

0

সময় এখন ডেস্ক:

প্রতিবছর উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করেন কুমিল্লার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। তবে এ বছরের চিত্র ভিন্ন। ম্লান হয়ে গেছে পূজার আনন্দ। অন্য ধর্মের মানুষের মনেও বিষাদের ছায়া। সবার মনে কাজ করছে আতঙ্ক।

কুমিল্লা নগরীর চকবাজার এলাকায় থাকেন অশোক রায়। পূজার সময় ঢাক বাজিয়ে বাড়তি আয় করেন।

তিনি বলেন, ভাই, কী কমু? মনডা ভালো নাই। হেদিনের পর থাইক্কা আর ঢোল বাজাই না। আমার ৪৬ বছর বয়সে আমি এমন কাণ্ড কোনো সময় দেহি নাই। আমার ঢাকের পর্দা কুপিয়ে ছিঁড়ে ফেলেছে।

গত বুধবার কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘির উত্তর পাড়ের একটি পূজামণ্ডপে কোরান পাওয়ার অভিযোগ তোলার পর শহরে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির বিপুলসংখ্যক সদস্য।

আলোচিত ওই মণ্ডপের পূজার আয়োজকরা জানান, সেখানে কোরান কী করে এলো, সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই। বুধবার সকালে বিষয়টি নজরে আসে কয়েকজন মুসলমান যুবকের। যদিও এর আগে গভীর রাত পর্যন্ত পূজা উদযাপন শেষে মণ্ডপটি জনশূন্য ছিল।

এ ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বেশ কয়েক জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় ১৪৪ ধারাও জারি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৩ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৯ জনকে পাঠানো হয়েছে কারাগারে।

মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অচিন্ত্য দাশ টিটু বলেন, আজ আমরা হিন্দু-মুসলমান সবাই ব্যথিত। কারা এমন করল? কেন এমন করল? আমাদের বিশ্বাস, আসল অপরাধী ধরা পড়বে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক নির্বাহী সদস্য ও ক্রীড়া সংগঠক বদরুল হুদা জেনু বলেন, সম্প্রীতির কুমিল্লায় এমন দাঙ্গা এক অশনি সংকেত। কুমিল্লার সাবেক জেলা প্রশাসকও ফোন করে খবর নিয়েছেন। আমরা চাই যারা এ ঘটনার পেছনে আছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।

কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসানাত বাবুল বলেন, এ ঘটনা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর কলঙ্ক লেপে দিল। আমরা শোকাহত। যে কুমিল্লাকে নিয়ে আমরা গর্ব করতাম, সেখানে এমন ঘটনা নজিরবিহীন।

নগরের দেয়ালে ছবি এঁকে রাঙিয়ে তুলেছিলেন তরুণ শিল্পী জুনায়েদ মোস্তফা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার সাবেক ছাত্র জুনায়েদ বলেন, শহরটাকে ক্যানভাস বানিয়ে আমি স্বপ্ন এঁকে যাই। আজ এই নগর সাম্প্রদায়িকতার বিষে নীল হয়ে উঠছে। যে কোনো উৎসব আমরা কুমিল্লাবাসী এক হয়ে উদযাপন করতাম। এবার কী হলো বুঝতে পারছি না।

মন ভালো নেই রিকশাচালকদেরও। বুধবার থেকে শহরে মানুষের যাতায়াত কমে গেছে।

রিকশাচালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঝামেলার লাইগ্যা এ বছর আর পূজাডা জমল না। আমার জন্মের ৪০ বছরেও কোনো সময় দেখছি না কেউ মূর্তির পায়ের কাছে কোরান রাহে। আবার এইডাও দেখছি না কুমিল্লায় পূজার সময় মূর্তি ভাঙা হয়।

কুমিল্লা ইমাম সমিতির সভাপতি ও মুন্সেফবাড়ী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, কোরান অবমাননার ঘটনায় আমাদের মনে কষ্ট হয়েছে। আবার এ ঘটনার জেরে যারা প্রতিমা ভাঙচুর করেছে, এটাও আমাদের কষ্ট দিয়েছে। আমরা এমন কুমিল্লা চাই না।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!