দলের স্বার্থই সব, কোনো ব্যক্তিগত প্রত্যাশা নেই তাদের

0

বিশেষ সংবাদদাতা:

আওয়ামী লীগ টানা ১০ বছর ধরে ক্ষমতায়। লম্বা সময় দলের সাথে যারা আছেন, তাদের অনেকেই চাওয়া পাওয়ার হিসেব মেলাতে ব্যস্ত। কে, কী পেলেন, কেউ মন্ত্রীত্ব কেউ সংসদ সদস্য, কেউবা অন্যকিছু। চাওয়া পাওয়ার হিসেবে গড়মিল হলেই হতাশা। তখন বলেন- এত ত্যাগের কোনো মূল্য পেলাম না। দুঃসময়ের সঙ্গী ছিলাম, মূল্যায়ন হলো না। কিন্তু এরমধ্যেও দেখা যায়, কিছু মানুষ সব হিসেবের বাইরে; যেভাবে আছেন, তাতেই সন্তুষ্ট। দলের জন্য কাজ করে চলেছেন নিবেদিতপ্রাণ হয়ে। পরিশ্রম করে যাচ্ছেন নিঃস্বার্থভাবে।

ওমর ফারুক চৌধুরী, যুবলীগের চেয়ারম্যান। মন্ত্রীত্ব নিয়ে ভাবেননি। সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন অথবা মেয়র হতে চেয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেননি। কোনো ব্যাংকের চেয়ারম্যান বা সরকারি পদ পদবি গ্রহণ করেনি। যুবলীগের চেয়ারম্যান হিসেবে এই সংগঠনকে সংগঠিত করার জন্য তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। মেধা মননের চর্চার জন্য তিনি স্থাপন করেছেন যুব জাগরণ কেন্দ্র। শতাধিক প্রকাশনা করেছেন। চাওয়া পাওয়ার হিসেব নিয়ে তার কোন তাড়া নেই। এসব নিয়ে তিনি ভাবেনও না। দল তাকে কী দিলো বা কী পেলেন- সে ভাবনা নেই। বরং নীরবে নিভৃতে নিজের কাজটি করে যাচ্ছেন।

মোশাররফ হোসেন কাজল, বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলাগুলোর রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলী। তিনি জিপি হতে পারতেন, মন্ত্রী হতে পারতেন। সংসদে নির্বাচন করে এমপিও হতে পারতেন। কিন্তু তিনি শুধু দুর্নীত এবং বিএনপি জামায়াত অপশক্তির বিরুদ্ধে মামলা লড়ে যাচ্ছেন। তার আইনী লড়াইয়ের জেরেই জিয়া এতিমখানা মামলায় খালেদা জিয়ার ৭ বছরের কারাদন্ড নিশ্চিত হয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের পরিচিত মুখ। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার উঠাবসা। কিন্তু কখনো কোনো চাওয়া পাওয়ার হিসেব করেননি, বলেননি এটা চাই, ওটা চাই। যেভাবে আছেন তাতেই খুশি এই দুঁদে আইনজীবী।

সৈয়দ রেজাউর রহমান, ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলার প্রধান কৌঁসুলী। তিনি আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত সৈনিক। দলের দুঃসময়ের সাথী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলারও অন্যতম কৌঁসুলী। ১০ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও তিনি কখনো পদ পদবি চাননি। কোন পুরস্কার বা রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বা মন্ত্রীত্ব তাকে আকর্ষণ করে না। বরং দলের জন্য বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য কাজ করে যেতে পেরেই তিনি খুশি। তার মধ্যে কোন অভিমান নেই। চাওয়া পাওয়ার হিসেব মেলানোর যন্ত্রণা নেই। নাই অতৃপ্তির বেদনা।

এরকম আরও কিছু মানুষ আছেন আওয়ামী লীগে, যারা দলের সুদিনের সময়ও কোন কিছু প্রত্যাশা করেন না। শুধু প্রত্যাশা করেন, আওয়ামী লীগ যেন ভালোভাবে পরিচালিত হয়। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা যেন দেশ চালাতে সফল হন। এবং আওয়ামী লীগ যেন স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে পারে। এই সমস্ত মানুষের সংখ্যা হয়তো অনেক। তবে এই মানুষগুলো আছে বলেই আওয়ামী লীগ হয়তো এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

শেয়ার করুন !
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply