অনুমতি ছাড়াই রাতের আঁধারে ২০০ গাছ কেটে সাফ করল সিসিক!

0

সময় এখন ডেস্ক:

সিলেটে সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণের জন্য রাতের আঁধারে ২০০ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

নগরের শাহজালাল উপশহর এলাকার এই গাছগুলো কেটেছে খোদ সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। গাছ কাটার জন্য বন বিভাগের অনুমতিও নেয়া হয়নি।

সোমবার রাতে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা উপশহরের সড়কের পাশের দুই শতাধিক গাছ কেটে ফেলেন।

মঙ্গলবার বিকেলে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, করাত দিয়ে আরও গাছ কাটছেন শ্রমিকরা। কেটে ফেলা গাছ টুকরা করে সড়কের পাশে রাখা হয়েছে।

কেটে ফেলা গাছগুলো এরই মধ্যে বিক্রিও করে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে। ট্রাকে করে সেগুলো সরিয়ে নেয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে গাছ কেটে অধিকাংশ বিক্রি করে ট্রাকে করে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। স্থানীয় একটি চক্র গাছ কেনাবেচায় কোটি টাকার বাণিজ্য করেছে। খবর পেয়ে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করে কেনাবেচার সত্যতা পেয়েছে।

বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার পাওয়া আফতাব চৌধুরী উপশহর এলাকারই বাসিন্দা। এই সড়কের পাশের গাছগুলো তিনিই রোপণ করেছিলেন।

আফতাব চৌধুরী বলেন, গাছগুলোর অধিকাংশ আমার হাতে লাগানো। কোনো বাছবিচার ছাড়াই নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে। যেখানে ৫০টি কাটা প্রয়োজন সেখানে ২০০ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। একেকটি গাছ ১ লাখ টাকা করে বিক্রি হওয়ার মতো।

সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল শাখা সূত্রে জান গেছে, চলতি অর্থবছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরে ১৫ কিলোমিটার এলাকায় ড্রেন নির্মাণ ও রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে।

শাহজালাল উপশহর এলাকার সি ব্লকের ২১, ৩৭ ও ৩৮ নম্বর রাস্তায় সম্প্রতি ড্রেন ও রাস্তা বড় করার কাজ শুরু হয়। ওই এলাকার রাস্তার দুই পাশে রেইনট্রিসহ নানা প্রজাতির এসব গাছ ১৯৯০ সালের দিকে লাগানো হয়েছিল।

বন বিভাগের বিধিমালায় আছে, ব্যক্তিমালিকানাধীন বা সরকারি জমি থেকে গাছ কাটার আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়।

এরপর তদন্ত করে গাছ কাটার যৌক্তিকতা পাওয়া গেলে গাছের দরদাম নির্ধারণ ও পরবর্তী সময়ে আরও গাছ লাগানোর শর্তে গাছ কাটার অনুমতি দেয়া হয়। এ প্রক্রিয়া বন বিভাগের মাধ্যমে করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, ড্রেন নির্মাণে উপশহর এলাকার কিছু গাছ কাটার জন্য বন বিভাগের কাছে আবেদন করে সিসিক। তবে বন বিভাগ এখনও গাছ কাটার অনুমতি দেয়নি। অনুমোদন পাওয়ার আগেই কেটে ফেলা হয়েছে দুই শ গাছ।

যদিও গাছ যেখানে কাটা হয়েছে, সেই এলাকায় ড্রেন নির্মাণ ছাড়া সড়ক প্রশস্তকরণের কোনো কাজ চোখে পড়েনি। সেখানে অবস্থানকালে দেখা গেছে, ২০০টি গাছ কাটার পরও আরও কিছু গাছ কাটতে করাত চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন কয়েকজন শ্রমিক।

যেখানে ড্রেন হবে, সেখানে ছাড়াও গাছ কাটার প্রস্তুতি চলছে। গাছ কাটা ও কেনাবেচার বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি করপোরেশনের কাজ বলে নীরব থাকেন শ্রমিকেরা।

বন বিভাগের সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম বলেন, উপশহরে রাস্তার দুই পাশে ড্রেন নির্মাণ করতে কিছু গাছ কাটার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে ১৭ অক্টোবর বন বিভাগকে চিঠি দেয় সিটি কর্পোরেশন। পরদিন কর্মীরা সেখানে গিয়ে দেখেন গাছ কাটা হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ঠিক কী পরিমাণ গাছ কাটা হয়েছে এবং কাটা গাছগুলো কোথায় নেয়া হয়েছে, তা আমরা খোঁজ নিচ্ছি।

শ্রমিকরা না বুঝেই গাছ কেটে ফেলেন জানিয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ওইখানে ড্রেন নির্মাণ ও সড়ক সম্প্রসারণ হবে। এ জন্য কিছু গাছ কাটা প্রয়োজন। গাছ কাটার জন্য আমরা বন বিভাগকে চিঠিও দিয়েছি।

তবে অনুমতি পাওয়ার আগেই সিটি কর্পোরেশনের কিছু লোক গাছ কেটে ফেলেছেন। এ ব্যাপারে দায়ীদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব।

সিটি কর্পোরেশন গাছ রক্ষায় খুবই আন্তরিক দাবি করে তিনি বলেন, উপশহরে গাছ কাটার বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হবে। অকারণে যেন কোনো গাছ কাটা না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়াব।

এ ব্যাপারে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!