ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে গুজবে কান না দিয়ে সত্যটা জানুন

0

সময় এখন ডেস্ক:

দেশে সম্প্রতি ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে বিভিন্ন বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ২০১৩ সালে দেশে ডিজেলের মূল্য ছিল লিটার প্রতি ৬৮ টাকা, পরবর্তীতে ২০১৬ সালে লিটার প্রতি ৩ টাকা কমিয়ে ৬৫ টাকা করা হয়। এরপর গত সাড়ে ৫ বছরে দেশে ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধি হয়নি।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। এর ফলে ডিজেলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন- বিপিসি ব্যাপক লোকসানের সম্মুখীন হয়।

এবছরের জুন মাসে লিটার প্রতি ২.৯৭ টাকা, জুলাই মাসে ৩.৭০ টাকা, আগস্টে ১.৫৮ টাকা, সেপ্টেম্বরে ৫.৬২ টাকা এবং অক্টোবরে ১৩.০১ টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। এতে গত সাড়ে ৫ মাসে ডিজেলের জন্য বিপিসির লোকসান হয়েছে প্রায় ১১৪৭.৬০ কোটি টাকা।

একইসঙ্গে ডলারের মূল্য ২০১৬ সালে ৭৯ টাকা থেকে চলতি মাসে ৮৫.৭৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে ডলারে মূল্য পরিশোধে অতিরিক্ত টাকা গুণতে হচ্ছে সরকারকে। এতে ডলারে মূল্য পরিশোধে অতিরিক্ত টাকা চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে।

ভারতে জ্বালানি তেলের মূল্য কমার পরও পশ্চিমবঙ্গে ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৯০ রুপি বা ১০৪ টাকা, দিল্লিতে ৯৮.৪২ রুপি বা ১১৪ টাকার সমান। নেপালেও এই মূল্য ১১২.৩৯ নেপালি রুপি বা ৮১ টাকা।

প্রতিবেশী এসব দেশের চেয়ে আমাদের মূল্য কম রয়েছে। এ কারণে আবার চোরাকারবারিরা এখান থেকে প্রতিবেশী দেশে ডিজেল পাচার করছে।

সরকার ক্রমাগতভাবে জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে আসছে। এর ফলে এদেশে দাম কম থাকায় বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে, যা রোধকল্পে এই মূল্যবৃদ্ধি এবং এ নিয়ে বিভ্রান্তির অবকাশ নেই।

বিপিসি জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন ডিজেল ও ফার্নেস তেল বিপণনে প্রতিষ্ঠানটির ২০ থেকে ২২ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছিলো। কিন্তু বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরো বাড়ায় লোকসানের পরিমাণও বাড়ে। তাই লোকসান কিছুটা কমিয়ে আনার জন্যই এই মূল্যবৃদ্ধি।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছে, সারাবিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এর দাম সমন্বয় করতে হবে। সেই সঙ্গে তেলের পাচারও রোধ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মূল্যবৃদ্ধি অবশ্য জনগণের জন্য একটু কষ্টদায়ক। কিন্তু রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার্থে এই মূল্যবৃদ্ধি সবাইকে মেনে নেয়া জরুরি। কেননা বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে এক সময় তেল-বঞ্চিত হবে বাংলাদেশ।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!