সিস্টেমে আনা না গেলে গ্যাস সিলিন্ডার একটা বোমা: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

0

সময় এখন ডেস্ক:

পুরান ঢাকার অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে গ্যাস (সিএনজি) সিলিন্ডার প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, এটা অবশ্যই বিপজ্জনক। সিস্টেমে আনতে না পারলে এটা একটি বোম। এখনকি আমরা এটা বন্ধ করে দেবো, না রেগুলেট করতে হবে। কে রেগুলেট করবে মন্ত্রণালয় নাকি বিইআরসি! আমার মনে হয় বিইআরসির হাতেই থাকা উচিত। মন্ত্রণালয় থাকবে পলিসি মেকার হিসেবে।

শনিবার (২ মার্চ) এফইআরবি আয়োজিত মিট দ্যা এনার্জি রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

গ্যাসের অবৈধ সংযোগ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, এলএনজি ৩০০ এমএমসিএফডি ব্যবহার করছে চট্টগ্রাম। ঢাকায় আসছে ১৫০ এমএমসিএফডি। ঢাকায় আসাগুলোর কোনো হদিস পাচ্ছি না। ঢাকা শহরের সব পাইপলাইন পরিবর্তন করা হবে। এতেই সব ধরা পড়বে। আর পাইপগুলো অনেক পুরনো এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

নসরুল হামিদ বলেন, আমি মনে করি ইমিডিয়েট উত্তরবঙ্গের কয়লা খনিগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তবে তা হতে হবে পরিবেশ ও স্থানীয়দের কথা বিবেচনা করে। আর সেই কাজটি শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেনG

তিনি বলেন, আমদানিকৃত কয়লার দর ২শ ডলারের উপরে পড়ে। সেখানে দেশীয় কয়লা ১২০ ডলারের মধ্যে পাওয়া সম্ভব। আমরা চাচ্ছি বালাসীঘাট ব্যবহার করতে। সেখানে রেল লাইন রয়েছে। আরও একটি লাইন বসিয়ে উত্তরের কয়লা দক্ষিণে নিতে পারি। নদী ড্রেজিংয়ের জন্য একটি বরাদ্দ রাখলেও খরচ বেশি পড়বে না। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আমার কথা হয়েছে। ভবিষ্যতে কয়লায় কার্বন ট্যাক্স বসতে পারে এটাও মাথায় রাখতে হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ২০২৩ সালের দিকে বেজডলোড পাওয়ার প্লান্টগুলো উৎপাদনে আসবে। ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বসিয়ে দেওয়া হবে। তখন বিদ্যুতের দাম সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। আমরা ভাবছি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ১০ হতে ১২ শতাংশ উৎপাদিত হবে।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা সমন্বয়ের একটি প্রস্তাব দিয়েছি, বিইআরসির উপর নির্ভর করছে। গতবার তো কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। দাম সমন্বয় না হলে কমফোর্ট হবে না বিদ্যুৎ খাতের জন্য।

গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ধীরগতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবসরে এখনই উদ্যোগ গ্রহণ করতে চাই। মাল্টিক্লেইন সার্ভের কাজ উপর মহলের সিদ্ধান্তে আপাতত বন্ধ, এটা না হলে বিদেশি কোম্পানি আসতে চাইবে না। সার্ভে করে যদি দেখাতে পারি সম্ভাবনার দিকগুলো তখন বিদেশি কোম্পানি আগ্রহী হবে। এটা না করতে পারলে আমরা পিছিয়ে যাবো।

স্থলভাগে অনুসন্ধানে দুর্বলতার জন্য জ্বালানি বিভাগকে দায়ী করে তিনি বলেন, তাদের টেকনিক্যাল দুর্বলতা রয়েছে। জ্বালানি বিভাগের কাজ করা উচিত। আমাদের বড় বাধা হবে নতুন টেকনোলজি না জানা। জ্বালানিতে লিডিংয়ের লোক ছিলো না, এখন লোক তৈরি করা হচ্ছে। প্রফেশনালিজম বাধা বলতে পারেন।

আইপিপি থেকে বিদ্যুতের দাম প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বড়গুলো আসলে বুঝতে পারবো কেমন দর পড়ে। ইপিসি কন্টাক্ট্র কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক করা হচ্ছে। এতে দর বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

আমদানি নির্ভর গ্যাস খাত ঝুঁকিতে ফেলবে কিনা, বিশেষ করে দামের প্রসঙ্গে- জবাবে বিদ্যুৎ জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের চাহিদা খুবই ছোট। কাতারের রিজার্ভ ১২শ টিসিএস, সারাবিশ্ব দীর্ঘদিন চলবে। শেলগ্যাস আসছে, কানাডা, আফ্রিকা গ্যাস উত্তোলন বাড়াবে। আমার মনে হয় এটা কোনো সংকট তৈরি করবে না।

এলএনজি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৮ ডলার দিয়ে কিনলেও ৭ সেন্টের মতো পড়ে। এরচেয়ে বেশি লাগছে ইন্ডিয়ার বিদ্যুতে। তাহলে নিজেরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে বেজডলোড বাড়লো এটা আমাদের জন্য ভালো। তবে আমি উদ্বিগ্ন আছি উদ্বৃত বিদ্যুৎ নিয়ে। এখনই আমার অনেক বিদ্যুৎ উদ্বৃত। ১৫ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াট চাহিদা না হলে সমস্যা।

নসরুল হামিদ বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে ৮০ থেকে ১২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন পড়বে। এই বিনিয়োগ আমাদের জন্য কোনো সমস্যা নয়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে এখন অনেক বড় বড় বিনিয়োগের প্রস্তাব আসছে। যার এর আগে লক্ষ্যণীয় নয়। মাজদা আমাদের সোলারে বিনিয়োগ করতে চায়, এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করতে চায়।

শেয়ার করুন !
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply