কক্সবাজারের প্রবেশমুখে স্থাপন করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য

0

সময় এখন ডেস্ক:

কক্সবাজার শহরের প্রবেশমুখ কলাতলী মোড়ে ঢাকা ব্যাংকের সৌজন্যে স্থাপিত ‘জ’ ভাস্কর্য সরিয়ে তার স্থলে নির্মাণ করা হবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য! ইতোমধ্যে দুই জন শিল্পীকে দিয়ে প্রস্তাবিত ভাস্কর্যের ত্রিমাত্রিক নকশাও সংগ্রহ করেছে জেলা প্রশাসন। ভাস্কর্যটি নির্মাণে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে এবং এ জন্য বর্তমানে স্পন্সর খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার জানান, পর্যটন শহরের প্রবেশমুখে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে জাতির জনকের ভাস্কর্য নির্মাণের বিষয়টি চুড়ান্ত। কেবল অর্থের সংস্থান বাকি। এজন্য বর্তমানে স্পন্সর খোঁজা হচ্ছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে ভাস্কর্য নির্মাণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে বলে তিনি আশা করেন। কক্সবাজার শহরের সৌন্দর্য বর্ধনের অংশ হিসাবে বিগত ২০১০ সালে শহরের প্রবেশমুখ কলাতলীতে স্থাপন করা হয় ‘জ’ ভাস্কর্য। ঢাকা ব্যাংকের সৌজন্যে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপিত এ ভাস্কর্যটি ‘ডলফিন ভাস্কর্য’ নামেই বেশি পরিচিত। এ কারণে পর্যটকরা কলাতলী মোড়কে ‘ডলফিন মোড়’ নামে ডাকে।

ভাস্কর্যটি বিভিন্ন প্রজাতির ও আকারের ডলফিন এবং হাঙ্গরসহ সামুদ্রিক প্রাণির প্রতিমূর্তি দিয়ে সাজানো। ২০১০ সালের ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ভাস্কর্যটি উম্মোচন করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক গিয়াসউদ্দিন আহমদ।

তবে এই ভাস্কর্যে হাঙ্গরের ছবি থাকায় তা নিয়ে সম্প্রতি তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এ নিয়ে অনেকেই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব আশরাফুল আলম খোকন তার ফেসবুক একাউন্টে ‘কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে হাঙ্গরের ভাস্কর্য কেন?’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেন। তার বক্তব্য সমর্থন করে প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেন কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের সরকারি দলের নেতাকর্মীরা।

তিনি লিখেন- ‘অবসরে আমরা অনেকেই দেশে বিদেশে কোথাও না কোথাও ঘুরতে যাই। দর্শনীয় ঐতিহাসিক স্থানগুলো দেখে আসি। সাথে হয়তো ট্যুর গাইড থাকে অথবা স্যুভেনিরই থাকে অবলম্বন। যার মাধ্যমে ঐসব জায়গাগুলোর সম্পর্কে খুঁটিনাটি সব জানা যায়। এছাড়াও স্থাপনাগুলোর সামনে ঐসব ঐতিহাসিক ও আকর্ষণীয় জায়গাগুলোর বিস্তারিত লেখা থাকে অথবা সিম্বলিক ভাস্কর্য থাকে- যা দেখে বিস্তারিত জানা যায়।

আমাদের আছে কক্সবাজার। বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত। প্রায় ১২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতের বিপরীত দিকে আছে সারিসারি সবুজ পাহাড়। প্রাকৃতিক এই রকম নৈসর্গিক দৃশ্য পৃথিবীতে বিরল। দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটক শুধু ওখানে যায় সমুদ্রের পানিতে নিজেদেরকে একটু ভিজিয়ে নিতে। কিছু রেস্টুরেন্ট ছাড়া ওখানে বিনোদনেরও আর কিছু নেই। কিন্তু দুঃখের বিষয় কোনো পর্যটক যদি সেখানে যায় তাহলে তারা কী দেখবে? তারা কক্সবাজারে প্রবেশের পরপরই কলাতলী চত্বরে দেখতে পাবে একটি ভাস্কর্য। যে ভাস্কর্যে কিছু সামুদ্রিক মাছের সাথে আছে একটা ‘হাঙ্গর’ এর ভাস্কর্য। যারা জ্যান্ত মানুষ পানিতে পেলে খেয়ে ফেলে। এখন কোনো বিদেশি পর্যটক এসে যদি প্রথমেই হাঙ্গরের ভাস্কর্য দেখে, সে কি বীচে নামতে সাহস পাবে? যেখানে ভয়ংকর হাঙ্গরের দাঁতের মুখগুলো হা করে মানুষগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। এমনিতেই তো কক্সবাজারে বিনোদনের আর কিছু নেই। এরপর যদি আমরা পর্যটকদের হাঙ্গর দেখিয়ে দেই সেটা খুবই আত্মঘাতী বিষয়। অথচ হাঙ্গরের কোনো অস্তিত্বই এখনো সেখানে দেখা যায়নি।

অবশ্য আগের সরকারের আমলেও কক্সবাজারের এক হোটেলে আয়োজিত একটি অনলাইন মিডিয়ার অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী পলক ভাস্কর্যটি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও শেখ রেহানা তনয় ববি’র আপত্তির কথা জানান।

আর এই ভাস্কর্যটি সরিয়ে তার স্থলে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের জন্য গত ৭/৮ মাস আগেই জেলা প্রশাসন একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানান কক্সবাজার আর্ট ক্লাবের সভাপতি ও কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমলের ছোট ভাই শিল্পী তানভীর সরওয়ার রানা।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে তিনি এবং ভাস্কর রাশা জাতির জনকের ভাস্কর্য স্থাপনের জন্য ত্রিমাত্রিক নকশা সম্বলিত আলাদা দুটি প্রস্তাব জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে যেকোন একটি নকশা অনুমোদনের পরই বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।

কলাতলী মোড়ে স্থাপিত ‘জ’ ভাস্কর্যে হাঙ্গরের ছবি নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ভাস্কর্যটির প্রধান নির্মাতা ও একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জীববিজ্ঞানী রাগিবউদ্দিন আহমদ বলেন- আমাদের বঙ্গোপসাগরে ডলফিন, হাঙ্গরসহ নানা প্রাণি আছে। আর পানির নীচের এসব প্রাণি সম্পর্কে মানুষের মাঝে আগ্রহ তৈরির জন্যই গত ৯ বছর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই এই ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এই ভাস্কর্য দেখে সমুদ্রে নামতে অস্বস্তিবোধ করা বা কক্সবাজারবিমুখ হওয়ার কথা তিনি কখনও শুনেননি। বরং ভাস্কর্যটি দেখতে ইউরোপ থেকেও পর্যটক এসেছেন।

তিনি বলেন, কোন পর্যটক কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে গেলেই দেখবেন তারই মতো হাজার হাজার পর্যটক সাগরে নির্ভয়ে গোসল করছেন। তাছাড়া কক্সবাজার উপকূলবর্তী বঙ্গোপসাগরে গোসল করতে গিয়ে কোন ক্ষতিকর প্রাণির কামড়ে কেউ হতাহত হয়েছে এমন রেকর্ড ২শ বছরেও নেই। তাই হাঙ্গরের ভাস্কর্য নিয়ে এমন মন্তব্য ঠিক নয়।

এরপরও তিনি ভাস্কর্যটি সরানোর পক্ষে- কিছুটা হতাশা ও ক্ষোভের সাথে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ঢাকা ব্যাংক-কে ভাস্কর্যটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হলেও তারা কোন দেখভাল করছেন না। তাই এমন ভাস্কর্য থাকার চেয়ে না থাকাই ভাল।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!