গুজব সাংবাদিক কনক সারোয়ারের সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ

0

আইন আদালত ডেস্ক:

রাজধানীর শাহবাগ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের করা মামলায় পলাতক দুই আসামির সম্পত্তি জব্দ করার আদেশ দিয়েছে সাইবার ট্রাইব্যুনাল।

গুজব অপপ্রচার ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এই আসামিরা হলেন- প্রবাসী সাংবাদিক কনক সারোয়ার ও মেজর (অব.) দেলোয়ার হোসেন।

ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেন এই দুই আসামির সম্পত্তি জব্দের আদেশ দেন।

এছাড়াও সম্পত্তি জব্দের বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য ১৩ ডিসেম্বর তারিখ ঠিক করেছে আদালত।

সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পেশকার শামীম আল মামুন বলেন, যেহেতু আসামিরা পলাতক, তাদের বিরুদ্ধে সমন ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পরও কেউ আদালতে উপস্থিত হন নাই। এ কারণে মামলার বিচারকাজের পদ্ধতিগত অংশ হিসেবে বিচারক তাদের বিরুদ্ধে সম্পত্তি জব্দের আদেশ দিয়েছেন।

এর আগে ৩০ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ রাসেল মোল্লা দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

২ নভেম্বর আদালত মামলাটির অভিযোগপত্র আমলে নেয়। ফলে পলাতক আসামি কনক সারোয়ার ও দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। মঙ্গলবার ওই পরোয়ানা তামিলের বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ ঠিক করা ছিল।

২০২০ সালের ১১ অক্টোবর মো. জাকির হোসেন বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আসামি কনক সারোয়ার ও মেজর (অব.) দেলোয়ার হোসেন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক, মিথ্যা, মানহানিকর ও উসকানিমূলক তথ্য প্রচার করেন।

এছাড়া অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুব ও সেনাপ্রধানকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করেন।

প্রধানমন্ত্রীর পুত্রকে নিয়ে স্ক্যান্ডাল তৈরিতে কনককে টাকা দিলেন বিএনপি নেতা (অডিও)

টাকার বিনিময়ে রাতকে দিন আর দিনকে রাত বানানোই হচ্ছে তথাকথিত সাংবাদিক নামধারী ইউটিউবার কনক সারোয়ারের একমাত্র পেশা। বিদেশে বসে ইউটিউবে আষাঢ়ে গল্প রচনা করা আর ঠাকুরমার ঝুলি উপুড় করে ভিউয়ার বাড়ানোর মাধ্যমে লাখ লাখ ডলার উপার্জন করছেন। অনলাইনে থাকা সহজ সরল মানুষও এসব গুজব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হচ্ছেন যেমন, তেমনি দেশে তৈরি হচ্ছে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা।

সম্প্রতি এই গুজব রচয়িতা ইউটিউবারের একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে বিএনপির একজন নেতা তাকে ফোন করে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পুত্র এবং অবৈতনিক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে একটি ভুয়া স্ক্যান্ডাল তৈরি করে সেটা নিয়ে ভিডিও বানাতে আর ইউটিউবে প্রকাশ করতে। সেই কথোপকথন ঢাকামেইল এর সৌজন্যে হাতে এসেছে সময় এখন – এর হাতেও।

কথোপকথনে যা শোনা গেল:

কনক: জি, কিন্তু টাকা দরকার…

বিএনপি নেতা: টাকা দরকার, টাকা পাবেন। আপনার টাকা নিয়ে চিন্তার দরকার নাই। গতমাসেও তো আপনাদেরকে টাকাগুলো পাঠানো হইছে আপনার অ্যাকাউন্টে, পাইছেন না টাকাগুলি? টাকা নিয়ে টেনশন কী দরকার? আপনারা সব সময় টাকা টাকা করেন। ফান্ড তো আপনাদের জন্য রেডি থাকে। পাঠানোটা সমস্যা বাংলাদেশ থেকে।

আপনারা জানেন ১৪ জায়গায় আমাদের ঘুরতে হয়। সরকার আমাদেরকে সব সময় নজর দিয়ে রাখছে। টাকা পাঠানো… ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ওপর নজর দিয়ে রাখছে। কীভাবে… আপনারা প্রতিটা ভিডিওর জন্য, প্রতিটা স্টেটমেন্টের জন্য আলাদা আলাদা করে টাকা নেন, তাহলে কেমনে হবে? এগুলা তো মানে… এখন আপনাদেরকে কি টাকা না দিয়ে বসে থাকব আমরা?

কনক: বিষয়টা এখন আমার তো মনে হয় ওইদিকেই যাচ্ছে…

বিএনপি নেতা: ভাই, ওইদিকে যাচ্ছে মানে কী? টাকা আপনারা পাচ্ছেন। গত সপ্তাহে আপনারা কনক ভাই ১২শ ডলার, ফোন করে দুই সপ্তাহ আগে আমি আপনার অ্যাকাউন্টে জমা করেছিলাম। ১২শ ডলার, দুইটা ভিডিওর জন্য। এবারও আপনাদেরকে আমি বলছি যে, যেগুলা বাকি আছে সেগুলা দিয়ে দেয়া হবে। মানে আপনার অ্যাকাউন্টে। হুন্ডি করে টাকা পাঠানোর কী অবস্থা আপনি জানেন বাংলাদেশে। এখন কত প্রবলেমের কাজ।

তারেক ভাই সব সময় একটা কথাই বলেন, আপনাদের টাকা যেন কোনোভাবেই মাইর না যায়। আপনাদের টাকা যেন আপনারা সব সময় পান। আপনাদের ব্যাপারে সবাই খুব আন্তরিক। আমরাও খুব আন্তরিক। দলের জন্য করছেন। কিন্তু টাকার প্রশ্ন আসলে আপনারা একটু এইভাবে… একটু উনিশ-বিশ তো হতেই পারে। তাই না?

উনিশ-বিশ তো হতেই পারে। আপনি… গত কয়দিন আগে আপনাকে আরেকটা ভিডিও বানাতে বলছিলাম। আপনি ওইটা বানান নাই। পরে আপনি আবার একটু আমতা আমতা করে বানাইছেন। তাই না?

কনক: হ্যাঁ ওইটাও নামানো হয়েছে।

বিএনপি নেতা: কী নামানো হয়েছে? আপনি আসলে কী নামাইছিলেন ওই ভিডিওতে? আপনাকে বলেছিলাম যে, ওই জয়কে নিয়ে একটা স্ক্যান্ডাল বের করেন, সেই স্ক্যান্ডালের অ্যাগেইনস্টে আমি আপনাকে কতগুলি স্ক্রিনশট পাঠিয়েছিলাম। যেগুলি বানানো হয়েছিল অনেক কষ্ট করে। অনেক কষ্ট করে ৫-৬ দিন ধরে খালি ওই জিনিসগুলি বানানো হয়েছে। আপনাকে বলেছিলাম যে, ওইটা নিয়ে ভিডিও করেন। জয়কে একটু ধরেন। জয়ের স্ক্যান্ডাল নিয়ে একটা স্ক্যান্ডাল বানান, ওইটা নিয়ে ভিডিও বানান।

আপনি করছেন ওইটা? করেন নাই। আপনি আপনার মত করে এমনি একটা ভিডিও করলেন, আপনি আপনার নিজের মত করে একটা ভিডিওতে মনগড়া কিছু কথা বললেন। এরপর দিলেন এটাকে ছেড়ে। এগুলি… তাও তো আপনাকে পে করা হচ্ছে এগুলির জন্য। তবে কনক, অবজেকশন কিন্তু দেওয়া হয়নাই। আপনার ওইটার জন্যও আপনাকে পে করা হবে। যেটা আপনাকে করতে বলা হয়নাই, ওইটার জন্যও আপনাকে পে করা হচ্ছে…সো…

কনক: তবে, অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি…
বিএনপি নেতা: বাড়াবাড়ি নয়, বাড়াবাড়ি আমরা করছি না, বাড়াবাড়ি আপনারা করছেন। বাড়াবাড়ি আপনারা করছেন না এখন টাকার জন্য?

এরপর লাইন কেটে যায় (সম্ভবত)।

মূলত এভাবেই রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিয়ে তৈরি হয় গুজব, মিথ্যাচার ও অপপ্রচার। আর এসবের পেছনে খরচ হচ্ছে কোটি কোটি ডলার। কে যোগাচ্ছে এসব অর্থ? কারা যোগাচ্ছে? কী তাদের স্বার্থ? এদের সাথে জড়িত কারা? কোত্থেকে বসে রচিত হচ্ছে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র আর নীল নকশা? উত্তর খুঁজতে হবে সেসব প্রশ্নের।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!