বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আপত্তি জানানো জামায়াতি এজেন্ট মেয়র আব্বাসকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কার

0

সময় এখন ডেস্ক:

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ নিয়ে কটূক্তি ও বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ায় পৌরসভা আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে কাটাখালি পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীকে বহিস্কার করা হয়েছে।

বহিস্কৃত মেয়র আব্বাস আলী জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন বলে নগরের প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতারা জানান। এরপরই পৌরসভা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তে এই ঘোষণা আসে।

বুধবার (২৪ নভেম্বর) বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের জরুরি বৈঠকে আব্বাসকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে জেলার পোড় খাওয়া, ত্যাগী ও পরীক্ষিত প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ তুলে ধরেছেন মেয়র আব্বাসের অতীত। তিনি ২০০৯ সালে সন্ত্রাসী এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের দায়ে যুবলীগ থেকে বহিস্কৃত হয়েছিলেন। বহিস্কারের ৬ বছর পর ২০১৫ সালে তিনি জামায়াতের হয়ে বোমাবাজি করতে গিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

তৎকালীন পত্রপত্রিকার মারফত জানা যায়, রাজশাহী বিজিবির অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল শাহজাহান সিরাজ সে সময় গণমাধ্যমকে বলেছেন, যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। আব্বাস আলী বর্তমানে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় বোমাবাজি ও নাশকতা সংগঠিত করে আসছিলেন।

এছাড়াও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ৬ বছর আগে আব্বাস আলীকে যুবলীগ থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল। এরপর তিনি জামায়াতের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন।

এমন একজস সন্ত্রাসী এবং নাশকতাকারী কীভাবে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করল, কারা তাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে দলের আহ্বায়ক এবং মেয়র পর্যন্ত বানালেন, তাদের বিচার দাবি করেছেন নগরীর পৌড় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে তিনি (আব্বাস) ধর্মকে টেনে এনেছেন, অথচ তিনি বোমবাজি করে মানুষের রক্তপাত ঘটানোর বেলায় আল্লাহর কথা ভুলে গিয়েছিলেন!

পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাজদার রহমান সরকার বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াসিন আলীর সভাপতিত্বে জরুরি বৈঠকে আব্বাস আলীকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে কেন দলীয় সদস্য পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হবে না জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়াও স্থায়ী বহিস্কারের জন্য দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে।

এর আগে রাজশাহীর কাটাখালি পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী একটি ঘরোয়া বৈঠকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল স্থাপন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এ-সংক্রান্ত তার একটি অডিও কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

মেয়র আব্বাসের আলাপে শোনা যায় তিনি একজনকে বলছেন, … যে ম্যুরালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর সেটা ইসলামি শরিয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না (রাখব না), সব করব তবে শেষ মাথাতে যেটা… ম্যুরালটা করা ঠিক হবে না। আমার পাপ হবে; তো কেন দিব, দিব না। আমি তো কানা না, যেভাবে বুঝাইছে তাতে আমার মনে হয়েছে, ম্যুরালটা হলে আমার ভুল করা হবে।

এটা যদি আমার রাজনীতির বারোটা বাজবে যে এই ম্যুরাল দিছে না। তাহলে বঙ্গবন্ধুকে খুশি করতে গিয়ে আল্লাহকে নারাজ করব নাকি। এ জন্য কিছু করার নাই। মানুষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা যাবে না।

তার কথায় মনে হতে পারে, তিনি বিরাট আল্লাহওয়ালা লোক। কিন্তু তার অতীত কর্মকাণ্ড সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী কাজের কারণে গ্রেপ্তার হওয়ার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয়, তিনি আসলে জামায়াতের এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই আসল সমস্যা তাদের কাছে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হলো লোক দেখানো।

ইতিমধ্যে কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীর নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ৩টি মামলা হয়েছে।

এর মধ্যে বোয়ালিয়া থানায় করা মামলার বাদী হয়েছেন নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ও ১৩ নম্বর কাউন্সিলর আব্দুল মোমিন, চন্দ্রিমা থানার মামলার বাদী নগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তহিদুল হক সুমান এবং রাজপাড়া থানায় মামলা করেছেন ১৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!