অধিক সন্ন্যাসীতে বিরক্ত খালেদা!

0

স্পেশাল করেসপন্ডেন্স:

‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ দুর্নীতি মামলায় সরকারের অনুকম্পায় জামিন পেলেও যে কোনো সময়ে কারাগারে যেতে হতে পারে খালেদা জিয়ার। যদিও খালেদা জিয়ার ফের কারাগারে যাওয়ার বিষয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই বিএনপির।

উপরন্তু তাকে বিদেশে প্রেরণের বিষয়ে আন্দোলনে মেতেছে বিএনপির একাংশ। অপরদিকে মুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করার কথা ভাবলেও বিএনপির অন্যাংশ হঠাৎ ভোল পাল্টেছেন। তারা বিষয়টিকে ‘পারিবারিক’ সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন।

এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এটা তো ম্যাডামের শারীরিক বিষয়, দলীয় কোনো বিষয় নয়। তার চিকিৎসা, তার শারীরিক অবস্থার বিষয়টি একান্তই পারিবারিক। এটা রাজনৈতিক বিষয় হতে পারে না, দলের সিদ্ধান্তও হতে পারে না। তার পরিবার যেভাবে ভালো মনে করবে, সেভাবে করবে।

একই সুরে কথা বললেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ও মুক্তি নিয়ে তার পরিবারের বিশেষ আবেদনের বিষয়টি দলীয় কোনও বিষয় নয়। এটা তার শারীরিক ব্যাপার, রাজনৈতিক বিষয় নয়।

সাড়ে ১২ ধরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে আমাদের দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয় না। ফলে তার স্বাস্থ্যের অবস্থা কী জানি না। পরিবারের সদস্যরা বিশেষ আবেদন চান, তারাই বলতে পারবেন তার স্বাস্থ্যের অবস্থা। এটা সম্পূর্ণ তার পরিবার ও বেগম জিয়ার ব্যাপার।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, দল যখন ব্যর্থ হয়েছে তার মুক্তির জন্য, তখন পরিবার এগিয়ে আসছে জীবন রক্ষার্থে।

বিএনপির আরেকটি পক্ষ বলছে, দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তির বিষয়ে নেতাকর্মীরা আন্তরিক। কিন্তু কোনভাবেই কিছু হচ্ছে না। কারণ সরিষাতেই ভূত। বিএনপির অনেক জ্যেষ্ঠ নেতাই চান না খালেদা জিয়ার মুক্তি হোক। এ কারণে তারা তার খোঁজ-খবরও রাখেন না।

এমন আচরণ অন্তত তাদের থেকে আশা করা যায় না। কারণ তাদের দেখেই নবীনরা শিখবে। তারা যদি এমনটা করে, তবে নবীনরাও একই পথে হাঁটবে।

দলে বাঘা বাঘা আইনজীবী থাকতেও খালেদা জিয়ার সাজাপ্রাপ্তি থেকে রক্ষা করতে পারেননি বিএনপি নেতারা। এমনকি চিকিৎসার জন্যও বিদেশে যাওয়ার জোগাড়যন্ত্র করতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা। তারওপর তার চিকিৎসা কিংবা বিদেশ যাত্রার বিষয়ে এমন সব বক্তৃতা বিবৃতি দিচ্ছেন তারা, এসব শুনে বিরক্তি প্রকাশ করছেন বলে জানায় পরিবারের একটি সূত্র।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পাপ কখনো বাপকেও ছাড়ে না। যার প্রমাণ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে বিএনপি। দুর্নীতির দায়ে খালেদা জিয়ার সাজা হয়েছে। দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও।

যে দলের শীর্ষ নের্তৃত্বেই গলদ, তাদের নেতকর্মীরাও কখনো ভালো হতে পারেন না। কারণ নিমগাছের নিচে যতই চিনি ঢালুন না কেন, নিমের কাঠ বা ফল- কোনটাই মিষ্টি হবে না। এটাই ধ্রুবসত্য।

রাজনীতি সচেতনরা বলছেন, বিএনপির দলীয় চেয়ারপারসন সাজা ভোগ করছেন অথচ দলের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। বিষয়টি রহস্যজনক। এ থেকে এতটুকু অনুমান করা যায়, তার দলের নেতাকর্মীদের কাছে তিনি কতোটা অপ্রিয়। একারণেই সবাই নীরব ভূমিকায় রয়েছেন।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!