পরিকল্পিতভাবে দেশে নাশকতার ইন্ধন যোগাচ্ছে একটি গোষ্ঠী

0

স্পেশাল করেসপন্ডেন্স:

দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক যে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, তা পরিকল্পিত এবং ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই মনে করছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। তাদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য এক ধরনের পরিকল্পিত নাশকতার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লার মুখোশধারীদের গুলিতে কাউন্সিলরসহ ২ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর এ সংক্রান্ত ঘটনাটি নিশ্চিত হয়েছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। তারা মনে করছে যে, বিএনপি-জামায়াত এবং জঙ্গী কিছু সংগঠন বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের সহিংসতা ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে এবং এই সমস্ত সহিংসতায় ৪০ জনের বেশী মানুষ মারা যায় এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫ হাজারের বেশি মানুষ সংঘর্ষে আহত হয়। এই ধরনের ঘটনার পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে দেখেছে যে, নির্বাচনী সহিংসতাযর আড়ালে এখানে এক ধরনের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে।

বিশেষ করে একটি মহল নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে, এটি দেখিয়ে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে নেয়ার চেষ্টা করছে। আর এ কারণেই তারা একের পর এক এ ধরনের অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের ভেতরে সহিংসতা দেখিয়ে বা সহিংসতায় উসকানি দিয়ে তারা রাজনীতিতে ভিন্ন ধরনের ফায়দা হাসিল করতে চাইছে বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সবগুলো ঘটনাই যে রাজনৈতিক সহিংসতা এমন নয়। কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে।

আওয়ামী লীগের ভেতরে বিএনপি-জামায়াতপন্থী কিছু ষড়যন্ত্রকারী ঢুকে আছে, যারা সব সময় চেষ্টা করছে, আওয়ামী লীগের ভিতরে কোন্দল, বিভক্তি ইত্যাদিকে উসকে দিয়ে একটি সন্ত্রাস, সহিংসতা তৈরি করতে। এছাড়া বিএনপি-জামায়াতপন্থীরা ছদ্মবেশে বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটিয়েছে।

বিএনপি-জামায়াত এবার নির্বাচনে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করছে না। তারা দলীয় প্রতীকও ব্যবহার করছে না। কাজেই তাদের জন্য এ ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটানো খুবই সহজ।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদ নিয়ে যত না বিরোধ হয়েছে, তার চেয়ে বেশি বিরোধ হচ্ছে ওয়ার্ড নিয়ে এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের এই বিরোধগুলো করার ক্ষেত্রে বিএনপি-জামায়াতের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

প্রশাসনের একটি অংশ এই ঘটনাগুলোকে বাড়তে দিচ্ছে এবং মদদ দিচ্ছে। মাঠ প্রশাসনে জামায়াত এবং বিএনপিপন্থীদের এখন সক্রিয় তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুর্গাপূজার সময় থেকে এ পর্যন্ত প্রতিটি ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রশাসনের এক ধরনের নীরবতা ছিল। প্রশাসন যথাযথভাবে ভূমিকা পালন করেনি।

আর এ কারণেই অনেকে মনে করছেন, আওয়ামী লীগে বিএনপি-জামায়াতপন্থী অনুপ্রবেশকারীদের ষড়যন্ত্র এবং প্রশাসনে তাদের নির্লিপ্ততার মাধ্যমে দেশে হঠাৎ করে সন্ত্রাস, হত্যা, সহিংসতা বাড়ার একটি প্রবণতা সৃষ্টি করা হয়েছে। যাতে জনগণের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়।

সাধারন মানুষের প্রশ্ন, দেশে হচ্ছেটা কি? একটা অনিশ্চয়তার আবহ তৈরির জন্যে এসব করা হচ্ছে। সমস্ত দোষ যেন সরকারের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগ নিজেরা নিজেদের মধ্যে কোন্দল করছে- এমন একটা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে দুটো গোয়েন্দা সংস্থা বলছে, এসব ঘটনার মূল হোতাদের চিহ্নিত করা গেছে। এই ধরনের পরিকল্পিত নাশকতা যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাংলাইনসাইডার।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!