‘পাকিস্থানের প্রেতাত্মা পাকিস্থান ফিরে যা’

0

স্পোর্টস ডেস্ক:

রাজধানীর মিরপুরে টি-২০ সিরিজে পাকিস্থানকে নিয়ে উৎসব করতে দেখা গেছে বাংলাদেশি অনেক দর্শককে। কেউ কেউ তো আবার পাকিস্থানের পতাকা নিয়েও হাজির হয়েছিলেন! হুট করে দেখে বোঝার উপায় নেই, এটি বাংলাদেশের কোনও গ্যালারি।

দর্শকদের এমন উদাত্ত সমর্থন দেখে বাংলাদেশে খেলতে এসেছেন বলে মনেই হয়নি পাকিস্থানি ক্রিকেটারদের। টি-২০ সিরিজ শেষে এমন মন্তব্য করেছিলেন ফাকার জামান। মিরপুরে দর্শকদের পাকিস্থানকে সমর্থন করতে দেখা গেলেও বীর চট্টলা ছিল ব্যতিক্রম।

সফরকারী ক্রিকেটাররা মিরপুরে পাকিস্থানের ফ্লেভার পেলেও চট্টগ্রামে এসে এমন কিছু পাননি। বরং তাদের পাকিস্থান বিরোধী স্লোগান শুনতে হয়েছে।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ৫ হাজার দর্শককে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সকালে সংখ্যাটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে দর্শকের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্যালারির যে অংশ দর্শকের জন্য উন্মুক্ত ছিল, সেই পূর্ব গ্যালারির পুরোটাই পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

যদিও মাঠের বাইরে বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশি বেশ কয়েকজন পাকিস্থানের জার্সি পরে মাঠে ঢুকতে চেয়েছিলেন। তাদেরকে রুখে দিয়েছেন সমর্থকদের একটি অংশ।

চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ৫ হাজার দর্শককে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সকালে সংখ্যাটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে বাড়তে থাকে দর্শক। পূর্ব গ্যালারির পুরোটাই হয়ে যায় ভরপুর। অনেকদিন পর চট্টগ্রামের মাঠে আন্তর্জাতিক ম্যাচ হচ্ছে, তার ওপর ছুটির দিন; তাই উৎসাহী দর্শক ছিলেন অনেক।

বাংলাদেশের জার্সি পরে চট্টগ্রামের উচ্ছ্বসিত তরুণরা স্লোগান তোলেন- তোমার দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ, পদ্মা মেঘনা যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা।, পাকিস্থানের প্রেতাত্মা, পাকিস্থান ফিরে যা, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু…।

পাকিস্থানি দালাল রুখবে তারুণ্য সংগঠনের ব্যানার নিয়ে আসা তরুণরা জানান, ঐতিহাসিক আন্দোলনের চারণভূমি চট্টগ্রামে অন্যরকম ঝাঁজ নিয়ে এসেছেন তারা।

তারা বলেন, চট্টগ্রামের মাটি থেকে অনেক আন্দোলনের সৃষ্টি হয়েছে, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, পাকিস্থানি হানাদার বিরোধী আন্দোলন এই চট্টগ্রাম থেকে সৃষ্টি হয়েছে। কোনো বাঙালি যদি পাকিস্থানের পতাকা নিয়ে, পাকিস্থানের জার্সি বহন করে তাহলে এই চট্টগ্রামের যুব সমাজ তা প্রতিহত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন এই তরুণরা।

এর আগে পাকিস্থানের জার্সি পরে আসা এক বাংলাদেশি যুবককে ধাওয়া দিয়ে তার শরীর থেকে জার্সি খুলে নেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা। এরপর নালায় নামিয়ে কানে ধরিয়ে তার যথাযথ শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়।

এক পর্যায়ে ওই পাকিস্থানি শাবক ক্ষুব্ধ দেশপ্রেমিক তরুণদের কাছে কান ধরে ক্ষমা চাইলে তাকে হাত ধরে নোংরা থেকে টেনে তুলে আনা হয়। একইসাথে একটি সিএনজি অটোরিক্সা ডেকে তাকে বাসায় ফেরত পাঠানো হয়।

পাকিস্থানি দালাল রুখবে তারুণ্য, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ও মহসিন কলেজ ছাত্রলীগসহ নগরীর অনেক তরুণ যুবক কয়েকটি ব্যানারে সমবেত হন। কর্মসূচিতে অংশ নেন হামজা রহমান অন্তর, শওকত খান, সুমিত চৌধুরী, নাজমুল হক রাজীব, অরিত্র চৌধুরী, রূপম সরকার, এম. ইউ. সোহেল, আইয়ুব খান রাব্বী, যুবরাজ দাস, খান সামাদ, অভি রায়সহ শতাধিক প্রতিবাদী তরুণ।

আরেক সমর্থক বলেন, মিরপুরের মাঠে পাকিস্থানি সমর্থকদের বাড়-বাড়ন্ত দেখে তারা প্রতিবাদ জানাতে মাঠে এসেছেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জার্সি পরে একটা নীরব প্রতিবাদ জানানোর জন্য এসেছি। যেভাবে তারা পাকিস্থানের পতাকা দিয়ে সমর্থন জানিয়েছে, আমরা বাংলাদেশের জার্সি দিয়ে পরে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এটা চট্টগ্রাম, এটা মিরপুর না।

এই সমর্থকরা যখন এসব কথা বলছিলেন তখন বাংলাদেশ খেলছিল দারুণভাবে। লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমের ঝলকে এগিয়ে যাচ্ছিল দল। ৪৯ রানে ৪ উইকেটে পড়ার পর ৫ম উইকেটে দুজন তখন জুটিতে তুলে ফেলেছেন দেড়শ রান। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২৫৩ রান। মুশফিক ৮২ এবং লিটন দাস ১১৩ রানে অপরাজিত।

টি-২০ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়া বাংলাদেশের জন্য টেস্ট ম্যাচ আরও কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। তবে তাদের আশা, এই ভেন্যুতে ভাল ফল করবে বাংলাদেশ,

কয়েকজন ক্রীড়ামোদি বলেন, খেলায় জয় পরাজয় তো আছেই। কিন্তু এই চট্টগ্রামের মাটিতে কিন্তু বাংলাদেশের বড় জয় আছে। আমরা আশা করি পাকিস্থানকে এখানে বাংলাদেশ পরাজিত করবে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ফর্ম ভালো না থাকলেও চট্টগ্রামে বিপুল দর্শক সমাগম ঘটেছে। দর্শকদেরও হতাশ করেননি মুশফিক-লিটনরা।

বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত আরিফ হোসেন তার স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে খেলা দেখেতে এসেছেন। টানা ব্যর্থতার পরও কেন বাংলাদেশের খেলা দেখতে মাঠে আসা?

উত্তরে আরিফ বলেছেন, বাংলাদেশ দল যেমনই করুক না কেন, আমরা তাদের পক্ষেই আছি। সব সময় বাংলাদেশ দলকে সাপোর্ট দিয়ে যাওয়া আমাদের দায়িত্ব। চট্টগ্রামের মাঠে বাংলাদেশের ভালো কিছু রেকর্ড আছে। আশা করি এখানে বাংলাদেশ দল ভালো করতে পারবে।

এদিকে চট্টগ্রামের ছেলে ইয়াসির আলী রাব্বির অভিষেক হওয়াতে দারুণ খুশি স্থানীয় সমর্থকরা। দল বেঁধে খেলা দেখতে আসা তরুণ সমর্থকরা বলেছেন, অনেকদিন ধরেই দলের সঙ্গে ছিলেন রাব্বি ভাই। তাকে দলে নেওয়া হয়েছে। অভিষেকও এখানেই। আশা করি, চট্টগ্রামের ছেলে হিসেবে উনি চট্টগ্রামকে খুব ভালো করেই রিপ্রেজেন্ট করতে পারবেন।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!