দল গড়তে না গড়তেই লেজে-গোবরে অবস্থা নুরুর!

0

স্পেশাল করেসপন্ডেন্স:

দুর্নীতির দায় থেকে বাঁচতে কথিত অসুস্থতার অজুহাতে ২০০৮ সালে রাজনীতি ত্যাগ করার মুচলেকা দিয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়ে যান বর্তমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের ফর্মুলা অনুসরণ করে ঠিক একইভাবে নিজেকে মাঝে মাঝে অসুস্থ কিংবা নিজের ভাড়া করা লোক দিয়ে নিজের ওপর হামলা নাটকের ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে ভণ্ডামির মাধ্যমে দেশবিরোধী কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরু।

সম্প্রতি একটি সমাবেশে নুরু বলেছেন, দল ও সরকারের ওপর নাকি শেখ হাসিনার নিয়ন্ত্রণ নেই। যদিও বিষয়টি হাস্যকর। কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এক যুগ যাবত একটি দল অনায়াসে ক্ষমতায় থাকতে পারে না।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কতোটা সুসংগঠিত তা প্রমাণ পাওয়া যায়, ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট। যেদিন তারেক রহমান কর্তৃক জননেত্রী শেখ হাসিনার ওপর নৃশংস হামলা চালানো হলে দলের নেতারা নিজের জীবন বাজী রেখে মানব ঢাল তৈরি করে নেত্রীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। নুরুর বক্তব্যটি নিতান্তই উস্কানি ছাড়া আর কিছুই নয়।

এ প্রসঙ্গে নুরুর সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রাক্তন সদস্য মাহফুজুর রহমান বলেন, প্রথম প্রথম নুরু ভাইকে সমর্থন দিয়েছিলাম। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝলাম, তিনি শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার আড়ালে বিএনপির স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

তাছাড়া নুরুর দলটি সুসংগঠিত নয়। তিনি বর্তমানে বিএনপির নেতাদের সুরে কথা বলছেন। যার কারণে প্রতিটি সভা-সেমিনারের তার সঙ্গে বিএনপি ও শিবির কর্মীদের দেখা যায়। অনেকেই বলছেন বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যই মূলত কাজ করছেন নুরু।

আদতে নুরুর নিজের দলই সুসংগঠিত নয়। তিনি মিক্সড আইডিওলজি নিয়ে কাজ করতে চেয়েছিলেন। ফলে দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের আগেই তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় নুরুর অনুসারীরা।

একটি পক্ষ সরাসরি পাকিস্থানি মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ না হয়ে মানুষের ‘অ্যাটেনশন’ পেতে ভারতবিরোধী মনোভাবে এগোতে চায়। জামায়াতপন্থী আরেকটি পক্ষ বলছে, তারা যেকোনো মূল্যে নুরুর রাজনৈতিক দলের লেবাসে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করবে এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিবে। সর্বশেষ পক্ষ চায় বিএনপির মতাদর্শেই নুরু দল গঠন করুক।

এমতাবস্থায় ২০১৮ সালে কোটা আন্দোলনের সময় নুরুর যতটা গ্রহণযোগ্যতা ছিলো, বিভক্তির পর সব উড়ে গেছে। নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে রীতিমত লেজে-গোবরে অবস্থা নুরুর। ফলে যেখানে নিজের দলই খণ্ডিত, সেখানে অন্য দল নিয়ে কথা বলাটা নিঃসন্দেহে অমূলক।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আগে নিজের দলকে সুসংগঠিত করার পর অন্যের সমালোচনা করলে গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। নতুবা বিএনপির মতো এক সময়ে কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে গণঅধিকার পরিষদ।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!