বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশে খালেদার চিকিৎসকদের মুখ বন্ধ!

0

স্পেশাল করেসপন্ডেন্স:

বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কিছুই বলছেন না তার চিকিৎসকরা। তার শারীরিক অবস্থার আপডেট জানাচ্ছেন বিএনপির নেতারা।

দলীয় একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানিয়েছে বাংলানিউজ ব্যাংক।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, রুহুল কবির রিজভী, খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ অনেক নেতা এখন ডাক্তারের ভুমিকা পালন করছেন। তারা বলছেন, খালেদা জিয়ার জীবন সংকটাপন্ন। বাংলাদেশে তার চিকিৎসা নেই। তাকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎকসার প্রয়োজন।

এভারকেয়ার হাসপাতালের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়া সুস্থ-স্বাভাবিক রয়েছেন, গতকাল হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ায় তার অবস্থা খারাপ ছিল, রক্ত দেবার পর তিনি আবার সুস্থ হয়ে উঠেছেন। আর তার অসুস্থতা মূলত বার্ধক্যজনিত।

বিদেশে চিকিৎসার জন্য গেলেই যে তিনি সুস্থ হয়ে যাবেন বিষয়টা এমন নয়। যতদিন বেঁচে থাকবেন তাকে প্রপার কেয়ারে থাকতে হবে। কিছু কিছু অভ্যাস বাদ দিতে হবে, নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শে থাকতে হবে।

এদিকে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা সাংবাদিকদের সামনেই আসছেন না। তবে মাঝে-মধ্যে বিএনপিপন্থী চিকিৎসক সংগঠন ড্যাব-এর চিকিৎসকরা খালেদা জিয়াকে বিদেশ নেবার কথা বলছেন।

ড্যাবের এক নেতা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, ম্যাডামের চিকিৎসকদের মিডিয়ার সামনে না আসতে করা নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় হাইকমান্ড। কারণ শীর্ষ নেতারা মনে করছেন এবার ম্যাডামকে বিদেশ পাঠাতে পারবেন। আর ম্যাডামের অবস্থার উন্নতির বিষয়টি সামনে আসলে এ যাত্রায়ও ভেস্তে যেতে পারে বিএনপির সকল পরিকল্পনা।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খালেদা জিয়াকে বিএনপি যা করছে তা পুরোটাই রাজনীতি। তারা চাইছেন খালেদাকে যে কোনো মূল্যে বিদেশে পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরকারবিরোধী অপপ্রচার চালাতে। তাই অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে দেশে তার চিকিৎসা করছেন।

আর বিএনপির নেতারা বলে বেড়াচ্ছেন, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন খালেদা জিয়া। আরও নাটকীয়তা নিয়ে বলছেন- খালেদা জিয়া মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন… ইত্যাদি। আসলে তাদের মূল উদ্দেশ্য দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র বেগবান করা।

নরসিংদী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

নরসিংদীতে পুলিশের দায়ের করা মামলায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার শামস কেনেডিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার বৌয়াকুড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত শাহরিয়ার শামস কেনেডি নরসিংদী সদরের সাবেক এমপি প্রয়াত শামসুদ্দিন আহমেদ এসহাকের ছেলে।

জানা যায়, গত ২২ নভেম্বর সোমবার বিকেলে খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা করতে দেওয়ার দাবিতে সমাবেশ ছিল নরসিংদী জেলা বিএনপি কার্যালয়ে। বিকেল ৪টার দিকে পুলিশ তাকে কার্যালয়ের আশপাশ হতে আটক করে।

পরদিন ২৩ নভেম্বর বিকেলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির, শাহরিয়ার শামস কেনেডিসহ বিএনপির ৭২ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত ১৫০-২০০ জনকে আসামি করে পুলিশি কাজে বাধা সৃষ্টি, ইট-পাটকেল ছুড়ে পুলিশকে আক্রমণ এবং অটো ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা করে পুলিশ।

মামলার এজাহার অনুসারে, সোমবার বিকেলে বিএনপি নেতাকর্মীরা নরসিংদী সদরের চিনিশপুর এলাকায় রাস্তা বন্ধ করে দলীয় অনুষ্ঠান করছিল। পুলিশ তাদের রাস্তা থেকে সরে যেতে বললে তারা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছোড়ে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।

এ সময় ইটের আঘাতে আবু সাইদ ও সবুজ মিয়া নামে দুজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়। তার প্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার বৌয়াকুড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নরসিংদী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নাসির উদ্দিন দাবি করেন, আমি যতটা জানি ঘটনার দিন শাহরিয়ার শামস কেনেডি ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন না। তিনি ঢাকায় ছিলেন।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!