যুবদল নেতাকে মারতে উদ্যত হলেন মির্জা ফখরুল!

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

সভায় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাদের সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় ফখরুলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন ছাত্রদল ও যুবদল নেতারা। আর উত্তেজিত হয়ে মারমুখি ভঙ্গিতে তাদের দিকে তেড়ে যান বিএনপির মহাসচিব।

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সোমবার নব্বইয়ের ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের উদ্যোগে ‘স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ এর আলোচনায় মির্জা ফখরুল বক্তব্য রাখার সময় এ ঘটনা ঘটে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘শুনেছি ছাত্রদল, যুবদলের নেতারা রাজনীতি বাদ দিয়ে নানা ব্যবসায় জড়িত হয়ে পড়েছেন। ম্যাডাম অসুস্থ, তাকে আমরা বিদেশে পাঠাতে পারছি না, অথচ আপনারা ব্যবসা করছেন! কেউ কেউ কমিটি বাণিজ্য, চাঁদাবাজিতেও জড়িয়ে পড়েছেন বলে কানে আসে। ধিক্কার দিই আমি আপনাদের। শেইম।’

এ সময় মিলনায়তনের দ্বিতীয় তলায় থাকা যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহিন দাঁড়িয়ে ফখরুলের বক্তব্যের দ্বিমত জানিয়ে বলেন, ‘ছাত্রদল – যুবদল এসব করে না। আমরা রাজপথেই আছি। বরং আপনিই টাকা খেয়ে দলের তথ্য পাচার করে দেন।’

মির্জা ফখরুল তাকে থামিয়ে বলেন, ‘ইউ ডোন্ট নো। তুমি বাজে কথা বলবে না। তুমি জানো না। আমি জানি বলে বলছি। এই দাঁড়াও, কী?… চুপ করো। তুমি জানো না। ইউ ডোন্ট নো। ইউ ডোন্ট নো। ইউ ডোন্ট নো… । এই দাঁড়াও, বাজে কথা বলবা না।

এই ছেলে কে তুমি। তুমি এদিক দিয়ে বেরিয়ে আসো। তুমি জানো না সেটা, সে জন্য এ কথা বলছ। তুমি জানো না…। আমি জানি বলে বলছি। এই বেয়াদব! চুপ…চুপ বেয়াদব। এদিকে আসো। এদিকে আসো…। তুমি এদিকে আসো।’

মঞ্চে থাকা নেতাদের দিকে তাকিয়ে মির্জা ফখরুল জিজ্ঞেস করেন, ‘কে এটা? হু ইজ দিজ বয়?’ এরপর সামনের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘কে? তুমি কে? এদিকে আসো তো। এদিকে আসো… । তুমি এগুলো জানো না।’

কিন্তু শাহিন এগিয়ে না এলে তার দিকে মারমুখি ভঙ্গিতে তেড়ে যান মির্জা ফখরুল। পরে দলের অন্য নেতারা তাকে ধরে আবার মঞ্চে নিয়ে যান। মহাসচিবের এমন আচরণে পুরো মিলনায়তনে কর্মীরা ক্ষুব্ধ হন। এ সময় মিলনায়তনে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা মির্জা ফখরুলের বিপক্ষে মুহুর্মুহু স্লোগান দিতে থাকেন।

এ সময়ে মঞ্চে থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে হাসতে দেখা যায়। গোলাম মাওলা শাহিন মির্জা আব্বাসের অনুসারী বলে জানা গেছে।

বিএনপির তরুণ নেতা ইশরাক হোসেন দাবি করেন, মির্জা আব্বাস দলের মহাসচিব হতে চান। টাকা দিয়ে ঢাকা নগরের সব পদে নিজের অনুসারীদের বসিয়েছেন। আমাকে পর্যন্ত পদবঞ্চিত করেছেন। এখন তার অনুসারী নেতাদের দিয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এসব করাচ্ছেন।

নিজের ক্ষমতার জন্য দলের ক্ষতি করছেন তিনি। মির্জা আব্বাসের মত লোভীদের হাত থেকে দলকে মুক্ত না করতে পারলে বিএনপির ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!