কঠোর অবস্থানে শেখ হাসিনা: জাহাঙ্গীর-মুরাদের পর কার পালা?

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীরের পর তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ পদ এবং দল দুটিই হারালেন। এটি নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কঠোর বার্তা দিয়েছিলেন সেই কঠোর বার্তার ভাষা যারা বোঝেনি, তাদের জন্য এ দুটি ঘটনা দৃষ্টান্ত।

আওয়ামী লীগের অনেকেই মনে করছেন, বহু জাহাঙ্গীর এখন আওয়ামী লীগে লুকিয়ে আছে, বহু মুরাদকে পাওয়া যাবে। এরা এই সিদ্ধান্ত থেকে শিক্ষা নিলে তাদেরও মঙ্গল, দলেরও মঙ্গল। তারা যদি এই ঘটনা থেকে শিক্ষা না নেয় তাহলে এরপর হয়তো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো অনেকের বিরুদ্ধেই একই রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন, শেখ হাসিনা নির্বাচনের আগে কোন রকম বিতর্কিত ব্যক্তিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিবেন না। জাহাঙ্গীর এবং মুরাদের ঘটনার মধ্য দিয়ে সেই বার্তাটা তিনি সুস্পষ্টভাবে দিয়েছেন। এখনও যারা জাহাঙ্গীর বা মুরাদের মত দলের ভিতরে ঘাপটি মেরে রয়েছেন এবং বিভিন্ন রকম বিতর্কিত মন্তব্য করছেন তাদেরও সময় ঘনিয়ে এসেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে বিতর্কিত মন্তব্য করার যেন এক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌরসভা নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের তৃণমূলের বিভিন্ন ভুঁইফোড় নেতা একের পর এক লাগামহীন এবং দায়িত্ব জ্ঞানহীন মন্তব্য করছিলেন। তাদের মন্তব্যগুলো হিতে বিপরীত হচ্ছিল এবং আওয়ামী লীগের জন্যও হয়ে উঠেছিল অত্যন্ত বিব্রতকর।

আর সে কারণেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এই ধরনের ব্যক্তিদেরকে লাগাম দ্রুত টেনে ধরার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি এই দুটি ঘটনার মধ্যে দিয়ে দেখালেন, তিনি দেশের জন্য, দলের জন্য এবং আদর্শের জন্য কতটা নির্মোহ এবং কঠোর হতে পারেন। আর এ কারণেই এই দুটি ঘটনা আওয়ামী লীগের জন্য একটি বড় ধরনের শিক্ষা বলে অনেকে মনে করছেন।

ডা. মুরাদের ঘটনার পর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা আলোচনা করছেন, এরপর কার পালা? আওয়ামী লীগ সভাপতি কিছুদিন আগেই দলের সিনিয়র নেতাদেরকে বলেছিলেন, তিনি শুদ্ধি অভিযান করবেন। যারা দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করবে কিংবা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে তাদের কাউকে তিনি ছাড়বেন না।

শেখ হাসিনার হুঁশিয়ারিকে যারা স্রেফ কথার কথা মনে করেছিলেন তারা আসলে বোকার স্বর্গে বসবাস করছিলেন। এখন শেখ হাসিনা প্রমাণ করলেন, তিনি যেটি বিশ্বাস করেন, সেটি কাজে প্রমাণ করতে এতটুকু কার্পণ্য বোধ করেন না।

মেয়র জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুরের নিঃসন্দেহে জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। উড়ে এসে জুড়ে বসা নেতা নন, তিনি এবং তার পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বহু বছর ধরে। তরুণ সম্ভাবনাময় একজন নেতা হিসেবে তার পরিচিতও ছিল। আর সে কারণেই কেউ ভাবতে পারেননি জাহাঙ্গীরকে এভাবে দল এবং মেয়র পদ ছাড়তে হবে।

কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কাছে আদর্শ সবচেয়ে মূল্যবান। নীতি-আদর্শের প্রশ্নে তিনি যে এতটুকু ছাড় দেন না, জাহাঙ্গীরের ঘটনার মধ্য দিয়ে তিনি সেটি প্রমাণ করেছিলেন।

আর ডা. মুরাদের সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ড নিয়ে আওয়ামী লীগের ভেতরেও সমালোচনা হচ্ছিল। এমনকি আওয়ামী লীগের নেতারা প্রকাশ্যে ডা. মুরাদের সমালোচনা করতেও ভয় পেত। কারণ মুরাদ বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কিন্তু শেখ হাসিনার একটি সিদ্ধান্ত পুরো আওয়ামী লীগের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। আওয়ামী লীগ নেতারা- বিশেষ করে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা মনে করছেন, শেখ হাসিনা সব দেখছেন, সব জানেন। যারা সীমা লঙ্ঘন করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কোনো কার্পণ্য করবেন না তিনি।

আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই মনে করছেন, বিভিন্ন স্তরে যারা শৃঙ্খলা বিরোধী এবং দলের নীতি আদর্শ পরিপন্থী কাজ করছেন তাদের বিরুদ্ধেও শেখ হাসিনা ব্যবস্থা নেবেন। এখন দেখার অপেক্ষায়, জাহাঙ্গীর এবং মুরাদের পর কে এই ধরনের পরিণতি বরণ করেন। বাংলাইনসাইডার।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!