ডা. মুরাদকে রাস্তায় ফেলে হত্যার হুমকিদাতা ইশরাকের বিচার হবে না? (ভিডিও)

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগকারী তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান সারাদেশে তীব্রভাবে সমালোচিত। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে ডা. মুরাদের মন্তব্যে দেশের সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ, শাস্তির দাবিও ওঠে। ফলে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মূর্ত প্রতীক শেখ হাসিনা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন।

এতে দেশের সাধারণ মানুষের মত বিএনপির নেতা-কর্মীরাও তাঁকে সাধুবাদ জানান। যাকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন ডা. মুরাদ, সেই জাইমা রহমানও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন। দেশের সুশীল সমাজের মাঝে ধন্য ধন্য রব উঠেছে।

একজন মানুষ যত বড় অপরাধই করুক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইনের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ আছে ক্ষতিগ্রস্তদের। তাই বলে সেই অপরাধীকে হত্যা করা যায় না আইন বহির্ভূতভাবে।

তবে একটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল পদে থেকে হাজারো লোকের সামনে প্রকাশ্য জনসভায় সেই অপরাধীর উদ্দেশ্যে অশ্রাব্য ভাষা প্রয়োগ করে তাকে রাস্তায় ফেলে হত্যার ঘোষণা দেওয়াটাকে নিশ্চয় বর্বরতা বলা যায়।

আর সেটাই ঘটেছে। রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত এবং প্রতিহিংসার রাজনীতির চর্চাকারী দল হিসেবে স্বীকৃত জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির বৈদেশিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন অসভ্যতার চূড়ান্ত পর্যায়ের নিদর্শন দেখিয়েছেন।

কয়েকদিন আগে বিএনপি আয়োজিত একটি সভায় বক্তৃতার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেই ভিডিওতে ইশরাক বলেন-

“… গত কিছুদিন ধরে আমরা সরকারের এক আধামন্ত্রীর উল্টা-পাল্টা বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় শুনছি। গতকাল যখন আমি তার একটা বক্তব্য দেখছিলাম। তখন আমার মনে হলো- এই মুরাদ, মুরাইদ্যা কই থাকে, এই শু*** বাচ্চা কোথায় থাকে, তোর বাসা কোথায়? তোর মাথা ভাইঙ্গা আমরা তোকে… তুই ঢাকার মাটিতে থাকস। তুই উল্টা-পাল্টা কথা বলস আমাদের নেতা সম্বন্ধে।

তারপর ভাবলাম, এই মুরাদের মত কুলাঙ্গারদেরকে দিয়ে এই সরকার আমাদের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর জন্য এসব উল্টা-পাল্টা কথা বলাচ্ছে। ভাই আমি বলি, এই মুরাদ-ফুরাদকে তো আমরা এক ঘণ্টার মধ্যেই ধরে রাস্তাঘাটে পিটায়ে দিতে পারি …”

এর আগে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের একটি ঘৃণ্য বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে অত্যন্ত জঘন্য এবং নোংরা কিছু মন্তব্য করেন।

বিএনপি নেতা আলাল এবং ইশরাকের এসব বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়নি। সুশীল সমাজের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে করা জঘন্য বক্তব্যে নারীবাদী নেত্রীদের শরীরেও জ্বলন হয়নি। প্রথম আলো বা ডেইলি স্টারে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠা প্রতিবেদন বা কলামও দেখা যায়নি।

এমন দ্বৈত চরিত্র-ধারণের পেছনে প্রকৃত রহস্য কী? বক্তব্যদাতারা বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলে? এক্ষেত্রে ভিক্টিম সরকারি দলের লোকজন বলে? নইলে চারদিকে এত সুনসান নীরবতা কেন?

ভিডিও:

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!