‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুরকারীদের আদর করা হয়েছে’

0

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

সংসদ সদস্য এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেছেন, বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল নিয়ে কটূক্তি করায় এক মেয়রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যারা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালকে খুঁচিয়ে-খুঁচিয়ে ভেঙেছে তাদেরকে আদর সোহাগ করা হয়েছে। এক দেশে দুই নীতি চলতে পারে না।

বুধবার (৮ ডিসেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে শহরের ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে বীর মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হেফাজতকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, আজ যারা বলছেন আমার সঙ্গে তাদের দূরত্ব আছে, আমি মহব্বতের সঙ্গে বলি তাদের সঙ্গে আমার কোনো দূরত্ব নেই। কেবল একটি কথা তারা বলুক ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’। তারা জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করুক।

অন্তত এইটুকু বলুন, আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি। আপনার সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ বা দূরত্ব নেই। আপনারা এমপি হতে চান, মন্ত্রী হতে চান, হন আমার কোনো আপত্তি নেই। অন্তত জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলে সেট হন। চাঁদ-তারা মার্কা পতাকা নয় লাল-সবুজের পতাকা ওড়ান।

এই বীর মুক্তিযোদ্ধা এ সময় ডা. মুরাদ হাসান না হওয়ার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

এ সময় ইসলামের নামে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে ওঠা মাদ্রাসাগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্যে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের মাধ্যমে সরকারের কাছে প্রস্তাবনা তুলে ধরে সংসদ সদস্য মোকতাদির চৌধুরী বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অসংখ্য মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে। এসব মাদ্রাসার একটি নীতিমালা থাকা দরকার।

ব্যাঙের ছাতার মত মাদ্রাসা গড়ে ওঠা ঠিক নয়, এতে ইসলামেরই অবমাননা হচ্ছে। এগুলোতে সঠিকভাবে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয় না। আমি সরকারের কাছে প্রস্তাব রাখছি প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে একটি কমিটি গঠন করা হোক। যাতে কওমি মাদ্রাসার প্রতিনিধিরাও থাকুক। এক মাদ্রাসা থেকে অপরটির দূরত্ব নির্ধারণ ও নিশ্চিত করা হোক।

এ প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি দেখেছি একই ভবনে একাধিক মাদ্রাসা আছে। এতে ইসলামের নামে ব্যবসা হচ্ছে। আমরা এসব ব্যবসা কেউ সাপোর্ট করতে পারি না।

উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আসুন এদের বিরুদ্ধে আমরা আমাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরি। কারো সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ্-দৌলা খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র নায়ার কবীর, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারসহ অন্তত ৩ শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!