সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বিএনপি

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসতে আরো ২ বছর বাকি। ইতিমধ্যে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু তার আগে থেকেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে।

জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি নেতৃবৃন্দ জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতের সময় গণমাধ্যমকে বলেছে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না। শুধু অংশগ্রহণ করবেন না, এটি বলেই তারা ক্ষান্ত হননি; তারা আরও বলেছেন, এই নির্বাচনকে তারা প্রতিহত করবেন।

২০১৮ সালে বিএনপি দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। কাজেই আবার নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি উচ্চারণ তাদের পক্ষে কোনোভাবেই নৈতিকতার মানদণ্ডে গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু বিএনপি সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অবস্থানেই আবার ফিরে এসেছে। এর কারণ কী?

বিভিন্ন সূত্র বলছে, বিএনপির মতে ২০১৪ বা ২০১৮ সালের মতো আরেকটি নির্বাচন আওয়ামী লীগ সরকার করতে পারবে না। আর এ কারণেই এখন থেকেই তারা মাঠে নেমেছে। বিএনপি মুখে বলছে, তারা নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়। কিন্তু বাস্তবতায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি মৃত অধ্যায়।

কারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার কোনোদিনই বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

বিএনপি মূলত নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি সামনে রেখে আগামী নির্বাচনে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চাচ্ছে। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আগামী নির্বাচন করার ব্যাপারে একটি রূপ-পরিকল্পনা বিএনপি গ্রহণ করেছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি।

সাধারণত যেসব দেশে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়, যেসব দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম অভিযোগ আছে এবং যেসব দেশের সরকার আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়, ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ ও সংঘাতপূর্ণ সেসব দেশেই জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে নির্বাচন হয়ে থাকে।

বাংলাদেশ কোনো বিবেচনাতেই এর মধ্যে পড়ে না। কিন্তু খুব সক্রিয়ভাবে এখন সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্যই কাজ করছে বিএনিপ। তারা দেশে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাইপ তুলছে। আর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলছে সরকারকে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী এবং গণতন্ত্র হত্যাকারী একটি সরকার হিসবে তুলে ধরার নানা অপপ্রয়াস।

সাম্প্রতিক সময়ে সেসব অপচেষ্টা দৃশ্যমান হয়েছে। যেমন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি, অ্যানফ্রেলের মতো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত সংগঠনগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে বাংলাদেশে মানবাধিকার নেই এমন বক্তব্য প্রচারের জন্য। যে প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মদদপুষ্ট হয়ে অন্য দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় ইন্ধন দেয় বলে অনেক দেশে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে; আর সেসব প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হচ্ছে বিএনপি।

আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ করে বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো থেকে বিরত রাখা হচ্ছে, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৭ সদস্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রভাবিত করা হচ্ছে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ভঙ্গুর এবং মানবাধিকার হরণ করা হচ্ছে বলে।

আর এই সমস্ত অপপ্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেন আরও সক্রিয় এবং প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে সেজন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনের ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করে, সেক্ষেত্রে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপটা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

ইতিমধ্যে জাতিসংঘেও বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে আগে বিদেশে পরিকল্পিত অপপ্রচার করে বাংলাদেশকে একটি মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী দেশ হিসেবে উপস্থাপনের প্রাণান্তকর চেষ্টা চলছে। এই চেষ্টার মূল লক্ষ্য হলো, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বর্তমান সরকারের ওপর অনাস্থা সৃষ্টি করা।

এই অনাস্থা সৃষ্টির বিষয়টিকে যদি শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘ স্বীকৃতি দেয়, তাহলে জাতিসংঘ আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশে হস্তক্ষেপ করতেও পারে। ইতিমধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বলেছেন, আগামী নির্বাচনে পরামর্শক হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আসলে বাংলাদেশের কোনো আপত্তি নেই।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সংসদ নির্বাচন একান্তই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এই নির্বাচনে বাংলাদেশে কীভাবে হবে, তা নির্ধারণ করবে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো এবং জনগণ। নির্বাচনে বাইরের হস্তক্ষেপের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না সেটি খতিয়ে দেখা দরকার এখনই। বি.ইন।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!