পাবনার অধ্যক্ষ কর্তৃক ধ-র্ষণচেষ্টার অভিযোগকারী শিক্ষিকাকে বরখা-স্ত

0

পাবনা প্রতিনিধি:

পাবনার সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজাউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ধ-র্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করা সেই শিক্ষিকাকে বরখা-স্ত করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

সিরাজগঞ্জের মিরপুর উচ্চবিদ্যালয়ের এই শিক্ষিকা বুধবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমার পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো আমাকে সাময়িক বরখা-স্ত করল। এছাড়া অধ্যক্ষ সুজাউদ্দোলা জামিনে মুক্ত হয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন লোকজনকে দিয়ে আমাকে মোবাইল ফোনে চাপ দিচ্ছেন। এসব নিয়ে আমি ও আমার পরিবার মানসিক বি-পর্যয়ের মধ্যে রয়েছি।

প্রসঙ্গত, এই শিক্ষিকা সিরাজগঞ্জ থেকে পাবনায় গিয়ে ওই কলেজে এমএড কোর্সের ক্লাস করেন। তিনি প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেলে সেখানে গিয়ে ছাত্রীনিবাসে রাত্রি যাপন ও শুক্রবারে ক্লাস শেষে বিকেলে বাড়ি ফেরেন। গত ১২ জুলাই রাতে অধ্যক্ষ সুজাউদ্দোলা জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে হোস্টেলের গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে তাকে ধ-র্ষণের চেষ্টা করেন এই অভিযোগে তিনি পাবনা থানায় মামলা করেছেন।

তারপর ১৬ জুলাই তাকে স্কুলের চাকরি থেকে সাময়িক বরখা-স্ত করা হয়।

শিক্ষিকার অভিযোগ, স্কুলের একটি ক্ষমতাধর মহল আমাকে অ-পসারণ করার ষড়-যন্ত্র করছে। তাদের উ-স্কানিতে কিছু শিক্ষার্থী উত্তে-জিত হয়। এক পর্যায়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশের সহায়তায় বিদ্যালয় ত্যাগ করি। এ অবস্থায় স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাকে আত্ম-পক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কারণ দর্শানোর এবং সাময়িক বরখা-স্তের দুটি চিঠি পাঠায়। এর পরদিন শিক্ষার্থীদের দিয়ে আমাকে অ-পসারণের দাবিতে মানব বন্ধন করায় ক্ষমতাধর ওই মহলটি।

চিঠিতে কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, পাবনা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষের সাথে আপনার অ-নৈতিক/ অ-সামাজিক কাজে জড়িত থাকার রিপোর্ট বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ও ফেসবুকে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়। যা অত্র বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বি-রূপ প্রতি-ক্রিয়া সৃষ্টি করে। যার ফলশ্রুতিতে সকল শিক্ষার্থী ক্লাস ত্যাগ করে আপনার বিরু-দ্ধে অ-সন্তোষ প্রকাশ করে এবং বিক্ষো-ভ প্রদর্শন করতে থাকে। এমনকি অভিভাবকগণও শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে আপনার অ-পসারণ দাবি করে।

এমতাবস্থায় বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যালয়ের সুনাম ও স্বার্থ রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার নিমিত্তে আপনাকে ১৪ জুলাই হতে সাময়িক বরখা-স্ত করা হইল।

চিঠিতে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম মণ্ডলসহ ১০ সদস্য স্বাক্ষর করেন।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের রফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা কার কথায় মানব বন্ধন করেছে বিষয়টি আমার জানা নেই। ম্যানেজিং কমিটির সিদ্বান্ত মোতাবেক বিধান মেনেই শোকজ ও সাময়িক বরখা-স্তের দুটি চিঠি একসঙ্গে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন !
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply