তালেবালরা আমাকে চেনে, আমার মুভিও দেখে: ইয়াসমিন

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মেয়েদের আপাদমস্তক ঢেকে রাখায় বিশ্বাসী আফগানিস্তানের নয়া শাসক তালেবাল। তবে সেই আফগানিস্তানেরই এক নারী প্রাপ্তবয়স্কদের সিনেমায় অভিনয় করেন। পেশাদার ওই তারকা বর্তমানে আফগানিস্তানে থাকেন না। তবে তালেবাল শাসনের প্রথম দফায় তিনি কাবুলেই ছিলেন। তাদের ভয়াবহতা সামনে থেকে দেখেছেন।

তার নাম ইয়াসমিন আলী। তার দাবি, তিনিই আফগানিস্তানের প্রথম এবং একমাত্র বড়দের সিনেমার তারকা। তার আগে বা পরে কেউ আফগানিস্তান থেকে এমন সিনেমায় অভিনয়ের সাহস দেখাননি।

এই ধারার সিনেমার দুনিয়ায় ইয়াসমিনের জনপ্রিয়তা ব্যাপক। তারপরও তালেবালরা যে তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি, তার কারণ ইয়াসমিনের সাম্প্রতিক ঠিকানা। তিনি এখন ব্রিটেনে থাকেন।

শুধু তা-ই নয়, নিজের ধর্মও ত্যাগ করেছেন তিনি। নিজেকে এখন ‘ঈশ্বরে অবিশ্বাসী’ বলে প্রচার করেন ইয়াসমিন। তবে তার দাবি, তার জনপ্রিয়তার কথা তালেবালদের অজানা নয়। এমনকি, তারা তার অভিনীত ছবি এবং ভিডিও দেখেন।

এক সাক্ষাৎকারে ইয়াসমিন বলেছেন, সেসব ভিডিও দেখলেও তালেবালরা তাকে ঘৃণার চোখেই দেখে। কারণ তালেবালদের ভাবনায় মেয়েদের শরীর প্রদর্শন ঘোরতর অপরাধ।

তালেবালরা তাকে নিয়ে কী ভাবতে পারেন, তা-ও জানিয়েছেন ইয়াসমিন। বলেছেন, ওরা নিশ্চয়ই মনে করে, আমার এত সাহস কী করে হয় যে আমি আফগান হয়ে প্রকাশ্যে আমার শরীর প্রদর্শন করছি!

ইয়াসমিন বলেছেন, ওরা মনে করে আমার শরীরের ওপর শুধু ওদের কর্তৃত্ব রয়েছে। আর আমি যদি সর্বসমক্ষে শরীর প্রদর্শন করি, তবে আমি প্রকৃত আফগান নয়। আমার দেশপ্রেমে ঘাটতি আছে।

তবে তাতে কিছু যায় আসে না ইয়াসমিনের। তার কথায়, আমি আফগান তো কী হয়েছে! আমার দেশপ্রেম কতটা, তা কি তালেবাল ঠিক করে দেবে? ওরাও আমার ফিল্ম দেখে। কিন্তু প্রকাশ্যে বলতে পারে না।

ইয়াসমিনের দাবি, মেয়েদের ‘বস্তু’ মনে করে তালেবাল। এ কথা তিনি বরাবরই জেনে এসেছেন। আফগানিস্তানে তালেবালদের প্রথম দফার শাসনে স্বচক্ষে দেখেছেন।

ইয়াসমিনের মা তাকে তখন বলতেন, আফগানিস্তানে ‘ধর্ষণ’ বলে কোনও কথা নেই। তালেবাল চাইলে যে কোনও মেয়ের সঙ্গে যা খুশি করতে পারে। আফগান পুরুষদেরও তালেবালদের সহিংসতার শিকার হতে দেখেছেন তিনি।

নানা কারণে, এমনকি ধর্মীয় পোশাক যথাযথ ভাবে পরিধান না করলেও তাদের জনসমক্ষে নৃশংসভাবে মারতে দেখেছেন বলে জানান ইয়াসমিন।

৯০-এর দশকে আফগানিস্তানে যখন এসব চলছে, তখন প্রাণ বাঁচাতে মায়ের সঙ্গে ব্রিটেনে চলে আসন ইয়াসমিন। এরপর ব্রিটেনেই নিজের শিক্ষা সম্পূর্ণ করেছেন। পেশা হিসেবে এই জগতকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত তার নিজের।

ইয়াসমিনের কথায়, আমি ধর্মকে অনেক আগেই বিদায় জানিয়েছি। পেশার প্রয়োজনে শরীর প্রদর্শনের সিদ্ধান্তও আমার।

তবে পেশার জন্য তালেবালরা তার সরাসরি কোনও ক্ষতি করতে না পারলেও হুমকি দেয়। ইয়াসমিন জানিয়েছেন, মাঝে মধ্যেই তার কাছে ই-মেইল আসে। তাকে ‘ইহুদি’ এবং ‘গুপ্তচর’ বলে আক্রমণ করা হয় সেখানে।

ইয়াসমিন জানিয়েছেন, তালেবালদের অদ্ভুত মানসিকতা দেখে তার হাসি পায়। যে মহিলাদের ছাড়া মানব জগৎ চলবে না, তাদেরই এভাবে দাবিয়ে রাখতে চায় তালেবালরা।

ইয়াসমিন বলেন, আফগানিস্তানে এখনও ঋতুচক্রে থাকা এক মহিলাকে ‘অপবিত্র’ ভাবা হয়।

আফগান এই তারকা জানিয়েছেন, গোটা ব্যাপারটাই আসলে মেয়েদের নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়া। কারণ, তালেবালরা ভয় পায় মেয়েরা শরীর দেখিয়ে বেড়ালে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না তারা।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!