আবারও ফখরুল-মোশাররফ দ্বন্দ্ব চরমে, ভাঙনের শঙ্কায় বিএনপি

0

স্পেশাল করেসপন্ডেন্স:

বিএনপির নেতা-কর্মীরা দিন দিন যতই আন্দোলনমুখী হচ্ছে, ততই দলের বিভক্তি প্রকাশ্য রূপ পাচ্ছে। কাগজে-কলমে ঐক্যবদ্ধ থাকলেও বাস্তবে দলটি বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেন। তিনি তার অনুসারীদের নিয়ে আলাদা বৈঠক করেন। অন্যদিকে দলের সিনিয়র নেতা স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন তার বাসভবনে আরেক গ্রুপের সঙ্গে বৈঠক করেন, রাজনৈতিক কৌশল সম্পর্কে আলাপ-আলোচনা করেন।

এই দুই গ্রুপের আলাদা আলাদা কার্যক্রম এখন বিএনপিতে আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে। তৃতীয় একটি পক্ষ আবার বিশেষ সুযোগ নিতে তাদের খবরা-খবর পাঠাচ্ছেন লন্ডনে!

জানা যায়, দুই গ্রুপের বিভক্তি প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লার মেয়র মনিরুল হক সাক্কু ও খুলনা বিএনপির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জুর অব্যাহতি এবং খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা তৈমুর আলমকে বহিষ্কার নিয়ে। এহেন সিদ্ধান্ত বিএনপির অধিকাংশ নেতা-কর্মী ভালোভাবে নেননি।

সাক্কু, মঞ্জু বা তৈমুর নন, এর আগে বিএনপি নেতা শওকত মাহমুদ এবং হাফিজ উদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়গুলো নিয়ে বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে উত্তাপ-উত্তেজনা চলছিল।

যেহেতু বিএনপি কোনো রকম কর্মসূচির মধ্যে ছিল না, সেজন্য এসব বিভক্তি এবং মতপার্থক্যগুলো প্রকাশ্য রূপ নেয়নি। কিন্তু এখন যখন বিএনপি প্রকাশ্য আন্দোলনের পক্ষে যাচ্ছে, বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশে বক্তব্য রাখছে, তখন বিএনপিতে বিভক্তিগুলো প্রকাশ্য রূপ ধারণ করছে।

সম্প্রতি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বাসভবনে বিএনপির একাংশের নেতাদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে। সেখানে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়া নিয়ে বিএনপি ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে বলে কয়েকজন নেতা মন্তব্য করেন। তাদের সঙ্গে একমত হন মোশাররফ হোসেন।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা এক নেতা জানান, আন্দোলন গড়তে হলে বিএনপিতে যেমন জনপ্রিয় ও দক্ষ স্থানীয় নেতা প্রয়োজন, তাদের নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। আন্দোলন চাঙ্গা করতে হলে তাদের ফিরিয়ে এনে কাজে লাগাতে হবে।

এদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অনুসারীরা মনে করছেন, ধাপে ধাপে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা একটি ইস্যু মাত্র। আগে সংগঠন গোছাতে হবে। তারপর ধাপে ধাপে আন্দোলন করতে হবে। হুট করে কোনো কিছু করে সরকারের বিরাগভাজন হওয়া যাবে না।

আর মোশাররফ হোসেনপন্থীরা মনে করছেন, সংগঠন গোছানোর সময় এখন নেই। অসুস্থ খালেদার ইস্যুই হোক, বা অন্য যেকোনো ইস্যুতে এখনই চূড়ান্ত আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সরকারকে চাপে রাখতে হবে যেকোনো উপায়ে।

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হলেন তারেক রহমানের অন্ধ অনুসারী। তারেক যা যা নির্দেশ দিচ্ছেন, ফখরুল ও তার অনুসারীরা তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন।

তারেক এই আন্দোলনকে দীর্ঘমেয়াদি করে আগামী নির্বাচনে বড় ধরনের আন্দোলনের পক্ষে। এর সঙ্গে দেশি-বিদেশি নানা চক্রান্তকে যুক্ত করে নির্বাচনের আগে সরকারকে অকার্যকর করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

তবে বিএনপির অধিকাংশ নেতা-কর্মী মনে করেন, তারেক রহমান অতীতে বিভিন্ন ফর্মুলা দিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। এবারও তার ফর্মুলা ব্যর্থ হবে। এসব হঠকারী পদক্ষেপ কখনই বিএনপির জন্য ইতিবাচক ফলাফল আনবে না। ফলে আন্দোলনের যত সময় বাড়বে, বিএনপির মধ্যে বিভক্তি ততই প্রকাশ্য রূপ নেবে।

এদিকে কোন পক্ষে না গিয়ে মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা নেতাদের শঙ্কা, দুপক্ষের এমন গুতোগুতিতে বিএনপি যেকোনো সময় বিভক্ত হয়ে যেতে পারে। বি.ইন।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!