সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যাচারের পর টিকে গেল ফখরুলের গদি!

0

স্পেশাল করেসপন্ডেন্স:

দেশকে ধ্বংস করে দেওয়ার চক্রান্তের অংশ হিসেবে বিদেশে বিপুল অর্থায়নে বিএনপির লবিস্ট সংক্রান্ত ন্যাক্কারজনক তথ্য উপাত্ত সংসদে তুলে ধরেছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি। মূলত এরপরই দেশে-বিদেশে বিএনপির প্রতি ধিক্কার জানান সাধারণ মানুষ। একইসাথে বিচারের দাবিও ওঠে।

এমন সংকটময় মুহূর্তে দলের এবং নেতৃবৃন্দের ইজ্জত রক্ষার্থে কাউকেই পাওয়া যায়নি। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান লন্ডনে পলাতক, এতমাবস্থায় বাধ্য হয়ে দায়িত্ব নিতে হলো এমন একজনকে, যিনি নিজেই লবিস্ট ফার্মগুলোর মাধ্যমে বিদেশি প্রভুদের কাছে চিঠিগুলো লিখেছিলেন।

প্রতিটি চিঠির নিচে তার নামসহ সাক্ষর করা- সেই কুখ্যাত রুহুল আমিন চখা রাজাকারের পুত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর! অর্থাৎ নিজের সৃষ্ট অপকর্মগুলোকে ধামাচাপা দিতে নিজেকেই এগিয়ে আসতে হলো। সাফাই গাইতে হলো গণমাধ্যমের সামনে। যে মির্জা ফখরুলের গদি ক’দিন আগ পর্যন্ত ছিল টালমাটাল, তিনি এখন দলের প্রধান ভরসা!

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে ব্যাপক মিথ্যাচার করেন বিএনপির এই নেতা। প্রশ্নোত্তর পর্বের সুযোগ না রেখে শুধুমাত্র নিজের বক্তব্য বলে পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়া- বিএনপির চিরাচরিত গণতান্ত্রিক নমুনা দেখা গেল আবারও।

মির্জা ফখরুলের আগে ড. খন্দকার মোশাররফ অবশ্য দাবি করেছিলেন বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করেনি, সরকারের দাবি মিথ্যা। আবার মির্জা ফখরুল লবিস্ট নিয়োগের বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করলেন, দেশের জন্য, গণতন্ত্র রক্ষার জন্য লবিস্ট নিয়োগ করেছি! ফখরুলের মিথ্যাচার দেশবাসীর সামনে প্রমাণিত। ৭০ পৃষ্ঠার সেই নথিতেই রয়েছে সুস্পষ্ট প্রমাণ।

দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি আন্দোলন জমাতে না পারা, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে না পারা- এমন নানা ইস্যুতে ব্যর্থ হয়ে দায়ী করা হচ্ছিল মির্জা ফখরুলকে। মহাসচিবের পদ নড়বড়ে হয়ে উঠেছিল। বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছিল নতুন ও তুলনামূলক তরুণ একজনকে মহাসচিবের পদে খোঁজা হচ্ছিল। শর্ত ছিল, ‘ভাইয়ার’ সব কথায় ‘জি হুজুর’ হতে হবে।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে দলের ইজ্জত রক্ষার্থে মিথ্যাচারের পর বিএনপিতে মির্জা ফখরুলের কদর বেড়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। দলের অনেকেই বলছেন, অনেকদিন পর মির্জা ফখরুলকে দায়িত্বশীল ভূমিকায় দেখা গেছে। দেশবাসীর মনোভাব যা-ই হোক, লন্ডনে পলাতক তারেক রহমানকে সন্তুষ্ট করতে পেরেছেন তিনি, তাই গদি টিকে গেল তার।

আসলে এমন একজনকেই প্রয়োজন তারেক রহমানের। লন্ডনে বসে রিমোট চাপলে কাজ করবে ঢাকায়। রিমোট চাপলে উঠবে-বসবে। আবার ‘জি হুজুর’ও বলবে। তৃণমূলের নেতারা চেয়েছিলেন একজন যোগ্য নেতা, আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন কাউকে। মির্জা ফখরুলের পারফর্মেন্সে তারেক এবং তৃণমূল অনেকটাই আশ্বস্ত বলে শোনা যাচ্ছে।

এর আগে গত সপ্তাহে এক ভার্চুয়াল বৈঠকের পর ঢাকার একজন সিনিয়র নেতা বলেছিলেন, মির্জা ফখরুলকে সবাই তারেক রহমানের অনুগত মনে করলেও তিনি ফিল্ডে দেখাতে পারছেন না। ভাইয়া (তারেক রহমান) এমন কাউকে খুঁজছেন, যিনি ফ্রন্টলাইনে দাঁড়িয়ে সবদিক সামাল দিবেন। ভাইয়ার কথামত কাজ করবেন, নিজের বুদ্ধিতে নয়।

ইতিপূর্বে কয়েক দফা ভার্চুয়াল বৈঠকে তৃণমূল থেকে মহাসচিবের পদের জন্য শক্তপোক্ত কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। তারেক রহমান তাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন, তৃণমূলের দাবিকে তিনি যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন। তারেক রহমানের এমন বক্তব্যে মির্জা ফখরুলের গদি নড়বড়ে অবস্থায় চলে গিয়েছিল।

কিন্তু গতকাল যাকে বলে বুড়ো হাড়ে ভেলকি দেখিয়ে দিলেন মির্জা ফখরুল। মিথ্যাচার করে হলেও মন জয় করে নিয়েছেন দলের নেতাদের, সেই সাথে তারেক ভাইয়াকেও আশ্বস্ত করলেন- নতুন মহাসচিবের আর দরকার নেই। মির্জা ফখরুলই বিএনপির ‘জি হুজুর’ মহাসচিব হিসেবে ফিট। গদিটা তারই থাকছে।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!