তথাকথিত মানবাধিকার সংস্থাগুলোতে টাকা ঢালছে তারেক ও জামায়াত

0

স্পেশাল করেসপন্ডেন্স:

সম্প্রতি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ ১২টি আন্তর্জাতিক সংগঠন জাতিসংঘের শান্তি মিশনে র‍্যাবকে নিষিদ্ধ করার দাবি করেছে। এ নিয়ে তারা জাতিসংঘের কাছে একটি চিঠি দিয়েছে। শুধু চিঠি দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, তারা এই চিঠির বিবরণী তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে।

এ থেকে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিসেবে পরিচিতি সংগঠনগুলো তাদের ম্যান্ডেট লঙ্ঘন করেছে। একটি দেশের বিরুদ্ধে তারা সুস্পষ্টভাবে অবস্থান গ্রহণ করেছে।

কারণ, যদি বাংলাদেশের এলিট ফোর্স র‍্যাবের বিরুদ্ধে সত্যি সত্যি কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে, তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কিংবা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব ছিলো বাংলাদেশ সরকারকে এ সম্বন্ধে অবহিত করা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে জানানো।

তারপর যদি বাংলাদেশ সরকার বা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করতো, সেক্ষেত্রে তারা এ নিয়ে অগ্রসর হতে পারত। সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি সবার সামনে তুলে ধরতে পারত। তারপরেও যদি টনক না নড়ত, তবেই জাতিসংঘে চিঠি দেওয়ার কথা আসে।

অথচ প্রতিষ্ঠানগুলো একটি সুনির্দিষ্ট স্বার্থ হাসিলের জন্যই এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বলে বিভিন্ন মহল মনে করছে।

শুধু তাই নয়, অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর মত মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকেও এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেছে। পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও একই আবেদন দিয়েছে।

তারা বলছে, জাতিসংঘকে যেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য চাপ প্রয়োগ করে; যেন বাংলাদেশের কোনো বাহিনীর সদস্য শান্তিরক্ষা মিশনে না যেতে পারে।

এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে, একটি রাজনৈতিক অভিপ্রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই সংগঠনগুলো কাজ করছে। ‘মানবাধিকার’ শব্দটা মূলত তাদের এক ধরণের সাইনবোর্ড। যে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর সুযোগ নিতে তারা এসব গালভরা বুলিসর্বস্ব সাইনবোর্ড ব্যবহার করে সেসব দেশে কার্যক্রম চালায়।

এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা যায়, সাধারণত মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয় কোনো ব্যক্তির দ্বারা। এজন্য পুরো প্রতিষ্ঠানকে এককভাবে দায়ী করা যায় না। র‍্যাবের যদি কোনো কর্মকর্তা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেন তার দায়-দায়িত্ব র‍্যাব হিসেবে পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তায় না।

কিংবা কোনো একক ব্যক্তির অপরাধের কারণে পুরো একটি বাহিনীর ওপর কলঙ্ক লেপন কখনই একটি ন্যায়বিচার নয়। এটি মানবাধিকার রক্ষার কোনো পর্যায়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আর এই কাজটি করছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো।

এমন অযাচিত এবং ম্যান্ডেটহীন কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক দেশেই এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। গত বছরের শেষের দিকে ভারতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেয়ার পাশাপাশি তাদের ওপর খড়গহস্ত হয়েছে ভারত সরকার।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে বিপুল আর্থিক অনুদান দিচ্ছেন লন্ডনে পলাতক বিএনপি নেতা তারেক রহমান এবং যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াত। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময় থেকেই বাংলাদেশবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করে।

সেসময় যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে ব্যবহার করে তাদের পক্ষে লবিং করার জন্য। সেই ধারায় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মীর কাশেমের মত স্বীকৃত ধনাঢ্য যুদ্ধাপরাধীরা মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার দিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে, যা পরবর্তীতে প্রকাশিত হয়েছে।

এই অর্থ দেয়ার কারণেই হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সেসময় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে। শুধুমাত্র এই সংস্থাটিকে নয়, অ্যামনেস্টিকেও তারেক এবং জামায়াতের ধনাঢ্য ব্যক্তিরা অর্থায়ন করছে বলে জানা গেছে। অর্থায়নের কারণেই তারা বাংলাদেশের ব্যাপারে নেতিবাচক বিভিন্ন প্রতিবেদন রিপোর্ট প্রকাশ করছে।

একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, যে সমস্ত প্রতিবেদন তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে, সেসব কীভাবে তৈরি হবে এবং প্রকাশ করা হবে, সে ব্যাপারেও অর্থের লেনদেন হচ্ছে। অ্যামনেস্টি দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু বিভিন্ন দেশে এই প্রতিষ্ঠানে সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে এবং তাদেরকে নিষিদ্ধও করা হয়েছে।

গতবছর ভারত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কার্যক্রমকে বন্ধ ঘোষণা করেছিল এবং সরকার তদন্ত করে পেয়েছিল, কিছু কিছু ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের দ্বারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে অ্যামনেস্টি ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেছে।

একইরকম অভিযোগ করেছে রাশিয়া। চীন তো অ্যামনেস্টিকে কোনো স্বীকৃতিই দেয় না। এরকম যখন অবস্থা, তখন এটা সুস্পষ্ট, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

দেশের বোদ্ধা মহলের মতে, বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির এতটা খারাপ হয়নি যে, একটি বাহিনী সম্বন্ধে এভাবে ঢালাওভাবে নেতিবাচক মন্তব্য করতে হবে। এর পেছনে রয়েছে সুগভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!