জামায়াত শিবিরের আদি-অন্ত: শেষ পর্ব

0

মুক্তমঞ্চ ডেস্ক:

জামায়াত শিবিরের আদি-অন্ত: পর্ব-৩

ইসলামী আন্দোলনের মাধ্যমে দেশকে ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত করাই হচ্ছে শিবিরের অন্যতম লক্ষ্য। তাই বিপ্লবও অনিবার্য! আর এ কারণেই শিবিরের কোনো নেতাকর্মী নিহ-ত হলে তাদের শহীদ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ যাবৎ সব সরকার আমলেই তারা সরকার বিরোধী নানা আন্দোলন করে আসছে।

এসব ঘটনায় নিহ-তদের তারা শহীদ আখ্যা দিয়ে নিহতেরা সবাই বেহেশতে যাবে বলে সাধারণ মানুষকেও বুঝিয়েছে। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে দলে ভিড়িয়ে জান্নাতে যাওয়ার স্বপ্ন দেখানো হয়।

সরকারের এহেন উদাসীনতা আর অপারগতাকে নিয়ে দেশের অনেক বিজ্ঞজনরাই অনেক সময় নানান মতামত দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার ফলে এই জ-ঙ্গি গ্রুপগুলো জ-ঙ্গি তৎপরতা চালানোর জন্য এত দ্রুত শক্তির সঞ্চয় করেছে যে, সারাদেশে একের পর এক হাম-লা চালান থেকে শুরু করে নির্বিঘ্নে যখন তখন প্রগতিশীল মানুষদের মেরে ফেলছে (এই জ-ঙ্গিরা)। এরপরও দেশের একজন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে, দেশে জ-ঙ্গি নেই। পরে জেএমবি-র মত আরও কিছু জ-ঙ্গি গ্রুপকে নিষি-দ্ধ করতে দাতা সংস্থা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সরকারকে চাপ দিতে হয়েছে। হুজিকে নিষি-দ্ধ করা হয়েছিল হুজির উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করে, আপোষের মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সেই বৈঠক হয়েছিল ২০০৫ সালের ৬ অক্টোবর। ১৭ অক্টোবর সরকার হুজি নিষি-দ্ধ করে।

বর্তমান সরকারেরও কেহই সমস্যাটি ঠিক কোথায়; তা খুঁজে বের করতে চেষ্টা করছে না। বিভিন্ন সময় বিক্ষিপ্তভাবে উদ্যোগ নিয়েও জ-ঙ্গি দমনে তেমন কিছু করতে পারেনি। এই সরকারেরও জ-ঙ্গি দমন কার্যক্রমে কোথায় যেন একটা বড় ফাঁক রয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে তাদের কর্মকৌশল খুব দুর্বলই মনে হচ্ছে। জ-ঙ্গিরা যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে; সেটা বোঝার ক্ষমতা যে সরকারের আছে তা বিশ্বাস না করার কারণ নেই। তবে আমলারা সেটা বুঝতে পারছেন কি-না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। তা না হলে সরকারের নানা উদ্যোগ কেন বাস্তবায়িত হয় না? তার মানে, সরকারের ভেতর সরকার রয়েছে এটা পরিস্কার।

জ-ঙ্গি দমনে সরকার ২০০৯ সালের ৪ এপ্রিল জ-ঙ্গিবাদ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করেছিল। কিন্ত এই জাতীয় কমিটির নির্দেশনা বাস্তবায়নে কারও মাথাব্যথা নেই। গত বছরের ১৪ আগস্ট কমিটির বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা সংস্থা সহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার প্রতি জ-ঙ্গি-দমন বিষয়ক অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি নির্দেশ ছিল – পাঠ্যসূচিতে জ-ঙ্গিবাদবিরোধী লেখা অর্ন্তভুক্ত করার। হয়েছিল ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল – মাদ্রাসার বইগুলোর সঙ্গে কোরআন ও হাদিসের কী কী বৈপরীত্য রয়েছে; তা চিহ্নিত করার।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিল জ-ঙ্গিবাদবিরোধী তথ্যচিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এবং জ-ঙ্গিবাদের নেতিবাচক দিক ও এর প্রভাব নিয়ে বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণের। এগুলো নির্মাণ করে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে প্রকাশের নির্দেশনাও দেওয়া হয়। তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাজ ছিল – জ-ঙ্গিবাদ নিয়ে নাটক নির্মাণ করে সেগুলো প্রচারের ব্যবস্থা করা এবং সেই সাথে গণযোগাযোগ বিভাগের সহায়তা নিয়ে সেগুলো প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে প্রদর্শন করার। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো যাতে প্রতি মাসে একটি করে জ-ঙ্গিবাদ বিরোধী নাটক প্রচার করে সে ব্যবস্থা নিতেও তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি নির্দেশ ছিল।

ওদিকে এই কমিটি পুলিশের বিশেষ বিভাগ (এসবি), জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসআই), ডিজিএফআই সহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতি নির্দেশ দিয়েছিল দেশের সব ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কঠোর নজরদারি করার জন্য। সর্বোপরি কথা ছিল, পরবর্তী বৈঠকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেবে।

এতগুলো নির্দেশনা দেওয়ার পরও এসব কার্যক্রমের অগ্রগতির বিষয়ে পুলিশ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন ছাড়া আর কোনো সংস্থাই প্রতিবেদন জমা দেয়নি। অর্থাৎ সরকারের উচ্চ ক্ষমতার এই কমিটির সিদ্ধান্তও আমলে নেওয়া হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, সরকারের ওইসব নির্দেশনার কোনো একটি বাস্তবায়ন হয়েছে বলেও দৃশ্যত দেখা যাচ্ছে না।

আবার উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ব্যাপক কর্মপরিধির টাস্কফোর্সের কর্মকাণ্ডে যে ধীরগতি দেখতে হচ্ছে, তাতে জ-ঙ্গি দমনে তাঁরা কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে সে সন্দেহ রয়েই যায়। এখন পর্যন্ত টাস্কফোর্স ইসলামী ব্যাংকের লভ্যাংশ ব্যয়ের একটি মাত্র প্রতিবেদন পেয়েছে। সে প্রতিবেদনেও শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে কি-না তা যাচাই বাছাই করতে গোয়েন্দাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেটির ফলাফলও ঝুলে আছে। ‘ইসলামি’ নামধারী ব্যাংকগুলোর প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমাই দেওয়া হচ্ছে না। সেগুলো পাওয়ার পর তাদের প্রতিবেদনও যাচাই করার কথা। আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলোর অর্থ কীভাবে খরচ করা হচ্ছে তাও মনিটরিং করার কথা ছিল। জ-ঙ্গিবাদের মূল উৎস অর্থ। সরকার উদ্যোগ নিলেও ওদের অর্থের উৎস খুঁজে বের করতে পারছে না। দেখা যাচ্ছে, সরকারের কর্মকাণ্ডের ভেতরেই শুভঙ্করের ফাঁকি রয়ে গেছে।

বিভিন্ন সময় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বলতে শুনা যায়, জামিনে বেরিয়ে যাওয়ার পর আদালতে হাজিরার তারিখে তারা আর হাজির হচ্ছে না। তখন তারা পুরোপুরি আত্মগোপনে গিয়ে নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করে, বদলে ফেলে ঠিকানা। তাই তাদের ওপর নজরদারি করা কঠিন হয়ে পড়ে। গোয়েন্দা পুলিশ আশা করে কীভাবে যে, জামিনে বের হয়ে জ-ঙ্গিরা নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিবে! তারা পালিয়ে যাবে না, এটা ধরে নেয় কীভাবে!

আত্মগোপনে থাকা জ-ঙ্গিদের খুঁজে পাওয়া দূরের কথা, নিষি-দ্ধ ঘোষিত হিজবুত তাহরির প্রকাশ্যে মিছিল করে বেড়াচ্ছে, সেই খোঁজই নেই গোয়েন্দাদের কাছে। যে গোয়েন্দারা বিশ্বাস করে যে, জ-ঙ্গিরা আইন মেনে চলবে; তাদের পক্ষে আর যাই হোক, জ-ঙ্গিদের ওপর নজরদারি করা কঠিন হবে – এটাই স্বাভাবিক।

সবার আগে, জ-ঙ্গিবাদ যে একটি বিরাট সমস্যা এটি স্বীকার করে নিতে হবে। নয়তো অদূর ভবিষ্যতে চাপাতির কোপ যে সরকারের ঘাড়ে কতদিক দিক থেকে এসে পড়বে; তা আগাম কেউ বলতে পারবে না। জ-ঙ্গি সংগঠন নিষি-দ্ধ করলেই জ-ঙ্গিবাদ নির্মূল হয়ে যাবে না। আগেও জ-ঙ্গি তৎপরতার জন্য হিযবুত তাহরির, শাহাদাত-ই-আল হিকমা, জামায়াতে মুজাহেদিন বাংলাদেশ (জেএমবি), হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ (হুজি) ও জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি), এই পাঁচ সংগঠন নিষি-দ্ধ করা হয়েছে। তাতে তাদের কর্মকাণ্ড থেমে থাকেনি। নামে-বেনামে তারা কর্মকাণ্ড ঠিকই চালিয়েই যাচ্ছে। বরং নতুন নতুন সংগঠনের জন্ম দিচ্ছে। তাই জ-ঙ্গি-দমনে এ যাবত গৃহীত সরকারের উদ্যোগে যারা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে; তাদেরকে আগে চিহ্নিত করা দরকার। তাদের বিরু-দ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারলে কাজের কাজ কিছুই হবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতের বাংলাদেশে মৌলবাদের রাজনৈতিক অর্থনীতি ও জ-ঙ্গিবাদঃ মর্মার্থ ও করণীয়” নামের প্রকাশিত গবেষণা গ্রন্থটি থেকে আরও জানা যায়, সরকারিভাবে নিষি-দ্ধ ঘোষিত জেএমবি ও আনসারুল্লাহ বাংলাটিম ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মহা-জ-ঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা সহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জ-ঙ্গি গোষ্ঠীর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে ফেলেছে এবং তাঁদের থেকে এই জ-ঙ্গিরা অ-স্ত্র সরবরাহ, বো-মা প্রস্তুত পদ্ধতি, অ-স্ত্র প্রশিক্ষণ (ম্যানুয়ালসহ), টার্গেট নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নে গেরিলা কায়দা-কানুন, অর্থ সরবরাহ, অর্থের উৎস পোক্তকরণ, নিরীহ মুসলমানদের জিহাদের পক্ষে আনার ‘বিজ্ঞানসম্মত’ পদ্ধতি, প্রযুক্তির জোগান নিচ্ছে।

তারা ইতিমধ্যে আল-কায়েদা ছাড়াও অনুরূপ অন্যান্য বিদেশি জ-ঙ্গি সংগঠন, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, ট্রাস্ট, ফাউন্ডেশন, বেসরকারি সংস্থা, মিডিয়া ইত্যাদির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং ওদের পরামর্শে সক্রিয়। হিজবুত তাহরীরসহ আরও কিছু নিষি-দ্ধ অথবা এখনো নিষি-দ্ধ হয়নি এমন সব জ-ঙ্গি সংগঠনও অনুরূপ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিষি-দ্ধ ঘোষিত জেএমবি এবং আনসারুল্লাহ বাংলাটিম সহ বেশ কিছু ইসলামী জ-ঙ্গি সংগঠনসহ ইসলামী জ-ঙ্গিবাদ সমর্থনকারী সব সংগঠন-সংস্থা-প্রতিষ্ঠানকে (মৌ-লবাদী দের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানসহ) একক একটি প্লাটফর্মে দাঁড় করাতে সক্রিয় রয়েছে।

এদেশের সব ইসলামী জ-ঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা টাইপের জ-ঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর মহাপরিকল্পনা ধারণ করে অর্থাৎ ওদের সবাই বিশ্বাস করে যে, ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিক খেলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। ওরা যখন-যেভাবে-যেসব বর্বরতম নৃশং-স পথ-পদ্ধতি অবলম্বন করে মুক্তচিন্তার মানুষগুলকে খু-ন-হ-ত্যা-জখম করছে; তা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় – অর্থনীতির প্রাণ সংযোগ সমূহ বিনষ্ট করে রাষ্ট্রের অর্থনীতিকে বিকল করার প্রচেষ্টায় তাঁরা লিপ্ত। আর প্রশাসন-আদালত-বিমান প্রতিষ্ঠান-দেশজ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস আর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরকে হ-ত্যা প্রচেষ্টার এই আচরণগুলো যথেষ্ট মাত্রায় প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশে ইসলামী জ-ঙ্গিত্ব বিকাশ স্তর মানদণ্ডের প্রাথমিক পর্যায় থেকে আর অনেক আগেই ছাড়িয়ে গেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে জ-ঙ্গি কর্মকাণ্ড সংশ্লিষ্ট অথবা জ-ঙ্গিবাদ সমর্থনকারী ইসলামী সংস্থাগুলো হচ্ছে (সরকারিভাবে নিষি-দ্ধ ঘোষিত ও কালো তালিকাভুক্তসহ) – আফগান পরিষদ, আহলে হাদিস আন্দোলন, আহলে হাদিস যুব সংঘ (এএইচজেএস), আহলে হাদিস তবলিগে ইসলাম, আহসাব বাহিনী (আত্মঘাতী গ্রুপ), আল হারামাইয়েন (এনজিও), আল হারাত আল ইসলামিয়া, আল ইসলাম মারর্টারস ব্রিগেড, আল ইসলামী সংঘতি পরিষদ, আল জাজিরা, আল জিহাদ বাংলাদেশ, আল খিদমত, আল কুরত আল ইসলামী মারর্টারস, আল মারকাজুল আল ইসলামী, আল মুজাহিদ, আল কায়দা, আল সাঈদ মুজাহিদ বাহিনী, আল তানজীব আল উম্মাহ, আল্লার দল (সরকারিভাবে কালো তালিকাভুক্ত), আল্লার দল ব্রিগেড (আত্মঘাতী দল), আল ইয়াম্মা পরিষদ, আমানাতুল ফারকান আল খাইরিয়া, আমিরাত-ই-দিন, আমরা ঢাকাবাসী, আনজুমানে তালামজিয়া ইসলামিয়া, আনসার-আল-ইসলাম, আনসারুল্লাহ মুসলামিন, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি) (২০০৫ সালে সরকারিভাবে নিষি-দ্ধ ঘোষিত), আরাকান আর্মি (এএ), আরাকান লিবারেশন ফ্রন্ট (এএলপি), আরাকান লিবারেশন পার্টি, আরাকান মুজাহিদ পার্টি, আরাকান পিপুলস আর্মি, আরাকান রোহিঙ্গা ফোর্স, আরাকান রোহিঙ্গা ইসলামিক ফ্রন্ট, আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (এআরএনও), ইউনাইটেড স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব আরকান মুভমেন্ট, ইবতেদাদুল-আল মুসলিমা, ইকতেদুল তালাহ-আল মুসলেমিন, ইকতেদুল তুলাহ-আল-মুসলেমিন (আইটিএম), ইন্টারন্যাশনাল খাতমে নব্যুয়ত মুভমেন্ট, ইসলাহুল মুসলেমিন, ইসলামী বিপ্লবী পরিষদ, ইসলামী জিহাদ গ্রুপ, ইসলামী লিবারেশন টাইগার অব বাংলাদেশ (আইএলটিবি), ইসলামী প্রচার মিডিয়া, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ইসলামী সমাজ (সরকারিভাবে কালো তালিকাভুক্ত), ইসলামিক ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (সারকারি ভাবে কালো তালিকাভুক্ত), ইসলামিক সলিডারিটি ফ্রন্ট, ইয়ং মুসলিম, এবতেদাতুল আল মুসলামিন, এহসাব বাহিনী, ওয়ারেট ইসলামিক ফ্রন্ট, ওয়ার্ড ইসলামিক ফ্রন্ট ফর জিহাদ, ওলামা আঞ্জুমান আল বাইয়্যানাত (সরকারিভাবে কালো তালিকাভুক্ত), কালেমায়ে-জামাত, কালেমা-ই-দাওয়াত (অধ্যাপক আবদুল মজিদ এ দলের প্রধান), কতল বাহিনী (আত্মঘাতী গ্রুপ), খাতেমী নব্যুয়াত আন্দোলন পরিষদ বাংলাদেশ (কেএনএপিবি), খাতেমী নব্যুয়াত কমিটি বাংলাদেশ, খিদমত-ই-ইসলাম, খিলাফত মজলিশ, খিতল-ফি-সাবিলিল্লাহ, খিলাফত-ই- হুক্মত, ছাত্র জামায়েত, জাদিদ-আল-কায়েদ, জাগ্রত মুসলিম বাংলা, জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি) (২০০৫ সালে সরকারিভাবে নিষি-দ্ধ ঘোষিত), জামাত-এশ-সাদাত, জামায়াত-উল-ইসলাম মুজাহিদ, জামা’আতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) (২০০৫ সালে সরকারিভাবে নিষি-দ্ধ ঘোষিত), জামাত-ই-মুদারাসিন বাংলাদেশ, জামাত-ই-তুলবা, জামাত-ই-ইয়াহিয়া, জামাত-উল-ফালিয়া, জামাতুল ইসলাম মুজাহিদ, জামাতে আহলে হাদিস, জামেয়া মোহাম্মদিয়া আরাবিয়া, জামিয়াতি ইসলামী সলিডারিটি ফ্রন্ট, জামিয়াতুল ইয়াহিয়া উত তুরাজ, জ-ঙ্গি হিকমত, জয়শে-মুস্তাফা, জয়শে-মোহাম্মদ, জামাতুল-আল-শাদাত, ডেমোক্রেটিক পার্টি অব আরাকান, ন্যাশনাল ইউনাইটেড পার্টি অব আরকান (এনইউপিএ), নিজামায়ে ইসলামী পার্টি, ফার ইস্ট ইসলামী, তা আমির-উল-দীন বাংলাদেশ (সরকারিভাবে কালো তালিকাভুক্ত), তাহফিজ হারমাইন, তামির উদ্দিন বাংলাদেশ, তানজিম বাংলাদেশ, তানজিন-ই-খাতেমি নব্যুয়ত, তাওহিদী জনতা, তাওহিদ ট্রাস্ট (সরকারিভাবে কালো তালিকাভুক্ত), দাওয়াত-ই-ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলাম রক্ষা কমিটি, বাংলাদেশ জামায়াত-উল-তালাবা-ই-আরাবিয়া, বাংলাদেশ সন্ত্রা-স বিরোধী দল, বিশ্ব ইসলামী ফ্রন্ট, মজলিশ ই তাফিজা খাতেমি নব্যুয়ত, মুজাহিদ অব বাংলাদেশ, মুজাহিদী তোয়াবা, মুসলিম লিবারেশন ফ্রন্ট অব বার্মা, মুসলিম মিল্লাত শরিয়াহ কাউন্সিল, মুসলিম মুজাহিদীন বাংলাদেশ (এমএমবি), মুসলিম রক্ষা মুজহাদিল, রোহিঙ্গা ইনডিপেন্ডেস ফোর্স, রোহিঙ্গা ইসলামী ফ্রন্ট, রোহিঙ্গা প্যাট্রিয়টিক ফ্রন্ট, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন, রিভাইভাল অব ইসলামী হেরিটেজ (এনজিও), লিবারেশন মিয়ানমার ফোর্স, লুজমা মককা আল খায়েরা, শাহাদাত-ই-আল হিকমা (২০০৩ সালে সরকারিভাবে নিষি-দ্ধ ঘোষিত), শাহাদাত-ই-নব্যুয়াত, শহীদ নাসিরুল্লাহ খান আরাফাত বিগ্রেড (আত্মঘাতী গ্রুপ), সত্যবাদ, সাহাবা সৈনিক, হরকত-ই-ইসলাম আল জিহাদ, হরকাত-উল জিহাদ-আল-ইসলামী বাংলাদেশ (হুজি) (২০০৫ সালে সরকারিভাবে নিষি-দ্ধ ঘোষিত), হায়েতুল ইগাসা, হেফাজতে খাতেমী নব্যুয়ত, হিজব-উত-তাহিরির (২০০৯ সালে সরকারিভাবে নিষি-দ্ধ ঘোষিত), হিজবা আবু ওমর, হিজবুল মাহাদী, হিজবুল্লাহ আদেলী বাংলাদেশ, হিজবুল্লাহ ইসলামী সমাজ, হিজবুত-তাওহিদ ও হিকমত-উল-জিহাদ।

পক্ষান্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জনসম্মুখেই স্বীকার করেছেন , গুপ্তহ-ত্যার পেছনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র যুক্ত। জেএমবি, এবিটি, জামায়াত-শিবির আলাদা কিছু নয়। যারা জেএমবি-এবিটি; তারাই জামায়াত-শিবির।
বাংলাদেশে ছোট ছোট দলে কাজ করছে জ-ঙ্গিরা, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৫টি জ-ঙ্গি সংগঠন নিষি-দ্ধ হলেও আরো অন্তত ৩৭টি ছোট ছোট জ-ঙ্গি সংগঠন সরাসরি সক্রিয়৷ এছাড়া নিষি-দ্ধ জ-ঙ্গি সংগঠনের কৌশলে পরিবর্তন আসলেও তত্পলরতা থেমে নেই৷ বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই জ-ঙ্গিবাদের পেছনে রাজনৈতিক মদদ আছে৷ যে পাঁচটি জ-ঙ্গি সংগঠন নিষি-দ্ধ করা হয়; তাঁরা কিন্তু তাদের তত্পজরতা বন্ধ করেনি। এ পর্যন্ত পুলিশ ও ব়্যাব বিভিন্ন জ-ঙ্গি সংগঠনের প্রায় ৩ হাজার সদস্য আটক করলেও, তাদের একটা বড় অংশ জামিনে ছাড়া পেয়ে নতুন ভাবে তত্পের হয়েছে৷ বিশেষ করে হিযবুত তাহরীর প্রায়ই ঢাকায় ঝটিকা মিছিল ও সমাবেশ করে তাদের অস্তিত্বের জানান দেয়৷ প্রায়ই তাদের পোস্টার এবং প্রচার-পত্র চোখে পড়ে৷ নিজস্ব ওয়েবসাইটে তাদের বাংলাদেশে তত্প রতার খবর পাওয়া যায় নিয়মিত ৷ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও তাদের সদস্যদের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়৷ প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক এই জ-ঙ্গি সংগঠনটি বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২০টি দেশে নিষি-দ্ধ৷

থাইল্যান্ডের বারিসান রেভুলুসি ন্যাশনাল ও আফগানিস্তানের তালিবানের পরপরই রয়েছে ছাত্রশিবিরের নাম।
বিশ্বের সবচেয়ে সহিংস ও তৎপর বেসরকারি সন্ত্রা-সী সংগঠনের তালিকায় তিন নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নাম। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক নিরাপত্তা বিষয়ক থিঙ্কট্যাংক আইএইচএস জেনস সম্প্রতি এ তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থার তৈরি করা আন্তর্জাতিক সন্ত্রা-সবাদ ও সন্ত্রা-সী হাম-লা ইনডেক্স-২০১৩তে ছাত্রশিবিরসহ ১০টি সংগঠনের নাম উল্লেখ করা হয়। ২০১২ সালের শেষদিকে যু-দ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াত নেতাদের বিচার শুরুর পর পুলিশের ওপর হাম-লা চালানো শুরু করে ছাত্রশিবির। এরপর বিভিন্ন সময়ে নাশকতা ও চোরাগোপ্তা হাম-লা চালিয়ে মানুষ হ-ত্যা ও আহত করার অভিযোগ আছে সংগঠনটির বিরু-দ্ধে। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সন্ত্রা-সী তালিকাতেও এসেছে সংগঠনটির নাম। এ বিষয়ে সংগঠনটি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে আত্মপক্ষও সমর্থন করেনি। কিন্তু এ সংগঠনটির রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি উঠেছে সর্বত্র। তবে সরকার দোহাই দিচ্ছে নিরাপত্তার।

বাংলাদেশে জামায়ত শিবিরের জ-ঙ্গিদের হিংস্রতা কিন্তু সারা বিশ্ব স্বীকৃত। তাদের মধ্যযুগীয় বর্বরতা নিয়ে বাংলাদেশর বাইরেও তাবৎ বিশ্বের অনেক স্বনামধন্য জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে জ্ঞানি গুনিরা কম কথা বলে নাই। এইতো গত কয়েকদিন আগেও মার্কিন কংগ্রেসে এইসব জ-ঙ্গিদের ব্যপারে অভিমত দিতে গিয়ে দেশটির ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান কংগ্রেস ম্যান জনাব জিম ব্যাংকস এই জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য চরমপন্থি সংগঠনগুলো সম্পর্কে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ওই প্রস্তাবে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য চরমপন্থি সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করতে বিএনপিসহ বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। জামায়াতের ব্যাপারে উ-দ্বেগ প্রকাশ করে ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দলটি ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুম-কিস্বরূপ। এই হুম-কি মোকাবিলায় দলটির সক্ষমতা উপড়ে ফেলতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জনাব জিম ব্যাংকস প্রস্তাবটি পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য কংগ্রেসের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটিতে পাঠিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, এ বিষয়ে সরকারকে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, শিবিরকে নিষি-দ্ধ করলেই সমাধান হবে না। সবদিক থেকে চিন্তুা-ভাবনা করেই ইফেকটিভ কর্মপরিকল্পনা ঠিক করেই সরকারকে এগুতে হবে। এর আগে জেএমবি নিষি-দ্ধ করা হলেও সম্প্রতি জেএমবির দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ছিনতাই করে নিয়ে যেতে আমরা দেখেছি। এ ধরনের রাজনীতিকে নিষি-দ্ধ করার বিষয়ে গভীর ভাবনা দরকার।

ছাত্রশিবিরকে নিষি-দ্ধ ঘোষণা করা হবে কি-না এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, এখনই কিছু বলতে পারব না। দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা দেশের সবাই জানে – শিবির একটি সন্ত্রা-সী সংগঠন। তাদের বিরু-দ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আগে দেশের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। আবার সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এখনই তাদের নিষিদ্ধের বিষয়টি সরকারের মাথায় নেই। তবে জনগণ সচেতন হলে তারা হারিয়ে যাবে। বাংলাদেশের জনগণ জ-ঙ্গিবাদকে ঠাঁই দেবে না।

জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির আন্তর্জাতিকভাবে সন্ত্রা-সী সংগঠনের স্বীকৃতি পেলেও সরকার তাদের বিরু-দ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। শিবিরের মূল সংগঠন জামায়াতের বিরু-দ্ধেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণসহ আদালতে একটি রিট রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে জামায়াত কিংবা শিবির নিষিদ্ধের দাবি উঠলেই সরকার আইনের দোহাই দিয়ে কালক্ষেপণ করে আসছে। সম্প্রতি আদালত জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করলেও নিষি-দ্ধ হয়নি তাদের রাজনীতি।

লেখক: সায়দুল ইসলাম
পরিচিতি: প্রবাসী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, রাজনীতি বিশ্লেষক

শেয়ার করুন !
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply