সরকারের সফল মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার: নেপথ্যে কারা?

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

নির্বাচনের ২ বছর আগে পরিকল্পিতভাবে একটি গোষ্ঠী সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে। আর টার্গেট করা হচ্ছে তাদেরকে, যারা ওয়ান-ইলেভেনে মাইনাস ফর্মুলার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন, যারা শেখ হাসিনার অতি বিশ্বস্ত বলে পরিচিত, যারা রাজনীতিতে কঠিন সময়ে আদর্শচ্যুত হননি এবং মন্ত্রী হিসেবে সাফল্যের সাথে কাজ করছেন, এমন ব্যক্তিবর্গ।

প্রথমেই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের একটি খাবারের ছবি বিকৃত করে প্রচার করা হলো। ড. হাছান মাহমুদ যখন এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিলেন, তখন এই অপপ্রচার বন্ধ হলো। এরপর সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে নিয়ে শুরু হলো অপপ্রচার।

চাঁদপুর বিজ্ঞানও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চাঁবিপ্রবি) জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে বানোয়াট দুর্নীতির অভিযোগ আনা হলো, যেখানে শিক্ষামন্ত্রীর কোনো জমিই নেই। আর সর্বশেষে এই অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

শ ম রেজাউল করিম মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী। এর চেয়ে বড় পরিচয় হলো তিনি সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী। ওয়ান-ইলেভেনের সময় যার ভূমিকা ছিল প্রশংসিত। সেই সময় তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার শুধু আইনজীবীই ছিলেন না, লন্ডনে গিয়েও তিনি শেখ হাসিনার পক্ষে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বক্তব্য রেখে আলোচিত হয়েছিলেন।

যে রাজনীতিবিদরা এখনও বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের পক্ষে যুক্তিনিষ্ঠ বক্তব্য উপস্থাপন করেন তাদের মধ্যে শ ম রেজাউল করিম নিঃসন্দেহে অন্যতম সেরা।

একটি জাতীয় গণমাধ্যমে শ ম রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অসত্য অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। যার কোনো ভিত্তি নেই। এই অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক হলো, তিনি নাকি কালো টাকা সাদা করেছেন! অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এটি মোটেও সত্য নয়। ভিত্তিহীন এবং চরিত্রহানি করার উদ্দেশ্যে বানোয়াট এসব অভিযোগ।

শ ম রেজাউল করিম সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ছিলেন, তিনি প্রথিতযশা আইনজীবী হিসেবে খ্যাত। কাজেই স্বভাবতই আর্থিকভাবে তিনি যথেষ্ট সচ্ছ্বল হবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিবেদনটি পড়লে মনে হয় যেন ধনী হওয়াটাই তার অপরাধ। প্রতিবেদনে যেসব তথ্য-উপাত্ত দেয়া হয়েছে, তা অগ্রহণযোগ্য এবং অযৌক্তিক।

যেমন, প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ঢাকায় প্লট থাকার পরও তিনি রাজউকের প্লট নিয়েছেন। অথচ রাজউকের আইন হলো, কোনো ব্যক্তি যদি রাজউক থেকে কোনো প্লট গ্রহণ করেন তাহলে তিনি আরেকটি প্লটের জন্য অযোগ্য হবেন।

ঢাকায় কারো একাধিক বাড়ি বা জমি থাকলেও তিনি যদি সেটি রাজউকের কাছ থেকে যদি ক্রয় না করে ব্যক্তিগতভাবে ক্রয় করেন, তাহলে তিনি রাজউকের প্লটের জন্য আবেদনের অযোগ্য হবেন না। অথচ প্রতিবেদনটিতে এমনভাবে বিষয়টিকে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন তিনি রাজউক থেকেই একাধিক জমি কিনেছেন। এরকম বিভিন্ন ভুল তথ্য দিয়ে চরিত্রহননের প্রয়াস লক্ষ্য করা গেছে ওই প্রতিবেদনটিতে।

নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, ততই এই ধরনের অপপ্রচার বাড়ছে। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এই অপপ্রচারগুলো করার নেপথ্যে কাজ করছে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত এবং তাদের মদদপুষ্ট, অর্থে তুষ্ট কিছু সাংবাদিক নামধারী বিবেকবর্জিত ব্যক্তি। গুজব-অপপ্রচার এবং মিথ্যাচারের বিনিময়ে অর্থের পাহাড় গড়ছে এমন দুর্নীতিবাজ সাংবাদিক ও ‘হিটখোর’ গণমাধ্যম এই অপপ্রচারগুলো চালাচ্ছে মন্ত্রী-এমপি তথা সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের মন বিষিয়ে তুলতে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই কাজগুলো করছে তারা।

শুধু তা-ই নয়, এসব অপপ্রচার এবং মিথ্যাচার যে বেশিদিন টিকবে না, এসবের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও গৃহীত হবে, এসব ভালো করেই জানে গুজবসেল। আর তাই এখানে তারা বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের গ্রুপিংগুলোকেও গণমাধ্যমে কাভার করছে এমনভাবে, যেন আপাতদৃষ্টিতে এটা মনে হয়, সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে কাজ করছে স্থানীয় আওয়ামী লীগই। অর্থাৎ আওয়ামী লীগকে খোদ আওয়ামী লীগেরই শত্রু বানানো হচ্ছে।

সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের মতে, এখনই সময় এই দুষ্টচক্রকে দমনের। বিশেষ করে যারা গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে মনগড়া ভিত্তিহীন সংবাদের নামে আবর্জনা প্রকাশ করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দাবি তুলেছেন তারা।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!