জোসেফ স্তালিনের পথে বিএনপি!

0

স্পেশাল করেসপন্ডেন্স:

রুশ সমাজতন্ত্রী রাজনীতিবিদ জোসেফ স্তালিন। সাধারণ দরিদ্র মুচি পরিবারের সন্তান ছিলেন। ১৬ বছর বয়সে জর্জিয়ান অর্থোডক্স বৃত্তি পান। স্কুল ছাড়ার পর বিপ্লবী লেনিনের লেখা পড়ে মার্ক্সবাদী বিপ্লবী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন স্তালিন।

শুরুতে সমাজতান্ত্রিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সচিব হিসেবে স্তালিনের ক্ষমতা সীমিত ছিল। ধীরে ধীরে তিনি ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে নেন এবং পার্টির নেতা হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নের শাসনক্ষমতা গ্রহণ করেন। তার শাসনামলে অর্থনৈতিক উত্থান-পতনের কারণে লাখ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষে মারা যায়।

সমালোচিত এই শাসককে অনেকে বলেছেন ‘লৌহমানবখ্যাত নিষ্ঠুর স্বৈরশাসক’। নিজের গুণকীর্তন করে বদলে দিতে চেয়েছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের ইতিহাস। তবে ইতিহাস তাকে ক্ষমা করেনি। ইস্পাত-কঠিন মনের এই মানুষটির করুণ মৃত্যু হয়েছিল।

ঠিক একই পথে এগিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। বন্দুকের নল তাক করে সর্বপ্রথম ক্ষমতায় আসে সৈরশাসক জিয়াউর রহমান। দেশকে অতল গহ্বরে পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি। এরপর ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে দেশকে করেছিলো দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন। যার পরিণাম, আজ বিএনপি খুঁটি ছাড়া নৌকায় পরিণত হয়েছে।

বিকল্প ধারায় যোগদানকারী বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা শমসের মবিন চৌধুরী মনে করেন, বিএনপির সৃষ্টি নিয়ে রাজনীতিতে সমালোচনা থাকলেও সুন্দরী হওয়ায় খালেদা জিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে এক সময় দেশের মানুষ বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়াও যখন জিয়াউর রহমানের মতো সংঘাত ও স্বাধীনতাবিরোধী রাজনীতি চর্চা শুরু করেন, মানুষ তখন তার ও তার দলের প্রতি মুখ ফিরিয়ে নেয়।

জিয়া বিএনপিকে যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতাবিরোধী ও সুবিধাবাদীদের আড্ডাখানায় পরিণত করেছিলেন। তিনি রাজনীতিকে ডিফিকাল্ট করার নামে রাজনীতিতে কালো টাকা, পেশিশক্তি, সন্ত্রাসের প্রবেশ ঘটিয়েছিলেন। সেই একই পথে হেঁটে দলটিকে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান।

যার কারণে ধীরে ধীরে বিএনপির প্রতি মানুষের ঘৃণা সৃষ্টি হয়। মানুষ প্রত্যাখ্যান করে দল ও এর নেতৃবৃন্দদের।

তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অবস্থান, পাকিস্থানি ঘরানার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের পুনর্বাসন করার কারণে জনগণও বিএনপিকে স্বদেশবিরোধী দল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। দলটিকে অস্তিত্বের সঙ্কটে ফেলে দিয়েছেন দলটির দুই শীর্ষ নেতা।

খালেদা জিয়ার এখনকার অবস্থা, তারেক রহমানের বিদেশে অবস্থানের কারণে রাজনীতিতে বিএনপির ভূমিকা যেভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে, তেমনি রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং রাজনৈতিক লক্ষ্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অবস্থার পরিবর্তন না হলে বিএনপিকেও জোসেফ স্তালিনের পরিণতি বরণ করতে হতে পারে।

এখন মানুষ সবকিছুর পার্থক্য বোঝে, এরকম অবস্থায় বিএনপি যদি তাদের সাংগঠনিক এবং আদর্শিক অবস্থানে বড় পরিবর্তন না আনে তাহলে হয়তো অচিরেই দলের মানুষগুলো জোসেফ স্তালিনের মতো নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!