কানাডাতেও বাঙালি সংস্কৃতি ও ইতিহাসের ওপর জামায়াতপন্থীদের কালো থাবা

0

প্রবাস ডেস্ক:

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও সাজার মাধ্যমে কোমর ভেঙে দেওয়া হয়েছিল স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জামায়াতে ইসলামীর। সাংগঠনিকভাবে জামায়াত দুর্বল হয়ে গেলেও রাজাকারের উত্তরসূরিরা কিন্তু বসে নেই। তারা বিভিন্ন চেহারায়-আদলে বিভিন্ন সংগঠনে, সমিতিতে, সমাবেশে ঢুকে পড়ে। এবার জানা গেল বাঙালি সংস্কৃতি, দর্শন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তথা আবেগ ও অস্তিত্বের অংশ নিয়ে জামায়াতপন্থীদের ভয়ানক অপতৎপরতার খবর।

কানাডার সাসকাচোয়ান প্রদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই সংগঠন পরিকল্পনা নিয়েছিল বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুল ধরার লক্ষ্যে মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবসসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের। কিন্তু রাজাকারদের উত্তরসূরীরা এসব অনুষ্ঠান আয়োজনে বাধা প্রদান করছে, হয়রানি করছে; এমনকি আয়োজকদের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রও করছে।

শুধু তা-ই নয়, জানা গেছে, এই চক্রান্তকারীদের পেছনে রয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পলাতক খুনি নূর চৌধুরী।

স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের দোসররা ইতিপূর্বে নিজেদের লোকজনদের নিয়ে বিশেষ উদ্দেশ্যে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই, সাসকাচোয়ান’ গঠন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাঙালি সংস্কৃতিতে আস্থাশীল প্রজন্মের সাবেক ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিরোধিতা ও প্রতিরোধে সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। যার শোধ নিতে জামায়াতপন্থীরা ব্যাপক হয়রানি ও নিপীড়ন চালান।

কানাডায় শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত ঢাবির প্রাণরসায়ন বিভাগ ছাত্রলীগের সাবেক (১৯৯৩) সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ ভৌমিকের উদ্যোগে পরবর্তীতে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই, সাসকাচোয়ান’ গঠিত হয়। সদস্যরা বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি তুলে ধরার লক্ষ্যে কাজ করছেন অনেকদিন ধরেই। কিন্তু জামায়াতপন্থীরা তাদের বিরোধিতায় চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত।

মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি এবং ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান পণ্ড করতে যারা মূখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন, তিনজন অ্যালামনাই’র নাম- নুরুল হুদা, সাঈব শাহারিয়ার ও মাসুদ আল মামুন। এই তিনজনের অনুসারীরা মিলে ইতিপূর্বে (২০২১) একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠান পণ্ড করতে ব্যাপক অপতৎপরতা চালিয়েছিলেন।

যদিও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের দৃঢ় অবস্থানের কারণে সেই অপচেষ্টা সফল হয়নি। পরবর্তীতে যখন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দেবাশীষ ভৌমিক এবং তার সতীর্থরা ২৬শে মার্চ- স্বাধীনতা দিবসকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের দাবিকে সামনে রেখে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন, তখনও পরাজিত পাকিস্থানি সমর্থক সেই গোষ্ঠী চক্রান্তের চেষ্টা করে সফল হয়।

এই চক্রটিই কানাডায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা করেছিল। যার ফলে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক সৃজনশীল অ্যালামনাই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। যদিও দেবাশীষ ভৌমিক তাদের নিবৃত্ত করেন এবং অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করেন।

সম্মিলিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বছরও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। সদস্যদের নিয়ে ২১শে ফেব্রুয়ারির দিন সাসকাচোয়ান-এর মেয়রের অফিসের সামনে সমবেত হয়ে ভাষা শহিদদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু জামায়াতপন্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলবদ্ধ হয়ে ব্যাপকভাবে মানসিক হেনস্থা করেন দেবাশীষ ভৌমিক এবং সংশ্লিষ্ট অ্যালামনাইদের ওপর।


ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্তের কিছু নমুনা

এমনকি অ্যালামনাইদেরকে ফোন করে ২১শে ফেব্রুয়ারির কর্মসূচিতে সমবেত হওয়াকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দেওয়া হয়। একজন নারী অ্যালামনাই’র ব্যক্তিগত ফোনালাপ রেকর্ড করে জলঘোলা করার অপচেষ্টাও করা হয়। এখানে উল্লেখ্য, ব্যক্তিগত ফোনালাপ রেকর্ড করা কানাডার আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

এখানেই শেষ নয়, ২১শে ফেব্রুয়ারির আগেরদিন একটি গোপন বৈঠক করে সেই চক্রান্তকারীরা। যাতে রাতারাতি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই’র এক সদস্যকে বিধি-বহির্ভূতভাবে ফোকাল কমিটিতে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। একইসাথে সেই গোপন সভায় ২১শে ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি পালনকে ‘নিয়ম বহির্ভূতভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন’ দাবি করে ‘অবৈধ’ বলে ঘোষণা করা হয়।

এই ঘোষণা শোনার পর আয়োজকরা প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে একে একাত্তরে পাকিস্থানি বাহিনীর কর্মকাণ্ডের সাথে তুলনা করেন। সেই গোপন বৈঠকে দেওয়া ঘোষণা শুনে প্রবাসে ঝামেলা এড়াতে অনেক অ্যালামনাই ২১শে ফেব্রুয়ারির সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। একই ধারাবাহিকতায় ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস উদযাপনও ব্যাহত হয়।

এরইমধ্যে এই ষড়যন্ত্রকারীরা ঢাবি অ্যালামনাই-এর সকল ধরণের অনুষ্ঠান আয়োজনের ওপর ‘অলিখিত ইনডেমনিটি অ্যাক্ট’ জারি করে।

২০১০ সাল থেকে বারবার এভাবে রাজাকারের উত্তরসূরিদের কারণে প্রবাসে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে তুলে ধরার লক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠান আয়োজন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিপন্ন হচ্ছেন, বিব্রত হচ্ছেন, শঙ্কাবোধ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই’র সদস্যগণ।

এমতাবস্থায় অ্যালামনাই সদস্যগণ কানাডার বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট নিম্নলিখিত দাবি তুলে ধরেন:

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!