নির্বাচন কমিশনে বিএনপির নথি, এ বছরেও আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি || কেন এই বিপুল ব্যয়?

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

গত বছরের ন্যায় এ বছরও বিএনপির আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত আর্থিক প্রতিবেদনের নথিতে এই চিত্র দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনে বিএনপির বার্ষিক আর্থিক লেনদেনের নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আয়-ব্যয়ের তথ্য জানান।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছর বিএনপি আয় করেছে মাত্র ৮৪ লাখ ১২ হাজার ৪৪৪ টাকা। আর বছরজুড়ে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৯৮ লাখ ৪৭ হাজার ১৭১ টাকা। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৭২৭ টাকা। এর আগের বছর বিএনপির আয় ছিল ১ কোটি ২২ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৯ টাকা; ব্যয় ১ কোটি ৭৪ লাখ ৫২ হাজার ৫১৩ টাকা। অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ৫১ লাখ ৯৯ হাজার ৩৬৪ টাকা।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি; যদিও দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের ভাষ্য অনুসারে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চেয়েও নেতা-কর্মীর সংখ্যা বিএনপিতে বেশি। তবুও এই দলটির বছরে আয় মাত্র ৮৪ লাখ টাকা- এমন তথ্যে ভিড়মি খেয়েছেন রাজনীতি সংশ্লিষ্ট অনেকেই।

নথি অনুসারে, দলীয় সদস্যদের চাঁদা, নমিনেশন ফরম বিক্রি, অনুদান, ব্যাংকের সুদ হিসাব থেকে দলের আয় আসে বলে আয়-ব্যয়ের হিসাবে দেখানো হয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী থেকে প্রাপ্ত চাঁদার পরিমাণ, নমিনেশন ফরম বিক্রি, অনুদান ইত্যাদি মিলিয়ে বছরে মাত্র ৮৪ লাখ টাকা আয় করেছে একটি রাজনৈতিক দল- এমন তথ্য হাস্যরসের খোরাক জাগানিয়া নিঃসন্দেহে।

এছাড়া খরচের খাত (প্রায় ২ কোটি টাকা) দেখানো হয়েছে অফিস স্টাফদের বেতন, বোনাস, ইউটিলিটি বিল, ত্রাণ সহায়তা, আহত নেতা-কর্মীদের সহযোগিতাসহ বিভিন্ন খাতে! অফিস খরচের বাইরে যদি শুধুমাত্র ত্রাণ সহযোগিতার কথা ধরা হয়, তবে এটা কি বিএনপির মিথ্যাচারের প্রমাণ নয়? বিএনপির দাবি, তারা করোনাকালে সারাদেশে বিপুল ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়েছেন। অফিস খরচ এবং নেতা-কর্মীদের সহায়তার পর আর কয় টাকা বাকি থাকে, আবার সেই টাকায় সারাদেশে সভা-সমাবেশ ছাড়া ত্রাণও দিয়েছেন! খালেদা জিয়ার চিকিৎসার পেছনেই তো ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি টাকা! তাই পুরো বিষয়টা শুভঙ্করের ফাঁকি ছাড়া আর কিছুই নয়।

প্রসঙ্গত, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী প্রতি বছর ৩১শে জুলাইয়ের মধ্যে আগের পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব দলগুলোকে নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে ৩৯টি। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী পর পর ৩ বছর দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট দলের নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে।

বিএনপির আয়-ব্যয়ের খতিয়ান এবং হিসাব-নিকাশের ঘাপলা:

বিএনপির আয়-ব্যয়ের খতিয়ান এবং হিসাব-নিকাশের ঘাপলা অতি পুরনো। এটি কিন্তু প্রমাণিত সত্য।

গত বছর প্রকাশিত সংবাদের বরাতে জানা যায় এমন ঘাপলার খবর। ১০ বছরে নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত বিএনপির অডিট রিপোর্টে তথ্য গোপনসহ জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে। বিশেষ করে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ ও কোটি কোটি টাকা খরচের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া রিপোর্টের হিসাবে যুক্ত নেই। ফলে এই প্রশ্ন অবধারিতভাবেই ওঠে, এই টাকা বিএনপি কোথায় পেল? বিদেশি ফার্মগুলোকে কীভাবে তারা এত টাকা পেমেন্ট করলো? এই টাকার উৎস নিয়ে জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

২০২০ সালে নির্বাচন কমিশনে বিএনপির জমা দেওয়া আয়-ব্যয়ের হিসাব থেকে জানা যায়, ওই বছরে দলটির আয় ছিল ১ কোটি ২২ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৯ টাকা। বিপরীতে দলটি ব্যয় ধরেছে ১ কোটি ৭৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৫১৩ টাকা। অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ৫১ লাখ ৯৯ হাজার ৩৬৪ টাকা।

আবার ২০১৯ সালে দাখিলকৃত হিসাবে দেখা যায়, দলটির আয় ছিল ৮৭ লক্ষ ৫২ হাজার ৭১০ টাকা। অপরদিকে ওই বছরে ব্যয় ছিল ২ কোটি ৬৬ লক্ষ ৮৬ হাজার ১৩৭ টাকা। অর্থাৎ, ওই বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৩৩ হাজার ৪২৭ টাকা।

২০১৮ সালে আয় ছিল ৯ কোটি ৮৬ লক্ষ ৫৬ হাজার ৩৮০ টাকা, ব্যয় ছিল ৩ কোটি ৭০ লক্ষ ২৯ হাজার ১৪৩ টাকা। ২০১৭ সালে আয় ছিল ৯ কোটি ৪৬ লক্ষ ২৪ হাজার ৯০২. টাকা, ব্যয় ছিল ৪ কোটি ১৯ লক্ষ ৭১ হাজার ৯৫৪ টাকা। ২০১৬ সালে আয় ছিল ৪ কোটি ১৩ লক্ষ ৬৮ হাজার ৭৩০ টাকা, ব্যায় ছিল ৩ কোটি ৯৯ লক্ষ ৬৩ হাজার ৮৫২ টাকা।

বিগত বছরগুলোর রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ১০ বছরে নির্বাচন কমিশনে বিএনপির দাখিলকৃত আয়-ব্যয়ের হিসাবে লবিষ্ট নিয়োগে ব্যয়ের বিষয়টি উপস্থাপন করেনি এবং ব্যয় বিবরণীতে লবিষ্ট নিয়োগের কোন খাত বা উপ-খাত দেখানো হয়নি।

অথচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সংসদে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি ২০১৮ সালে ২টি এবং ২০১৫ সালে ১টিসহ মোট ৩টি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন ফার্মকে দেশ ও সরকারবিরোধী প্রচারণার জন্য লবিষ্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম শ্রেণীর উচ্চ ফি ক্যাটাগরির ফার্ম Akin Gump এর সাথে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিকানা (২৮ ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন) ব্যবহার করে বিদেশি রাজনৈতিক দল শ্রেণীতে চুক্তিবদ্ধ হয়।

ওই চুক্তিতে দেখা যায়, তাদের মাসিক ফি’র পরিমাণ ছিল ৮০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ মার্কিন ডলার এবং চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২০ তারিখ থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত। যার রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ছিল ৩৪৯২। এতে দেখা যায়, বিএনপি ২০১৭ সালে Akin Gump-কে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা, ২০১৬ সালে ১০ কোটি ২০ লক্ষ এবং ২০১৫ সালে ৮ কোটি ৫০ লক্ষ সব মিলিয়ে ৩ বছরে ২২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা পরিশোধ করে।

অন্যদিকে ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিকানায় Rasky Partners এবং Blue Star Strategies নামে মার্কিন লবিষ্ট ফার্মের সাথে ২০২০ সালের মে মাস পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ হয়। যার রেজিস্ট্রেশন নাম্বার যথাক্রমে ৬৫৮৬ ও ৬৫৮৭। চুক্তি মেয়াদে তাদের ফি’র পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা। ৩টি ফার্মকেই বাংলাদেশি মুদ্রায় সর্বমোট ৩১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।

বিএনপি গত ১০ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব বিবরণী ও লবিষ্ট নিয়োগের বিশাল ব্যয় থেকে এটা স্পষ্ট, লবিস্টদের ফি প্রদানের এই বিপুল পরিমাণ টাকা বিএনপির হিসাব বিবরণীতে প্রদর্শন করেনি। অর্থাৎ এই টাকা অবৈধভাবে হুন্ডির মাধ্যমে পাঠিয়েছে অথবা তাদের তরফ থেকে বিদেশের কোন সংস্থা বা ব্যক্তি পরিশোধ করেছে।

উল্লেখ্য, বিএনপির ১০ বছরের হিসাব বিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা যায় লবিষ্ট নিয়োগে তারা যে পরিমাণ অর্থ (৩১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা) ব্যয় করেছে তা বিএনপির ১৮ বছরের মোট ব্যয়ের প্রায় সমান।

এই ৩২ কোটি টাকা কীভাবে হাপিশ হলো:

২০২১ সালের মে মাসে দেশের বেশ কিছু গণমাধ্যমে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বেরিয়েছিল। তাতে বলা হয়েছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় ফান্ডের ৩২ কোটি টাকার হিসাবে গরমিল দেখা দিয়েছে। জুন মাসের পূর্বে আয়-ব্যয়ের হিসাব করতে গিয়ে অ্যাকাউন্টসে এই গরমিলটা উঠে আসে এক জুনিয়র ক্লার্কের কল্যাণে। যা ছড়িয়ে পড়ে কান থেকে কানে। আর বেরিয়ে আসে অফিসের চৌহদ্দির বাইরে।

জানা যায়, দলের দুঃসময়ে সংগঠন পরিচালনার জন্য যখন টাকা প্রয়োজন, তখন খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ৩২ কোটি টাকার কোনো হদিস নেই। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে এই টাকা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। কে, কখন, কীভাবে এই টাকা খরচ করেছেন, সে সম্পর্কে কোনো নোট, রশিদ বা মেমো পর্যন্ত রাখা হযনি।

দলীয় কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, দল পরিচালনার জন্য যে অর্থ সংগ্রহ করা হয় তা কখনোই নিয়ম-নীতির মধ্যে ব্যয় করা হতো না। অনেক সময় দলের মহাসচিবও কিছু অর্থ ব্যয় করতেন। কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনের সময় দলীয় তহবিল পুরোটাই চলে যায় তারেক রহমানের দখলে। ওয়ান-ইলেভেনের সময় তারেক রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার পর দল অর্থ সংকটে পড়ে। চিকিৎসার নামে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তারেক লন্ডনে পালিয়ে গেলে বিএনপির তহবিল অনেকটা শূন্য হয়ে পড়ে। এরপর বিএনপির টাকা-পয়সার কর্তৃত্ব পান আবদুল আউয়াল মিন্টু।

এ সময় তিনি দলীয় ফান্ড ব্যবহারে হিসাব খাতা তৈরি করেন। যেখানে আয়-ব্যয়ের হিসাব লেখা থাকতো। অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিচালনার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বিএনপির অধিকাংশ ব্যয়ই করা হয় নগদ টাকায়। আর এ কারণেই মিন্টু আয় ব্যয়ের একটি হিসাব খাতা খুলেছিলেন। কিন্তু ২০১৪-তে মিন্টুর অবর্তমানে দলের এই হিসাবের দায়িত্ব পান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল। এরপর আর দলের তহবিল বুঝে নেননি মিন্টু। মূলত এ সময়ের মধ্যে বড় অঙ্কের অর্থ তারেকের নির্দেশে বিশেষ উপায়ে কিংবা মিন্টুর ব্যবসায়িক কৌশলে চলে যায় দেশের বাইরে।

এই ৩২ কোটি (৩১ কোটি ২৮ লক্ষ) টাকাই হলো বিএনপির লবিস্ট ফার্মের পেছনে ব্যয় করা সেই অর্থ।

বিএনপির আয়ের আরও অনেক খাত:

বিশ্বজুড়ে যেখানেই প্রবাসী বাঙালি আছে, সেখানেই দেখা মিলবে বিএনপির কোনো না কোনো কমিটি। সদস্য যে ক’জনই হোক না কেন, কমিটি একটা থাকবেই। আর সেই কমিটি গঠন করতে হলে লন্ডনে পাঠাতে হয় বড় অঙ্কের চাঁদা, পদ বুঝে দিতে হয় চাঁদা। টাকা ছাড়া কোনো কমিটি গঠন অসম্ভব, দলীয় পরিচয়ও ব্যবহার করা যাবে না। এসব খাত থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাঠানো হয় তারেকের কাছে। দেশে দল পরিচালনা করতে, বিভিন্ন সভা, সমাবেশ আয়োজনেও লাগে এসব খরচ। বছরে মাত্র ৮৪ লাখ টাকা আয় করা একটা দল বড় বড় কনভেনশন হল বা স্পেস ভাড়া নিয়ে বছরজুড়ে দল পরিচালনা করেন কীভাবে?

দলের বড় বড় সব নেতাকে দেখা যায় সারাদিন হয় মিডিয়ার সামনে মাইক্রোফোন মুখে বসে আছেন, নইলে রাস্তায় সভা-সমাবেশ করছেন। দিন নাই, রাত নাই তারা দলের জন্য খেটে মরছেন। এই নেতাদের আয়ের উৎস কী? তাদের এই বিলাসবহুল জীবনযাত্রা, গাড়ি হাঁকানো, দামি ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে থাকা, অসুস্থ হলে পাঁচ তারকা মানের হাসপাতাল বা বিদেশে সফর- এসবের পেছনে ব্যয় হওয়া বিপুল অর্থের যোগান আসে কোত্থেকে? আয় না থাকলে ব্যয়ও হওয়ার কথা নয় নিশ্চয়।

দেশে প্রতিটি জেলায়, থানায়, ইউনিয়নে, ওয়ার্ডে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠনগুলোর কমিটি রয়েছে। সেসব কমিটিতে ঠাঁই পেতে, পদ পেতে দিতে হয়। এসবের বাইরে বড় দান মারা হয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। সেটা জাতীয় সংসদ নির্বাচন হোক বা স্থানীয় নির্বাচন; সবক্ষেত্রেই লক্ষ্মীর ধনভাণ্ডারে পর্যাপ্ত ধনরাশি ঢালতে হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ৩০০ আসনে বিএনপি ৭৫০ জনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। যাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩-৫ কোটি টাকা করে নেওয়া হয়েছিল বলে অনুসন্ধানে তথ্য মিলেছে। এসব ছাড়াও আয়ের আরো অনেক বিচিত্র খাত রয়েছে বিএনপিতে।

শুধু লবিস্ট ফার্মের পেছনে নয়, বিএনপির খরচের খাত আরও ব্যাপক:

লবিস্ট ফার্মের পেছনে বিপুল অঙ্কের অর্থ ঢালার পরেও সেসব কোনো কাজে আসেনি। পুরোপুরি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। তবে হতোদ্যম হয়নি বিএনপি। তারা বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে গুজবসেল তৈরি করেছে তারেকের নির্দেশে। সেই গুজবসেল-এ যুক্ত আছে বিএনপি-জামায়াতের প্রোপাগান্ডুরা। যাদের একটা অংশ বড় বিভিন্ন অপরাধ করে, মামলা খেয়ে বিদেশে পালিয়েছে। সেখানে বসে নিয়মিত গুজব, অপপ্রচার আর মিথ্যাচারে ভরপুর কন্টেন্ট তৈরি তাদের কাজ। আর দেশে বসে সেসব ছড়িয়ে দিচ্ছে গুজবসেল-এর নিচুসারির কর্মীরা। এরা সবাই বেতনভুক।

পর্নোগ্রাফি এবং ব্ল্যাকমেইলিংয়ের দায়ে মামলা খেয়ে বিদেশে পলাতক ইউটিউবার কনক সরওয়ারের একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়েছিল বেশ কয়েক মাস আগে। সেই কথোপকথনে শোনা যায়, কনক সরওয়ারের সেসময় নির্মিত কয়েকটি কন্টেন্ট মনঃপুত হয়নি তারেক রহমানের। একটি কন্টেন্ট তৈরির জন্য ৬০০ ডলারের পেমেন্ট দেওয়া হলেও ঠিকঠাক কাজ করছেন না বলে অপরপ্রান্ত থেকে ধমকানো হয় কনককে।

এই গুজবসেল-এর পেছনে এখন বিএনপির খরচ অনেক বড়। ফেসবুক, ইউটিউব ছাড়াও বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদক, চিহ্নিত সংবাদকর্মী এবং টিভি মিডিয়ার পেছনে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। প্রতিনিয়ত একেকটি ইস্যু তৈরি হয়, আর সেসব নিয়ে মিথ্যাচার, গুজব ও অপপ্রচারমূলক তথ্য ছড়িয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে বিপুল অর্থায়ন করছে বিএনপি।

এছাড়াও দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার গ্রাউন্ড তৈরি করতে, বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা লাগাতে, সমাজে বিভাজন, বিশৃঙ্খলা এবং বিদ্বেষ তৈরিতে কাজ করছে আরেকটি চক্র। এদের পেছনেও খরচ করতে হচ্ছে বিএনপিকে। সংখ্যালঘু নির্যাতন করে সমাজে সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে পারলে সরকারের ওপর বিদ্বেষ তৈরি হবে, জনমনে বিক্ষোভ দানা বেঁধে উঠবে- এমন লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কানাডার দুটো আদালতের রায়ে দুবার সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে সাব্যস্ত হওয়া এই নাশকতা পার্টি- বিএনপি।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!