ইতিহাস: মির্জা ফখরুলের বাবা দালাল আইনে আটক চখা রাজাকারকে মুক্ত করেছিলেন জিয়া

0

সময় এখন:

বাংলাদেশের রক্তাক্ত ইতিহাস সাক্ষী, রাজাকারের রক্ত থেকে রাজাকারেরই জন্ম হয়। আজ অব্দি এর ব্যতিক্রম হয়নি। কোনো রাজাকারের সন্তান তার বাবার যুদ্ধাপরাধ স্বীকার করেনি। বিচার এবং সাজাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দাবি করে আস্ফালন করেছে।

রাজাকারদের পারিবারিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তাদের ঔরসে আজ অব্দি কোনো দেশপ্রেমিক সন্তানের জন্ম হয়নি। রাজাকারের উত্তরসুরিরা যেখানেই রয়েছে, সেখানেই বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে। তাদের কারণে দেশের অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার উপক্রম। নিজ দেশকে নিষেধাজ্ঞা দিতে রাজাকার সন্তানরা আজকাল বিদেশি প্রভুদের পা চাটতে শুরু করেছে। বিশ্বের কোথাও এই শ্রেণির দেশবিরোধী দেখা যায় না।

তাই সেই কুলাঙ্গারদের পারিবারিক ইতিহাস ও রাজাকারদের ইতিবৃত্তি জানা উচিৎ। যেন দেশ ও দেশের জনগণ এদের থেকে সাবধান হতে পারে। এদের মিষ্টি মিষ্টি কথায় যেন বিভ্রান্ত না হয়। মনে রাখতে হব, এরা যত মিষ্টি কথাই বলুক না কেন, রসুনের গোড়া কিন্তু এক জায়গায় বাঁধা থাকে। আর এই রাজাকারদের গোড়া বাঁধা থাকে পাকিস্থানে। তাদের পাকিপ্রীতি, পাকিস্থান আমলে ভালো থাকার গপ্পোগুলো যে নিছক কথার কথা নয়, এটা আমাদের মনে রাখতে হবে সবসময়। এদের অন্তরে আজও পাকিস্থানপ্রেম এবং পাকিস্থান কায়েমের স্বপ্ন জেগে আছে।

এমনই এক কুখ্যাত রাজাকার ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাবা মির্জা রুহুল আমিন চখা ওরফে চখা রাজাকার। রাজনৈতিক জীবনে তিনি মুসলিম লীগ করতেন; যে মুসলিম লীগ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। রুহুল আমিন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ওয়ার্ড কমিশনার ও চেয়ারম্যান ছিলেন।


ছবি: তালিকার ৭১০নং-এ রুহুল আমিন চখা রাজাকারের নাম। সূত্র- ডা. এম এ হাসান রচিত যুদ্ধাপরাধীর তালিকা ও বিচার প্রসঙ্গ

১৯৭১ সালে রুহুল আমীন ছিলেন ঠাকুরগাঁও এলাকার কুখ্যাত রাজাকার। অনেক হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণসহ যুদ্ধাপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল তার নামে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭২ সালে দালাল আইনের মাধ্যমে পাকিস্থান সেনাবাহিনীর দোসর একাত্তরের ঘাতক দালালদের আটক করে বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করেন। সেসময় যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি বা পাওয়া যায়নি, কিন্তু সন্দেহের ভিত্তিতে আটক করে কারাগারে ঢোকানো হয়েছিল, এমন অনেকেই বঙ্গবন্ধুর সাধারণ ক্ষমার আওতায় ছাড়া পান।

১৯৭৩ সালের ৩০শে নভেম্বর বঙ্গবন্ধুর সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পর কারাগারে আটক ছিলেন যুদ্ধাপরাধের তথ্য-প্রমাণ থাকা ১১ হাজার সত্যিকারের যুদ্ধাপরাধী। তাদের একজন ছিলেন রুহুল আমিন চখা ওরফে চখা রাজাকার।

১৯৭৫-এর ১৫ই আগস্ট বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে ১৯৭৫ সালের ৩১শে আগস্ট দালাল আইন বাতিল করে ১৯৭২ সালের দালাল আইনে আটককৃত সব যুদ্ধাপরাধীকে মুক্ত করে কারাগার থেকে বের করে আনেন। পরবর্তীতে যুদ্ধাপরাধী জামায়াতকে পুনর্বাসিত করেন, দেশ ছেড়ে পাকিস্থানে পালিয়ে থাকা রাজাকার গোলাম আযমকে দেশে এনে, পাসপোর্ট ও নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেন। তাকেও রাজনীতির সুযোগ করে দেন। জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করার পর চখা রাজাকার বিএনপিতে যোগ দেন।

১৯৭৯ সালে ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে এমপি নির্বাচিয় হন এই কুখ্যাত রাজাকার। রুহুল আমিন চখা রাজাকার ঠাকুরগাঁও জেলার স্থায়ী অধিবাসী না হওয়ায় জিয়াউর রহমান ঠাকুরগাঁও-১ আসন (সদর) না দিয়ে ঠাকুরগাঁও শহরের বাইরে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে বিএনপির মনোয়ন দেন। জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির পতিত দশা দেখে সুযোগ বুঝে চখা রাজাকার জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯০ সালের এরশাদ সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত জাতীয় পাটির সংসদ সদস্য ছিলেন।

এই হলো মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পারিবারিক পরিচয়। এই পরিচয়ের ধারক ও বাহকদের দ্বারা দেশের কোন কল্যাণ সাধিত হতে পারে, সেটা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছে। তাই সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্ন, এই দেশের ভবিষ্যৎ কি রাজাকারের বংশধরদের হাতে ছেড়ে দেয়া যায়? বিচার এবং বিবেচনাবোধ সবারই আছে। তাই বিবেককে প্রশ্ন করুন। প্রিয় মাতৃভূমিকে শকুনদের হাত থেকে রক্ষা করুন।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!